Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

হারিয়ে গেছে রবীঠাকুরের স্নিগ্ধ বর্ষা | সংবাদ

Published July 11, 2026 · Updated July 21, 2026 · By John Brown - banglabeacon.com

Foto : John Brown - banglabeacon.com

হারিয়ে গেছে রবীঠাকুরের স্নিগ্ধ বর্ষা | সংবাদ

Banglabeacon.com – হ র য় গ ছ রব ঠ - বর্ষা আর কবিতার সম্পর্ক কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কলমে আরও গভীর হয়ে উঠেছিল। আষাঢ়-শ্রাবণের মেঘের ঘনঘোর কবিকে আর সম্পূর্ণ অচিনা লোকে নিয়ে যেত, যেখানে ভেজা মাটির গন্ধ আর কদম-কেতকীর সুবাস প্রকৃতির ছায়ায় মানুষকে অপরিচিত অথচ পরিচিত মনে করিয়ে দিত। তবে আজ বর্ষা আর সেই কবির রূপ বদলে গেছে।

‘এমন দিনে তারে বলা যায় / এমন ঘনঘোর বরিষায়...’

আধুনিক নগর জীবনে বর্ষার স্বাভাবিক ছন্দ বর্জিত হয়েছে। শান্তিনিকেতনের প্রান্তর বা শিলাইদহের পদ্মার বুকে নৌকার ওপর বসে বর্ষার রূপ দেখা ছিল বাংলা সাহিত্যে এক নূতন রোমান্টিকতার সূত্র। কিন্তু যে নীল নবঘন দেখে কবিরা বিরহ আর প্রেমের কবিতা লিখতেন, তা আজ বেদনায় স্তব্ধ হয়ে থাকে।

বর্ষার চরিত্র আর মানুষের মধ্যে গুঞ্জন নেই। প্রকৃতি আর যান্ত্রিকতা কোনো বিপর্যয় হারিয়ে যাচ্ছে রবীন্দ্রনাথের কবিতার ছায়ায়। অপরিকল্পিত নগরায়ণ আর বহুতল ভবনের ভিড়ে আজ মেঘ আর বৃষ্টি সৃষ্টি করতে পারে না সেই প্রাকৃতিক কম্পনের বাদে যে নৈরাশ্য ছড়ানো হত।

বর্ষার মেঘ ছিল সেই স্নিগ্ধতার প্রতীক, যেখানে পদার্থবিজ্ঞানের শব্দতত্ত্ব অনুসারে টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ তৈরি করত এক ছন্দময় কম্পন। কিন্তু আজ সেই কম্পন নেই, অপরিচিত বাতাসে ফেলে দিয়েছে কবিকে বিশ্বাস করতে হয় না।

আষাঢ় জুড়ে রিনিঝিনি বৃষ্টি ছিল এক জীবন্ত সূচক। কদম ফুলের সোনালি-সাদা গোলকে যে প্রকৃতির আভা ছিল, তা আজ হারিয়ে গেছে। কার্তিক-অগ্রহায়ণে অকাল বন্যা আর ঘূর্ণিঝড়ের বিপর্যয় তৈরি হয়েছে সেই ছন্দময় কম্পনের বদলে। প্রকৃতি আর মেঘের নির্বিচার ধ্বংসযজ্ঞ বাদে মানুষের মস্তিষ্কে সেই সুর ফিরে আসে না।

বর্ষার আচরণ বদলে গেছে বিশ্বাসের কারণে বায়ুমণ্ডলের অস্বাভাবিক উষ্ণতা আর এল নিনোর বৈশ্বিক পরিবর্তন। এখন আষাঢ়ে আর দীর্ঘ বৃষ্টি হয় না, বরং সময়ে ক্লাউডবার্স্ট বা অতিবৃষ্টি ঘটে। নদী-নালা ভরাট আর গাছ কাটার কারণে সেই স্বাভাবিক আর্দ্রতা আর বর্ষার প্রকৃতি হারিয়ে গেছে।

শহরের মানুষের কাছে বর্ষা এখন আক্ষেপের মূল্যবান বিভীষিকা। কৃষ্ণের