রিক্রুটিং লাইসেন্সধারীদের ‘থ্রেট’ দিলেন প্রতিমন্ত্রী
Banglabeacon.com – র ক র ট ল ইস ন - ```html
রিক্রুটিং লাইসেন্সধারীদের জন্য কঠোর সময় আসছে
ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থাপনা মডিউল চালু হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি অবৈধভাবে প্রতারণার চক্র হিসেবে কাজ করছেন এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করে বলেন যে তাদের জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লাইসেন্স বাতিলের হুমকি
প্রায় তিন হাজার রিক্রুটিং লাইসেন্সধারীর মধ্যে অধিকাংশই অনিয়মে জড়িত বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান যে সঠিকভাবে নিয়ম মেনে চললে চার-পাঁচশোর বেশি লাইসেন্স টিকে থাকবে না। ভুয়া ও অনিয়মিত রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলসহ অভিবাসন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে।
প্রত্যেককে ডিবি পুলিশ বিভিন্ন এজেন্সি নজরদারি করছে। রেহাই পাওয়ার সুযোগ নাই। সুতরাং আপনারা যদি এখনও এগুলো বন্ধ না করেন তাহলে আপনাদের কপালে শনির দশা আছে।
মালয়েশিয়া প্রক্রিয়া ও বিজ্ঞাপন নিয়ম
মালয়েশিয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে যে কী প্রক্রিয়ায় এখানে লোক পাঠানো হবে। বিগত দিনের বিতর্কিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে আমরা একটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কম খরচে বাংলাদেশিদের যাতায়াতের একটা পথ তৈরি করতে চাই। তার আগে দেখছি যে টাকা নেওয়ার জন্য লাইন দেওয়া, সিরিয়াল করা, এগুলো বিজ্ঞাপন চলছে। এটা তো স্পষ্টত অভিবাসী আইনের বিরুদ্ধে। কারণ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া বিজ্ঞাপন দেওয়ার সুযোগ নেই।
প্রবাসী কার্ড ও ডিজিটাল মডিউল
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খান বলেন যে বর্তমান সরকারের কিছু ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম রয়েছে, এর মধ্যে একটি হচ্ছে প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী কার্ড। আজকে যেই অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যাপারে এখানে একত্রিত হচ্ছি তার কিছু সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে প্রবাসী কার্ডে।
সিস্টেক ডিজিটাল লিমিটেডের কারিগরি সহায়তায় তৈরি এই মডিউলটি বিএমইটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশের সব জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনবে। প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ঘরে বসেই অনলাইনে অভিযোগ জমা দেওয়া, নথি আপলোড এবং অভিযোগের হালনাগাদ অগ্রগতি ট্র্যাক করতে পারবেন। বিএমইটি কর্মকর্তারা ডিজিটাল পদ্ধতিতে তদন্ত, সালিস, নিষ্পত্তি ও প্রতিবেদন তৈরির পুরো প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে সম্পাদন করতে পারবেন।
অন্যান্য ঘোষণা
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে কোনো ধরনের ঘুষ বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট জানান। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন যে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে মন্ত্রণালয়, বিএমইটি, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে ম্যাজিস্ট্রেট পদায়ন করা হবে যারা অভিযোগ বা সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান করবেন।
অনুষ্ঠানে বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ, রামরু এর নির্বাহী পরিচালক তাসনীম সিদ্দিকীসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।