Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

স্পিকারের পর কে হবেন রাষ্ট্রপতি? আলোচনায় ৩ নেতা

Published July 24, 2026 · Updated July 24, 2026 · By Mark Hernandez - banglabeacon.com

Foto : Mark Hernandez - banglabeacon.com

রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য: নতুন নেতার জন্য আলোচনা তীব্র

Banglabeacon.com – স প ক র র পর ক - শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে 'ব্যক্তিগত কারণ' এবং 'গুরুতর অসুস্থতা'র কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদের স্পিকারের নিকট পদত্যাগপত্র জমা দেন। তিনি পদত্যাগপত্রে জানান যে, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতার পাশাপাশি অটোনমিক নিউরোপ্যাথি রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি আর দায়িত্ব পালনে সক্ষম নন।

সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি শুক্রবার বিকেলে সংসদ সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়সীমা

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। এই অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করা দ্রুতই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্পিকারের পর নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন—এ প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রধান আলোচনা।

বিএনপির তিন নেতার নাম আলোচনায়

এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির সিনিয়র তিন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আবদুল মঈন খানের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

দলীয় সূত্রগুলোর মতে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে, প্রায় ৬০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে দলের বাইরের গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যক্তিকে এ পদে মনোনয়ন দেওয়ার। তবে দলের একাধিক নেতা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে দলীয় নেতৃত্বের অভিজ্ঞ কাউকেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত।

এছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা এক সিনিয়র সচিবের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা, সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গে সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা—এসব বিষয় বিবেচনা করেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে।

সূত্র জানায়, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কারণে রাষ্ট্রপতির শূন্য পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে।