Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

হাফিজ রশিদ খান-এর বাছাই ১০ কবিতা | সংবাদ

Published September 1, 2026 · Updated September 1, 2026 · By John Taylor - banglabeacon.com

Foto : John Taylor - banglabeacon.com

হাফিজ রশিদ খানের কবিতায় বিতাড়ণ, বনজগৎ ও আদিবাসী ভাষার সমন্বয়

Banglabeacon.com – হ ফ জ রশ দ খ ন - চট্টগ্রাম পাহাড়ের আদিবাসী সংস্কৃতি, কৃষিজীবনের নিত্যদিন আর বিশ্বরাজনীতির তীব্র সমালোচনা — এই তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রকে একই কলমে জড়িয়ে ধরেছেন কবি হাফিজ রশিদ খান। তাঁর এই বাছাই কবিতা-সংকলন শুধু শব্দ-গোছের খেলা নয়; এটি একটি জীবন-দর্শন, যেখানে মাটির গন্ধের সঙ্গে কনক্রিটের ঠান্ডা ভাব, বনজুঁইয়ের শবের সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে ক্ষমতার লড়াই — সবকিছু একই শ্বাসে মিশে যায়।

উচ্ছেদ ও নগরায়নের ছায়া

সংকলনের প্রথম কবিতায় কবি আঁকছেন এক ফুটো-চালে ঘর, যেখানে একবিন্দু নীল আকাশের দেখা পেলেই বসতভিটির সব স্বপ্ন ভেঙে যায়। বুলডোজারের প্রেতনৃত্য, কনক্রিটের বাঁধের পাহারা, পাশের প্রতিবেশীদের বিচ্ছিন্নতা — এই চিত্রগুলো বাংলাদেশের গ্রামীণ-নগরীয় রূপান্তরের এক তীব্র সাক্ষ্য।

মাটির মমতাঘেরা স্বপ্নগুলো উচ্ছেদের উলঙ্গ পরোয়ানায় পরঘরী হয়ে যায

এই লাইনে কবি শুধু ব্যক্তিগত হতাশা নয়, বরং পুরো একটি জীবন-ধাঁচের ধ্বংসের কথা বলছেন। সিমেন্টের বস্তার কিনারে ঠেঁটের ওপর বসে থাকা লালঘেরা বনমোরগ — এটি এক প্রজাতির বিলুপ্তির প্রতীকও বটে, যেমনটি কনক্রিটের জগতে গ্রামীণ প্রকৃতির বিলুপ্তি।

বনজুঁইয়ের শান্তি ও মধুকরের রাজকীয়তা

দ্বিতীয় কবিতায় দৃশ্য বদলে যায় সম্পূর্ণ। বনজুঁইগুচ্ছ, চাপালিশ, অর্জুন — এই গাছপালার চারপাশে গড়ে ওঠে এক নিঃশব্দ, নিরালা জগৎ। কবি এখানে বনের শববাহী পাখিদের সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে ফেলেন।

এই বিজন ছায়ায় শান্তি পাবি, এইখানে আয় তুই

মধুকরের কালো রাজকীয় রঙে বনজুঁইগুচ্ছ গোস্সা হয়ে ঝরে পড়ে নিচে — এই ছবিতে প্রকৃতির চক্রের নিরবীশ্বরীয় সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। বনপিঁপীর দলের গভীর মাতম, মাটির হলুদ আঁকাবাঁকা পথ ধরে ভেতরের ঘেরে যাওয়া — সবকিছু এক ধরনের আধ্যাত্মিক বিচ্ছিন্নতা, যা নগর জীবনের কোনো কর্তব্য-তালিকায় জায়গা পায় না।

জুম্মবুঁইয়ের রান্নাঘর ও চাকমা ভাষার গৃহস্থলি

তৃতীয় কবিতায় কবি প্রবেশ করেন এক চাকমা পরিবারের নিত্যদিনে। জুম্মবুঁই — চাকমা ভাষায় নানি — ভাতের দানা, লতার ভর্তা, জুম-মরিচের ঝাঁজালো ভর্তা সিদ্ধ করছেন। এখানে ভাষা শুধু শোভা নয়; এটি জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।

এই যে ভাতের কয়েকটা দানা আঙুলের ফাঁক গলে পড়ে গেল মাদুরে— ওগুলো আবার কুড়িয়ে ধুয়ে নাও, সোনাধন ঘরের দাওয়ায়

