Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

অস্তিত্ব সংকটে মৌলভীবাজারের কাওয়াদিঘী হাওর

Published May 16, 2026 · Updated July 21, 2026 · By John Taylor - banglabeacon.com

Foto : John Taylor - banglabeacon.com

অস্তিত্ব সংকটে মৌলভীবাজারের কাওয়াদিঘী হাওর

Banglabeacon.com – অস ত ত ব স কট ম - কাওয়াদিঘী হাওর ছিল মৌলভীবাজারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবন্ত জলাভূমি। বর্ষায় এই এলাকায় দিগন্তজোড়া জলের বিস্তার ও শীতে অতিথি পাখিদের আনাগোনার কলকাকলি ছিল একটি দৃশ্যমন অংশ। কিন্তু সময় কাটার সাথে সাথে দখল, দূষণ এবং অযত্নে ব্যবস্থাপনার কারণে এই জলাভূমির প্রাকৃতিক ভারসাম্য এখন বিপন্ন হয়ে আসছে। অস্তিত্ব সংকটে এই হাওর তার স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্য হারাচ্ছে এবং দেশীয় মাছের প্রজনন ও পাখি পরিবেশের সাথে সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে।

হাওরের আকৃতি ও বিস্তার

মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার মধ্যে বিস্তৃত কাওয়াদিঘী হাওর প্রায় ১২ হাজার হেক্টর আয়তন ধারণ করে। এই অঞ্চলটি দুটি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত হওয়ার ফলে এর পরিচালন কমপক্ষে দুইটি প্রশাসনের দ্বারা চালানো হচ্ছে। কিন্তু পরিকল্পনাহীন উন্নয়নের কারণে হাওরটির পরিবেশগত সামঞ্জস্য প্রায় নষ্ট হয়ে আসছে। অস্তিত্ব সংকটে এই জলাভূমি তার সম্প্রদায়গুলো বাঁচিয়ে রাখতে পারে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ পেয়েছে বিশেষজ্ঞদের কাছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাব

কাওয়াদিঘী হাওর মৌলভীবাজারের স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন ও জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে রয়েছে আগে থেকে কয়েক শত বছরের মতো বাস করা পরিবার। অস্তিত্ব সংকটে হাওরটি সৃষ্টি করেছে অপরিহার্য অর্থনৈতিক ক্ষতি। বিশেষজ্ঞদের মতে এই হাওর তার আদি প্রকৃতি হারিয়ে আর্থিক সম্পদও হারাবে।

“আগে কুয়াশা ভেদ করে ভোরে নৌকা চলার যে দৃশ্য দেখা যেত, এখন আর তেমনটি চোখে পড়ে না।” – রাজনগরের বাসিন্দা রহিম মিয়া বলেন।

পরিবেশকর্মীদের অভিমত অনুযায়ী, কাওয়াদিঘী হাওর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে অপরিসীম গুরুত্ব রেখেছে। এই জলাভূমি শুধু বন্যা নিয়ন্ত্রণ করে না, বরং স্থানীয় অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং সংকট প্রতি উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে পরিকল্পিত উদ্যোগ না গ্রহণ করে অস্তিত্ব সংকটে হাওরটি তার সম্প্রদায়গুলোকে ধ্বংসের মুখামুখি করে তুলছে।

অস্তিত্ব সংকটে কাওয়াদিঘী হাওরের সংরক্ষণ জন্য কার্যকর পরিকল্পনা আর পরিচালনা করা প্রয়োজন। হাওরের সম্প্রদায়গুলো এবং অপরিকল্পিত বাঁধ ব্যবস্থাপনার কারণে জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। নৌভ্রমণ, পাখি পর্যবেক্ষণ ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণের মাধ্যমে এটি একটি সম্ভাবনাময় ‘ইকো-ট্যুরিজম’ কেন্দ্র হতে পারে। কিন্তু কার্যকর উদ্যোগের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশঙ্কা হচ্ছে অস্তিত্ব সংকটে হাওরটি তার আদি বৈশিষ্ট্য চিরতরে হারিয়ে ফেলবে।