Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

সংবিধানে ফিরছে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার, স্বীকৃতি পাবে জুলাই অভ্যুত্থান

Published October 7, 2026 · Updated October 7, 2026 · By Susan Brown - banglabeacon.com

Foto : Susan Brown - banglabeacon.com

সংবিধান সংশোধনে গণভোট, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও জুলাই অভ্যুত্থানের স্বীকৃতির উদ্যোগ

Banglabeacon.com – স ব ধ ন ফ রছ গণভ - সংবিধানের মৌলিক বিধানে পরিবর্তন আনার আগে জনগণের সরাসরি মতামত নেওয়ার ব্যবস্থা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনের অংশ হিসেবে সাংবিধানিক গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে সংবিধানে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি।

মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংসদ মিডিয়া সেন্টারে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদে সংশোধন বা নতুন সংযোজন কার্যকর করার আগে সাংবিধানিক গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

মৌলিক সংশোধনে জনগণের অনুমোদন

সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশোধনের মাধ্যমে যেসব মৌলিক সাংবিধানিক অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আসবে, সেগুলোর বাস্তবায়নের আগে জনগণের অনুমোদন নেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্য, এটি হবে সাংবিধানিক গণভোট; অতীতে অনুষ্ঠিত গণভোটগুলোর সঙ্গে এর প্রকৃতিগত পার্থক্য রয়েছে, কারণ সেগুলো ছিল আইনি গণভোটের ধরনে।

তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান বাদ দেওয়ার বিষয়টি হাইকোর্ট ইতোমধ্যে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘ডকট্রিন অব ইক্লিপস’ বা গ্রহণের তত্ত্বের কথা তুলে ধরেন।

“আগে যা ছিল, সেটিই সঠিক। আইনের ভাষায় একে বলা হয় ‘ডকট্রিন অব ইক্লিপস’ বা গ্রহণের তত্ত্ব। গ্রহণ সরে গেলে যেমন চাঁদ আবার দেখা যায়, তেমনি অসাংবিধানিক ঘোষণা হওয়ায় গণভোটের বিধানটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরে আসবে।”

এই ব্যাখ্যার মূল তাৎপর্য হলো, সাংবিধানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শুধু সংসদীয় অনুমোদনের মধ্যেই প্রক্রিয়াটি সীমিত না রেখে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রশ্নটি সামনে এসেছে। বিশেষত রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবর্তনে জনসমর্থনের বাধ্যবাধকতা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় কঠোর সুরক্ষার ভাবনা

কমিটি সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়েও কাজ করছে। তবে শুধু পুনর্বহাল করাই নয়, ভবিষ্যতে যেন কোনো সরকার সহজে এই ব্যবস্থা বাতিল বা পরিবর্তন করতে না পারে, সেই লক্ষ্যেও শক্ত বিধান যুক্ত করার আলোচনা চলছে।

“তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হলেও ভবিষ্যতে জনগণের কাছে যেতে হবে; এমন কঠোর বিধান রাখা হবে।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন এবং এর প্রশাসনিক কাঠামো কীভাবে গঠিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিএনপি এ বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছে যে, বিতর্ক এড়াতে রাষ্ট্রপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার বিকল্পটি না রাখাই ভালো। বিষয়টি সংসদে আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত করার কথা বলা হয়েছে।

এখানে কাঠামোগত সিদ্ধান্তের গুরুত্ব রয়েছে, কারণ প্রধানের পদ, ক্ষমতার সীমা এবং দায়িত্বের ধরন নির্ধারণ করলেই বোঝা যাবে প্রস্তাবিত ব্যবস্থা নির্বাচনী বা রূপান্তরকালীন সময়ে কীভাবে পরিচালিত হবে। কমিটি এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত রূপরেখা প্রকাশ করেনি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তও বৈঠকের অন্যতম আলোচিত বিষয়। কেউ কেউ এই স্বীকৃতি সংবিধানের প্রস্তাবনায় যুক্ত করার পক্ষে মত দিলেও বিশেষ কমিটি মনে করছে, সংবিধানের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করাই বেশি যুক্তিসংগত হবে।

“জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি সংবিধানে থাকবে। কেউ কেউ এটি প্রস্তাবনায় রাখার কথা বললেও কমিটি মনে করছে এটি সংবিধানের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা অধিকতর যুক্তিযুক্ত।”

বৈঠকে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ৬৫ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে শহীদ পরিবার ও আহতসহ ৬৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। আমন্ত্রণ না পেলেও আরও ১৪ জন আলোচনায় যুক্ত হন।

অংশগ্রহণকারীরা অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা এবং ঘটনায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। বক্তাদের বড় অংশ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক সুরক্ষা ও দায়মুক্তির প্রশ্নও উত্থাপন করেন।

এ ছাড়া আহতদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, জুলাই যোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানো এবং যাতে তাঁরা আইনি হয়রানির মুখে না পড়েন, সে বিষয়ে কার্যকর সুরক্ষার দাবিও আলোচনায় আসে। বৈঠকে আহতদের চিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিচার, সনদ ও পরবর্তী পরামর্শ

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার শেষ করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’সহ স্বাক্ষরিত হয়েছে, সরকার সেটি সেই কাঠামোতেই বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সংবিধান সংশোধনের খসড়া ও চূড়ান্ত প্রস্তাব তৈরির আগে কমিটি আরও বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেবে। পরবর্তী পর্যায়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সাবেক বিচারপতি এবং শিক্ষাবিদদের সঙ্গে আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এভাবে আইনগত, রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি সমন্বয় করে সংসদে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।

বিরোধী দলের লং মার্চ বা আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। তবে সংবিধান সংশোধনের মূল প্রক্রিয়া সংসদেই সম্পন্ন হবে। জনমত গ্রহণ, বিশেষজ্ঞ পরামর্শ এবং সংসদীয় আলোচনার সমন্বয়েই প্রস্তাবিত বিল পাসের পথে এগোনোর কথা জানিয়েছে কমিটি।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is স ব ধ ন ফ রছ গণভ?

স ব ধ ন ফ রছ গণভ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does স ব ধ ন ফ রছ গণভ matter?

স ব ধ ন ফ রছ গণভ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.