এই লাইনে এক নানির আদর, এক শিশুর ভুল, আর গৃহের গরম-গরম বাতাস — সবকিছু একসাথে। চাকমা ভাষার শব্দগুলো (দুদ্দুরাদন, বেভেই) এখানে কোনো পাঠ্য-শব্দ নয়; এগুলো রান্নাঘরের বাতাসের অংশ।

ব্যর্থতার বদনাম ও নগর-বিচ্ছিন্নতা

চতুর্থ কবিতায় কবি নিজেকে এক ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেন। গরিলার উলঙ্গ ধরন, গ্রিল্ড চিকেনের টসটস, রেস্টুরেন্টের গুঞ্জন — এই নগর-চিত্রের মধ্যে কবি নিজেকে এক পলায়নপর হিসেবে দেখেন।

আমিই তো সেই ব্যর্থতার বদনাম

আদিবাসী সওদাগরের ঠেঁটে আমাকপাতার ঘন নীলধেঁয়া — এই ছবিতে নদীর ধারে নিত্য আহার-বিহারের এক শান্ত মুখ ফুটে ওঠে, যা নগরের হত্যাকাণ্ড-পূর্ণ দিনের পর একমাত্র অবশিষ্ট মানবিক সংযোগ।

দুনিয়াদারির মর্তব ও বিশ্বমঞ্চের ঠান্ডা হিসাব

পঞ্চম কবিতায় কবি বিশ্বরাজনীতির দিকে মুখ ফেরান। ধর্মের অবমাননা, গণহত্যা, অভিবাসনের মওকা — এই সবকিছুর পেছনে কালনাগিনীদের মুকুট-দুলানো নৃত্য।

দুনিয়াদারির মর্তবই দেখছি সম্পূর্ণ ভিন্ন বা আলাদা

এখানে কবি কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার প্রতিবেদন দিচ্ছেন না; তিনি বলছেন এক ধরনের কাঠামোগত সহিংসতার কথা, যা ধর্ম, জাতি, ক্ষমতার নামে বারবার পুনরাবৃত্তি হয়।

বেতবুনিয়া ও কৃষিজীবনের আতিথেয়তা

শেষ কবিতায় কবি নিজেকে চাষি কিরণচন্দ্রের শিষ্য হিসেবে উপস্থাপন করেন। বেতবুনিয়া — গ্রামীণ আতিথেয়তার এক রূপক — এখানে শাকসবজি, মাছের চাষ, গেরস্তের সফল দৃষ্টান্ত — সবকিছু একই ভাষায় বলা হয়।

আমি চাষি কিরণচন্দ্রের শিষ্য, তার মতো গাছের পেয়ারা পেয়ে এনে আতিথেয়তা বাঁধবো

এই কবিতায় কবি নগর-বিচ্ছিন্নতার বিপরীতে এক গ্রামীণ-সম্প্রদায়িক আত্মপরিচয় তুলে ধরছেন, যেখানে শাদা মনের পাগলদের জন্য এক আলাদা জায়গা আছে।

ভাষা-শব্দ ও আদিবাসী সংস্কৃতির প্রেক্ষাপট

এই সংকলনে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষার শব্দগুলো প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়েছে। এগুলো কোনো পাঠ্য-শব্দ নয়; এগুলো চট্টগ্রাম পাহাড়ের তিনটি প্রধান আদিবাসী সম্প্রদায়ের দৈনন্দিন ভাষার অংশ।

ত্রিপুরা ভাষায় 'গাইরিং' মানে জুমভূমির অস্থায়ী ঘর। মারমা ভাষায় 'বোমাং থং' হলো বান্দরবান অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বোমাং সার্কেল। চাকমা ভাষায় 'ঘিলাফুল' শিশুদের প্রাকৃতিক খেলার সামগ্রী, 'ইজোর' বাঁশের মাচাংঘরের সামনের খোলা অংশ, 'বরপরঙ' কাপ্তাই বাঁধের ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষের স্থানচ্যুতি, 'দুদ্দুরাদন' দ

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is হ ফ জ রশ দ খ ন?

হ ফ জ রশ দ খ ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does হ ফ জ রশ দ খ ন matter?

হ ফ জ রশ দ খ ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.