Bangladesh

রামপালে অর্থায়ন: যুক্তরাজ্যের ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা | সংবাদ

Techtaranga.com_1200x630_17883595584361_social

সুন্দরবনের দরজায় কয়লা-বিদ্যুৎ: বার্কলেস ব্যাংকে লন্ডনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

Banglabeacon.com – র মপ ল অর থ য়ন – বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনের ঠিক পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আর্থিক প্রবাহের পেছনে কে আছে — এই প্রশ্ন নিয়ে যুক্তরাজ্যের রাজধানীতে একটি নতুন আইনি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের তিনজন সংক্ষুব্ধ নাগরিক লন্ডনের অফিস ফর রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্টে ব্রিটিশ বহুজাতিক ব্যাংক বার্কলেসের বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগের মূল দাবি: রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে ব্যাংকের আর্থিক সম্পৃক্ততার আগে পর্যাপ্ত পরিবেশগত ও মানবাধিকার ঝুঁকি যাচাই করা হয়নি।

ব্যাংকের ভূমিকা: আন্ডাররাইটিং থেকে ঋণ

অভিযোগে বলা হয়েছে, বার্কলেস ভারতের রাষ্ট্রমালিকানাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি লিমিটেডের ঋণের আন্ডাররাইটার হিসেবে কাজ করেছে। এনটিপিসি রামপাল প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে একটি অংশীদার। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বার্কলেস এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার একটি বন্ড ইস্যুতে আন্ডাররাইটার হিসেবে যুক্ত ছিল, যার ফান্ড পরবর্তীতে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অভিযোগকারীদের মতে, এই ধরনের বড় আয়ের আর্থিক সেবা প্রদানের আগে ব্যাংকগুলোর কঠোর পরিবেশগত ও মানবাধিকার ঝুঁকি মূল্যায়ন করা আবশ্যক — আর বার্কলেস তা করেনি।

পশুর নদীর পানিতে বিষ: বৈজ্ঞানিক প্রমাণ

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পশুর নদীর তীরে অবস্থিত। এই নদী সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগকারীদের দাবি, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আশপাশের শিল্প কার্যক্রম থেকে নির্গত ভারী ধাতুর দূষণ নদী ও খালের মাধ্যমে সরাসরি সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। গত বছরের নভেম্বরে প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সুন্দরবনের পানিতে পারদ ও আর্সেনিকের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে — এবং সবচেয়ে বেশি ঘনত্ব পাওয়া যায় পশুর নদীর পানিতেই। শিল্পকারখানার বর্জ্য, বন্দরের কার্যক্রম এবং কয়লা পোড়ানোর নির্গমন — এই তিনটি উৎস একত্রে রামপালকে সুন্দরবনের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য পরিবেশগত হুমকিতে পরিণত করেছে।

সুন্দরবন: কেবল একটি বন নয়

বাংলাদেশ ও ভারতের বিস্তীর্ণ উপকূলজুড়ে বিস্তৃত সুন্দরবন শুধু একটি বন নয়। এটি বহু দুর্লভ উদ্ভিদ ও রেল বেঙ্গল টাইগারের মতো বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। এখানকার লাখো খেটে-খাওয়া মানুষ খাদ্য ও জীবিকার জন্য এই বন ও নদীর ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। অভিযোগকারীদের মতে, রামপাল প্রকল্পের কয়লা পোড়ানো থেকে উৎপন্ন কার্বন নিঃসরণ বৈশ্বিক উষ্ণায়নে সরাসরি ভূমিকা রাখছে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে এই সম্প্রদায়গুলোর জীবনকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করছে।

২০১৬ সালে ইউনেসকো প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও রামপাল প্রকল্পের কারণে সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকার ওপর সম্ভাব্য বায়ু ও পানিদূষণের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা উঠে এসেছিল। অর্থাৎ এই ঝুঁকি নতুন নয় — বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক সংস্থার নজরে ছিল।

অভিযোগকারীরা ও আইনি সহায়তা

মামলার অন্যতম বাংলাদেশি অভিযোগকারী ও পরিচিত পরিবেশকর্মী শরীফ জামিল জোরালো কণ্ঠে বলেন:

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং এর আশপাশের বিভিন্ন শিল্প কার্যক্রম থেকে নির্গত ভারী ধাতুর দূষণ নদী ও খালের মাধ্যমে সরাসরি সুন্দরবনে প্রবেশ করছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পশুর নদীর তীরে অবস্থিত এবং পশুর নদী সুন্দরবনের পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ — এর দূষণের মাত্রা বনের স্বাস্থ্যকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

অভিযোগকারীদের আইনি সহায়তা দিচ্ছে কিংস কলেজ লন্ডনের আইন স্কুলের কিংস হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড এনভাৱনমেন্ট ক্লিনিক। এই ক্লিনিকের আইনজীবী সু উইলম্যান মন্তব্য করেছেন:

সুন্দরবনের গ্রামীণ জনগোষ্ঠী আজ জলবায়ু ও প্রকৃতির এই মারাত্মক সংকটের একদম সম্মুখসারিতে অবস্থান করছে।

তিনি আশাপ্রকাশ করেন, এই আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্বের বড় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো জীবাশ্ম জ্বালানি ও কয়লাভিত্তিক ক্ষতিকর প্রকল্পে অর্থায়নের আগে আরও বেশি সতর্ক হবে।

অভিযোগকারীদের মধ্যে বাংলাদেশি পরিবেশকর্মী ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কৃষক ও রাজনীতিক অনিমেষ মণ্ডল এবং মাছশ্রমিকদের সংগঠন দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরাম রয়েছে।

বিকল্পের প্রশ্ন: সৌরশক্তির সম্ভাবনা

শরীফ জামিল আরও যোগ করেন, অন্যান্য আন্তর্জাতিক ব্যাংক যখন এই প্রকল্প থেকে নিজেদের বিনিয়োগ প্রত্যাহার করেছিল বা অর্থায়ন থেকে বিরত ছিল, তখন বার্কলেসের মতো প্রতিষ্ঠানের নীতিও পুনর্বিবেচনা করা উচিত। বাংলাদেশে সারা বছর প্রচুর সূর্যালোক পাওয়া যায় — এই প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর জোরালো আহ্বান জানান তিনি। সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির অফুরন্ত সম্ভাবনা এই দেশের জন্য একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প, যার উপেক্ষা করা পরিবেশগত ও সামাজিক মূল্য দিতে হবে।

বর্তমান অবস্থা

বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন অফিস ফর রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট এই অভিযোগটি গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করবে কি না, তা যাচাই ও মূল্যায়ন করছে। সুনির্দিষ্ট এই অভিযোগের বিষয়ে বার্কলেস ব্যাংক এবং রামপাল প্রকল্পের হোল্ডিং কোম্পানি বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

Frequently Asked Questions

What is র মপ ল অর থ য়ন?

র মপ ল অর থ য়ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does র মপ ল অর থ য়ন matter?

র মপ ল অর থ য়ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *