সাদুল্লাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৯ চিকিৎসকের পদই শূন্য, সেবা বঞ্চিত রোগীরা
গাইবান্ধার গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসকের অভাবে রোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষা, জরুরি সেবা বিপর্যস্ত
Banglabeacon.com – স দ ল ল প র স - গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলায় প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে হাজির হন, কিন্তু তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ঘণ্টার পর ঘণ্টার অপেক্ষা, শয্যার অভাবে মেঝেতে শুয়ে থাকা, আর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে জেলা সদর বা রংপুরে পাঠানোর নির্দেশ। ৫০ শয্যার এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবলের ঘাটতি এতটাইয়া তীব্র যে, হাসপাতালের মৌলিক কার্যক্রম প্রায় বিপর্যস্ত অবস্থায় চলে যাচ্ছে।
চিকিৎসকের পদে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের শূন্যতা
হাসপাতালের অনুমোদিত ৪৫টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ২৯টি দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। অর্থাৎ প্রতি তিনটি পদের মধ্যে দুইটির মতোই কোনো চিকিৎসক বসেন না। এই সংখ্যা শুধু পরিসংখ্যান নয় — এর পিছনে রয়েছে প্রতিদিন হাসপাতালে ঢুকতে আসা রোগীদের ভোগান্তির গল্প। বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ জন রোগী সেবা নিতে আসেন, কিন্তু তাদের চিকিৎসা করতে পারেন মাত্র হাতে-কলমে কয়েকজন চিকিৎসক। ফলে দীর্ঘ সারি, বিলম্বিত সেবা, এবং অনেক ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ চিকিৎসা — এই তিনটিই এখন এই হাসপাতালের দৈনন্দিন দৃশ্য।
শয্যার অভাবে মেঝেতে রোগী
৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিনিয়ত শয্যার তুলনায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকেন। অর্থাৎ প্রায় ১০০ জন রোগী একই সময়ে হাসপাতালে আছেন, যখন শয্যা আছে মাত্র ৫০টি। শয্যা না পেয়ে অসংখ্য রোগীকে মেঝেতে শুয়ে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়। গ্রামীণ অঞ্চলের এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি আশেপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হওয়ায়, এখানে সেবা না পেলে রোগীদের বিকল্প প্রায়ই থাকে না।
বিশেষজ্ঞের অনুপস্থিতিতে জরুরি অস্ত্রোপচার বন্ধ
বিশেষায়িত চিকিৎসকের আটটি পদের মধ্যে সাতটিই ফাঁকা। গাইনি, সার্জারি, অ্যানেস্থেশিয়া, শিশু, মেডিসিন ও কার্ডিওলজি — এই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে চিকিৎসক না থাকায় জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। প্রসূতি, জরুরি ট্রমা বা হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদেরকে দ্রুত জেলা সদর বা রংপুরে পাঠাতে হয়। দূরত্ব, যোগাযোগের অসুবিধা এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করলে এই রেফারেল প্রক্রিয়া দরিদ্র পরিবারের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিবার এমন পরিস্থিতিতে সময়ের অভাবে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে থাকে।
চিকিৎসকের বাইরেও ব্যাপক জনবল ঘাটতি
মাত্র চিকিৎসকের অভাবই নয় — নার্স, টেকনিশিয়ান ও অফিস সহকারীসহ হাসপাতালের মোট ২১৩টি পদের মধ্যে ৮৬টি বর্তমানে খালি। অর্থাৎ প্রতি পাঁচটি কর্মী পদের মধ্যে প্রায় একটিকেই কেউ পূরণ করেননি। এই ঘাটতি চিকিৎসকদের ওপর আরও চাপ বাড়ায়, কারণ একজন চিকিৎসককে নার্সিং সাপোর্ট ছাড়াই একা কাজ করতে হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীদের কণ্ঠে
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দীপান্বিতা দাস জনবলসংকটের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেন:
চিকিৎসক-সংকটে কাজের চাপ মাত্রাতিরিক্ত। ইনডোরে রোগী দেখার পাশাপাশি আউটডোরেও বসতে হচ্ছে। গড়ে প্রতিদিন একাই প্রায় ১৫০ জন রোগী দেখতে হয়।
এই চাপের প্রত্যক্ষ প্রভাব অনুভব করেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা। সালেহা বেগম নামে এক রোগী জানান:
সরকারি হাসপাতালে কম খরচে চিকিৎসার আশায় এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না পেয়ে বাধ্য হয় অনেক সময় ক্লিনিকে যেতে হয়।
এই বক্তব্যে প্রতিফলিত হয় গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের দ্বৈত দ্বন্দ্ব — সরকারি হাসপাতালে সেবা পাওয়া যায় না, আর বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসার খরচ তাদের আয়ের বাইরে।
কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া ও সামনের পথ
সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিলকিস চৌধুরী জানান, জনবলসংকট ও শূন্য পদের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তার বক্তব্য:
পদাধিকার করা হলে সেবার মান দ্রুত উন্নত হবে।
তবে প্রশ্ন হলো, এই লিখিত আবেদন কতদিন ধরে ঊর্ধ্বতন স্তরে পড়ে আছে। বাংলাদেশে গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকের নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায়ই দীর্ঘ বিলম্বিত হয়। পদ খালি থাকলেও নিয়োগের জন্য আবেদন না আসা, বা আসলেও স্ক্রিনিং ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে মাসের পর মাস পদ অখালি থাকে। সাদুল্লাপুরের এই পরিস্থিতি সেই বড় ধরনের কাঠামোগত সমস্যার একটি স্থানীয় প্রতিফলন।
গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় জনবল ঘাটতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো গ্রামীণ জনগণের প্রথম-সারি চিকিৎসাসেবার মূল ভিত্তি। শহরে চিকিৎসকের ঘনত্ব তুলনামূলক বেশি হলেও গ্রামীণ অঞ্চলে প্রতি হাজার জনগণে চিকিৎসকের সংখ্যা অনেক কম। সাদুল্লাপুরের এই সংকট একাধিক উপজেলায় দেখা দেয়, যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে জরুরি সেবা প্রায় বন্ধ থাকে। ফলে গ্রামীণ রোগীরা ছোট ছোট সমস্যায়ও দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করে জেলা বা বিভাগীয় হাসপাতালে যেতে বাধ্য হন, যা সময়, খরচ ও শারীরিক ক্লান্তির দিক থেকে তাদের জন্য অসহনীয়। জনবল ঘাটতি পূরণ না হলে এই চক্র আরও গভীর হয়ে যাবে, এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় জনগণের আস্থা আরও কমবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is স দ ল ল প র স?স দ ল ল প র স is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does স দ ল ল প র স matter?স দ ল ল প র স matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.