রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫ সন্ত্রাসী গ্রুপ, আধিপত্য বিস্তারে ২৫৬ খুন
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সক্রিয় ১৫ সন্ত্রাসী গ্রুপ
Banglabeacon.com – র হ ঙ গ ক য ম - কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ১৫টি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় থাকার তথ্য জানিয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) একাধিক সূত্র। এসব গ্রুপের বিরুদ্ধে সমুদ্রে ডাকাতি, মাদকের রুট নিয়ন্ত্রণ, অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ক্যাম্প এলাকায় ২৫৬টি হত্যাকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে।
এপিবিএন সূত্র বলছে, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের মধ্যে বিভিন্ন গ্রুপ ও উপগ্রুপ গড়ে উঠেছে। কিছু দল সশস্ত্র, আবার কিছু দল নিরস্ত্র অবস্থায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে।
মাদকের রুট ও আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ
সশস্ত্র গ্রুপগুলোর সংঘাতের প্রধান কারণ হিসেবে সমুদ্রে ডাকাতি এবং মাদকের রুট নিয়ন্ত্রণের কথা উঠে এসেছে। অন্যদিকে নিরস্ত্র গ্রুপগুলোর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ, পূর্ব শত্রুতা, অনলাইন জুয়া, শিশু পাচার ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ তৈরি হচ্ছে। ক্যাম্পে মাদক ব্যবসা, নকল ওষুধ বিক্রি এবং নকল সামগ্রী সরবরাহের তৎপরতার অভিযোগও রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সশস্ত্র ও নিরস্ত্র উভয় ধরনের গ্রুপের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষ হয়েছে। আধিপত্য বিস্তার, মাদকের রুট নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর আস্থা অর্জনের চেষ্টাও এসব সংঘর্ষের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৭৫টি ঘটনার মধ্যে ৯৪ জন ভিকটিম অপরাধের শিকার হয়েছেন এবং ৭২টি মামলায় ১৯৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার ও কারাদণ্ড
বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর দুপুর আড়াইটা থেকে রাত পর্যন্ত টেকনাফের একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে এপিবিএন, জেলা পুলিশ, জেলা প্রশাসন, এসআরবি, বিজিবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ব্যাটালিয়ন আনসার ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা অংশ নেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে এপিবিএনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এপিবিএন-১৬ সূত্র জানায়, অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে। কুখ্যাত ‘সাদ্দাম বাহিনীর’ এক সদস্যসহ আরও তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত এক মাসে প্রায় অর্ধশত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
মোবাইল কোর্টে অনলাইন জুয়া, মাদক সেবন, বাবা-মাকে মারধর এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে চার মাস ও একজনকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এপিবিএন জানিয়েছে, ক্যাম্পে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
হত্যাকাণ্ডের তথ্য ও নিরাপত্তা জোরদার
এপিবিএনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় প্রায় ২৫৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ৮ এপিবিএন এলাকায় ১৪টি, ১৪ এপিবিএন এলাকায় ১০৭টি এবং ১৬ এপিবিএন এলাকায় ৫৫টি হত্যাকাণ্ডের তথ্য রয়েছে। ক্যাম্পগুলোতে প্রায় ১৮ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন।
“রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অপরাধ দমনে এপিবিএন এখন যৌথ টহল, চেকপোস্টসহ বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে। একই সঙ্গে সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণে এপিবিএনের নিজস্ব ইউনিট তৎপর রয়েছে।” — এপিবিএন সদর দপ্তরের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান
তিনি বলেন, এপিবিএনের ১ হাজার ৯০০-এর বেশি সদস্য ক্যাম্প এলাকায় কাজ করছেন। অপরাধ দমনে আরও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে কার্যক্রম আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।
সাধারণ প্রশ্ন
ক্যাম্পে কতটি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয়?
এপিবিএন সূত্র অনুযায়ী, কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে ১৫টি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে।
অভিযানে কোন ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
অভিযানে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধে জড়িতদের আটক করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টে জুয়া, মাদক সেবন, পারিবারিক সহিংসতা এবং পুলিশের কাজে বাধার অভিযোগেও সাজা দেওয়া হয়েছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is র হ ঙ গ ক য ম?র হ ঙ গ ক য ম is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does র হ ঙ গ ক য ম matter?র হ ঙ গ ক য ম matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.