লৌহজংয়ের সাতঘড়িয়ায় খাল ও ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগ
Banglabeacon.com – ল হজ য় সরক র খ ল – মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের সাতঘড়িয়া এলাকায় সরকারি খাল ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ভোররাত থেকে ট্রলি ও মাহিন্দ্রা গাড়িতে মাটি সরিয়ে বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় খালের পাড় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, কৃষিজমির ক্ষতি এবং নতুন সড়ক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কার কথা উঠেছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাতঘড়িয়া মৃধাবাড়ির বাসিন্দা শিপু মৃধা। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি খালের মাটি নেওয়ার পাশাপাশি আশপাশের ব্যক্তিগত জমি থেকেও জোর করে মাটি কাটার অভিযোগ রয়েছে। জমির মালিকদের একাংশ আরও অভিযোগ করেছেন, বাধা দিতে গেলে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে তাঁদের। মাদক সেবনসংক্রান্ত অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
তিন মাসের বেশি সময় ধরে মাটি সরানোর অভিযোগ
এলাকাবাসীর বক্তব্য, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত মাটি কাটা ও পরিবহনের ঘটনা ঘটছে। রাতের শেষ ভাগ কিংবা খুব ভোরে ভারী যানবাহন চলাচল করায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, এভাবে মাটি অপসারণ চলতে থাকলে সরকারি খালের স্বাভাবিক কাঠামো দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বর্ষা বা অতিবৃষ্টির সময় খালের পাড় ভেঙে পড়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন।
খাল একটি এলাকার পানি চলাচল, জমির সেচ এবং অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই খালের পাড় বা তলদেশে অনিয়ন্ত্রিত পরিবর্তন হলে আশপাশের বসতি ও আবাদি জমির ওপর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মাটি বহনের জন্য ব্যবহৃত ট্রলি ও মাহিন্দ্রার ভারে সাতঘড়িয়ার নবনির্মিত সড়কটিও ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নতুন সড়ক ভেঙে গেলে দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মেরামতে অতিরিক্ত অর্থ ও সময় লাগতে পারে। এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, সড়কটি রক্ষা করা এবং যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়া দরকার।
জমির মালিকের অভিযোগ
ভুক্তভোগী লাইজু আক্তার জানিয়েছেন, তিনি ২০২২ সালে সাতঘড়িয়া মৌজায় ১১ শতাংশ ৩০ পয়েন্ট জমি কেনেন। জমিটি কেনার পর সেখানে ফলদ ও কাঠের গাছ লাগিয়েছিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে তাঁর জমির পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী সরকারি ‘হলদিয়া-গোয়ালীমান্দ্রা খাল’ থেকেও মাটি নেওয়া হচ্ছে।
ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে গাছপালা লাগানোর পর মাটি কাটার ঘটনা ঘটলে শুধু জমির আকার বা উচ্চতাই বদলায় না; গাছের শিকড়, ভবিষ্যৎ চাষাবাদ এবং জমির ব্যবহারযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে জমির সীমানা, মালিকানা এবং কোথা থেকে মাটি সরানো হয়েছে—এসব বিষয় সরেজমিনে যাচাই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
লাইжу আক্তারের স্বামী কাওছার বলেন, মাটি কাটার কাজে বাধা দেওয়ার পর তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অভিযোগে শিপু মৃধার মাদকাসক্তির প্রসঙ্গও এসেছে। তবে এই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণের জন্য তদন্ত ও প্রমাণ যাচাই প্রয়োজন।
সরেজমিনে দেখা গেছে মাটি কাটার চিহ্ন
সাতঘড়িয়া মুরগির খামারসংলগ্ন এলাকায় মাটি কাটার চিহ্ন এবং মাটি বহনকারী যানবাহনের উপস্থিতি দেখা গেছে। এলাকাটিতে চলমান কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। সরকারি খাল, ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও জনসড়ক—তিনটি ভিন্ন স্বার্থ জড়িত থাকায় অভিযোগটির পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান জরুরি হয়ে উঠেছে।
একটি খাল থেকে মাটি অপসারণের অভিযোগ উঠলে প্রথমে খালটির সীমানা, দখল অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট জমির রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন। একইভাবে ব্যক্তিগত জমির ক্ষেত্রে মালিকের সম্মতি ছিল কি না এবং কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। এসব বিষয় নির্ধারণ হলে অভিযোগের প্রকৃতি ও দায়ের প্রশ্নটি পরিষ্কার হতে পারে।
অভিযোগ অস্বীকার শিপু মৃধার
শিপু মৃধা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, সরকারি খাল থেকে কোনো মাটি কাটা হচ্ছে না; তিনি নিজের জমির মাটিই বিক্রি করছেন। মাদক সেবনসহ অন্যান্য অভিযোগকেও তিনি ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন।
“আমি কোনো সরকারি খালের মাটি কাটছি না, নিজের জমির মাটি বিক্রি করছি। মাদক সেবনের অভিযোগসহ আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।”
অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ণয়ে প্রশাসনিক অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়রা। খালের জায়গা, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি এবং মাটি পরিবহনের পথ—সবকিছু একসঙ্গে পর্যবেক্ষণ করলে ঘটনাটি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে বলে তাঁদের প্রত্যাশা।
প্রশাসনের বক্তব্য
লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু জানিয়েছেন, সরকারি খাল থেকে মাটি কাটার বিষয়ে তাঁর দপ্তরে এখনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির মাটি জোর করে কাটার অভিযোগের সত্যতা মিললে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
“সরকারি খালের মাটি কাটার বিষয়ে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির মাটি জোর করে কাটার সত্যতা পাওয়া গেলেও আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ধরনের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ, জমির দলিল বা রেকর্ড, ছবি-ভিডিও এবং প্রত্যক্ষ তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিতে পারলে তদন্তে সহায়তা হতে পারে। একই সঙ্গে কোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা না বাড়িয়ে আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সমাধানের চেষ্টা করা প্রয়োজন। সাতঘড়িয়ার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, দ্রুত যাচাইয়ের মাধ্যমে খাল, কৃষিজমি, গাছপালা এবং নতুন সড়ক রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ল হজ য় সরক র খ ল?
ল হজ য় সরক র খ ল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ল হজ য় সরক র খ ল matter?
ল হজ য় সরক র খ ল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
