Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

রংপুরে ৪ খুন: ঘটনাস্থলে আইনজীবীদের ঢুকতে বাধা

Published September 11, 2026 · Updated September 11, 2026 · By Patricia Jackson - banglabeacon.com

Foto : Patricia Jackson - banglabeacon.com

রংপুরে চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে বাধার অভিযোগ আইনজীবীদের

Banglabeacon.com – র প র ৪ খ ন - রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি বাসায় স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী ঐক্য পরিষদের নেতারা। তাদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলের ভেতরের অংশ এবং ছাদ দেখতে চাইলেও পুলিশ তাদের অনুমতি দেয়নি। এ সময় পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাননি বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অনুপ সাহা।

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঢাকা থেকে আসা আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সভাপতি-সম্পাদকসহ ১৬ জন আইনজীবী নেতা নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশের বাধার কারণে তারা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি বলে সেখানে জানানো হয়।

আগাম জানিয়েও প্রবেশের অনুমতি মেলেনি

অনুপ সাহা বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে সুপ্রিম কোর্টের ১৬ জন আইনজীবী রংপুরে যান। তাদের সফরের বিষয়টি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে আগে থেকেই লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। কিন্তু বাসার কাছে পৌঁছে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ভেতরে না যাওয়ার নির্দেশ পান তারা।

“আমরা ঢাকা থেকে ১৬ জন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এসেছিলাম ঘটনাস্থল দেখতে। আমরা রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে আসার আগেই লিখিতভাবে অবহিত করেছিলাম। কিন্তু আমরা বাসায় প্রবেশ করার সময় সেখানে অবস্থান করা পুলিশ কর্মকর্তারা জানালেন, ভেতরে যাওয়া যাবে না।”

তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি জানাতে পুলিশ কমিশনারকে ফোন করার চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত দুটি নম্বরেই কল ব্লক থাকার সংকেত দেখা যায়। এ থেকে তিনি অভিযোগ করেন যে, তার নম্বর পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে ব্লক করা হয়েছে।

“এরপর আমি নিজেই পুলিশ কমিশনারকে ফোন করি। দুটি নম্বরেই ফোন করলে ব্লকড দেখায়। তার মানে দাঁড়ায়, আমার ফোন পুলিশ কমিশনার ব্লক করে দিয়েছেন।”

বেডরুম ও ছাদ দেখতে চেয়েছিলেন চার আইনজীবী

আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, পুলিশ কমিশনার একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী এবং জনগণের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আইনজীবীদের একটি ছোট দলকে নিহতদের বাসার বেডরুম ও ছাদ ঘুরে দেখার সুযোগ দিলে তদন্তে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয় বলে তিনি মত দেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, চার হত্যার ঘটনায় হাইকোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সুযোগ পেলে আদালতকে বিষয়টির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানানো সম্ভব হতো বলে তিনি মনে করেন।

পুলিশ কমিশনারের আচরণে হতাশা প্রকাশ করে অনুপ সাহা বলেন, এই পরিস্থিতিতে মামলার তদন্ত নিরপেক্ষ ও যথাযথ হবে কি না, তা নিয়ে তাদের আস্থা ক্ষুণ্ন হয়েছে। আইনজীবী নেতাদের বক্তব্যে উঠে আসে, ঘটনার সময় নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। কখনো ভোর, কখনো রাত, আবার কখনো সকাল—এভাবে হত্যাকাণ্ডের সময় নিয়ে আলাদা বক্তব্য এসেছে বলে অভিযোগ করা হয়।

পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ ও তদন্তের দাবি

গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য পর্যবেক্ষণ করে আইনজীবী নেতারা ধারণা করেছেন যে ঘটনাটি পরিকল্পিত হতে পারে। তাদের দাবি, চারজনকে বাসার ভেতরেই হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে এবং পরে ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

“পুলিশ এ ঘটনাকে নিয়ে জজ মিয়া নাটক সাজানোর চেষ্টা করছে।”

ময়নাতদন্তের সময় গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী ও কন্যাকে ধর্ষণের বিষয়ে ডোমের বক্তব্যের কথাও আলোচনায় তোলা হয়। আইনজীবী নেতাদের অভিযোগ, এ বিষয়টিও গোপন রাখার চেষ্টা চলছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট তথ্য সামনে আসা জরুরি বলে তারা মনে করেন।

তাদের ভাষ্য, একটি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ঘটনার সময়, আলামত, ময়নাতদন্তের তথ্য এবং প্রত্যক্ষ বা পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য—সবকিছুর সামঞ্জস্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে একই পরিবারের বা একই বাসার একাধিক মানুষের মৃত্যুর মতো ঘটনায় জনমনে সন্দেহ ও উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তাই সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করে দায়ীদের চিহ্নিত করার দাবি জানান তারা।

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আতঙ্কের কথা তুলে ধরা হয়

আইনজীবী ঐক্য পরিষদের নেতারা জানান, তাদের সফরের উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; সংগঠনের পক্ষে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা। তারা বলেন, মাছুয়াপাড়া ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও সেখানে চারজন খুন হওয়ার ঘটনা গভীরভাবে উদ্বেগজনক।

এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকে ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলছেন না বলেও তারা উল্লেখ করেন। তদন্তে এই ভীতির পরিবেশ বিবেচনায় নেওয়া দরকার বলে তাদের মত। কোনো সম্ভাব্য সাক্ষী বা স্থানীয় বাসিন্দা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে ঘটনার প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসা কঠিন হতে পারে—এ বিষয়টিও তারা সামনে আনেন।

আইনজীবী নেতারা বলেন, তারা আশাবাদী থাকতে চান, তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা নিশ্চিত করতে হবে। তদন্তে যেন কোনো প্রশ্ন অনুত্তরিত না থাকে এবং নিহতদের স্বজনরা ন্যায়বিচার পান, সে দাবি জানান তারা।

স্থানীয় আইনজীবী ও নাগরিক নেতাদের উপস্থিতি

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় ঢাকা থেকে যাওয়া ১৬ জন আইনজীবীর পাশাপাশি রংপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহেদ ইবনে কামালসহ কয়েকজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারাও সেখানে অংশ নেন।

ঘटनাস্থল ঘুরে দেখার অনুমতি না পাওয়ার পর আইনজীবী ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধিরা আসামি সিদ্ধার্থের বাসায়ও যান। সেখানে তারা সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাসসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। চার হত্যার ঘটনার তদন্ত কীভাবে এগোয়, ঘটনাস্থলের আলামত ও ময়নাতদন্তের তথ্য কী বলে এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী অবস্থান নেয়—এসব বিষয় এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is র প র ৪ খ ন?

র প র ৪ খ ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does র প র ৪ খ ন matter?

র প র ৪ খ ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.