যেখানে রেখেছিলাম
য খ ন র খ ছ ল - যখন রাখছিলাম—চার দশক ধরে যে চাকরিটি তিনি করছিলেন, কেন তা ছাড়লেন—এই প্রশ্নের উত্তরে লোকটি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, মৃতদের জ্বালা আর সহ্য হচ্ছিল
Table of Contents
যখন রাখছি: সমাধিক্ষেত্রে নতুন চাকরির গল্প
Banglabeacon.com – য খ ন র খ ছ ল – যখন রাখছিলাম—চার দশক ধরে যে চাকরিটি তিনি করছিলেন, কেন তা ছাড়লেন—এই প্রশ্নের উত্তরে লোকটি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, মৃতদের জ্বালা আর সহ্য হচ্ছিল না। আমি তাকে ইন্টারভিউ নিচ্ছিলাম, কারণ আমার কারখানার জন্য একজন সেলসম্যান দরকার, যে আমাদের বানানো জিনিস মানুষকে বুঝিয়ে বিক্রি করতে পারবে। আমাদের কারখানায় এক ধরনের ট্রে তৈরি হয়, যা কফিন সরানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। এখানকার অনেক সমাধিক্ষেত্রে কবর মাটির নিচে নয়, বরং দেয়ালের ভেতর সারি সারি খোপে কফিন রাখা হয়। কফিনগুলো এত ভারি যে ভেতরে ঠেলে নিতে বেশ কষ্ট হয়। আমাদের ট্রেটা নিচে বসিয়ে দিলেই কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়।
ইন্টারভিউর অদ্ভুত উত্তর
লোকটার দিকে তাকিয়ে আমি বললাম, অবাক হওয়ার কথা আমার। আপনি এখানে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে এসেছেন; অথচ যেভাবে উত্তর দিচ্ছেন, তাতে তো এখনই আপনাকে পাগল ভেবে পরের ক্যান্ডিডেটকে ডাকা উচিত। লোকটা একটুও বিচলিত হলো না।
জানি আপনি তা করবেন না।
— এত নিশ্চিত হচ্ছেন কী করে?
আপনার সম্পর্কে জেনে এসেছি। আপনি লেখক মানুষ। আমার কথা শুনে আপনার কৌতূহল জাগবেই। আপনার মনে হবে, পেদ্রো পারামোর একটা চরিত্র আপনার সামনে এসে বসেছে। সেই কৌতূহল থেকেই চাকরিটা আমাকে দেবেন। অন্তত কিছুদিনের জন্য হলেও।
কিছুক্ষণ চুপ করে রইলাম। ভাবলাম, লোকটা যদি সত্যিই আমার মনটা পড়ে এসে থাকে, তাহলে ওকে চাকরি দেওয়াই উচিত। আবার যদি সবটাই হিসেব করে বলে থাকে, তাহলেও ওকে চাকরি দেওয়া উচিত। যে মানুষ একজন লেখকের কৌতূহলকে এত নিখুঁতভাবে ধরতে পারে, সে হয়তো জিনিসও বিক্রি করতে পারবে। আবার এটাও সত্যি, এমন মানুষ চাইলে আমার কারখানার ক্ষতিও করতে পারে।
সমাধিক্ষেত্রে নতুন শুরু
— ঠিক আছে। কবে থেকে শুরু করতে পারবেন?
— এখানে সম্ভবত সোমবার থেকে শুক্রবার কাজ হয়, তাই না? আমি কিন্তু শুক্রবার বেলা বারোটার পর কাজ করতে পারব না।
— আপনি আগে বলেন, স্যার। আপনি কী খাচ্ছেন?
— আমি? বাসা থেকে সালাদ বানিয়ে এনেছি। সঙ্গে দুটো সিদ্ধ ডিম।
— হ্যাঁ। এই বসে এর বেশি আর সহ্য হয় না। ওর সামনে বসে খেতে খেতে বললাম— তা প্রথম চার ঘণ্টা কেমন কাটল?
— দারুণ। কাজের জায়গাটা গুছিয়ে নিয়েছি। যে জিনিস যখন লাগবে, হাত বাড়ালেই পাব। কোনো ট্রে পাঠাতে হলে স্ক্রুগুলোও আলাদা করে পাশে রেখেছি। আপনি শুধু বলবেন, আমি পাঠিয়ে দেব।
— না, না। ওসব নিয়ে এখন ভাবতে হবে না। আজ শুধু চারপাশটা দেখো। সবার সঙ্গে পরিচিত হও। নিরাপত্তার নিয়মগুলো বলেছে?
— সব বলেছে। কারখানায় ঢোকার আগেই নিকল একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বুঝিয়ে দিয়েছে।
— নিকল খুব কাজের মেয়ে। কিছুক্ষণ দুজনেই চুপচাপ খেতে থাকলাম।
— তা বলো তো, এত বছর মৃতদের সঙ্গে কাটিয়ে আজ জীবিতদের সঙ্গে কাজ করতে কেমন লাগছে?
— সেটা কি এভাবে বলা যায়, স্যার?
— এই কুরি, কেমন চলছে?
কুরি তখন গোলাপের বাগানে পানি দিচ্ছিল। পাইপটা এক পাশে রেখে হাঁটতে হাঁটতে এগিয়ে এল।
— আজকে কোনো সেরিমনি আছে?
— আছে। ঘণ্টা দুই পরে।
— জীবনটা অনেকটাই উপভোগ করে গেছেন।
— হ্যাঁ, তাই তো। আজ আবার শুক্রবারও। দিনটাও পবিত্র।
— কিন্তু উনি তো ক্যাথলিক। কুরি হেসে বলল। অ্যান্ডি একটু চুপ করে থেকে বলল, মরে যাওয়ার পরও কি ধর্ম আলাদা থাকে?
অ্যান্ডি কুরির দিকে তাকিয়ে বলল, স্যার, আপনি একটু ঘুরে দেখুন। আমি কুরির সঙ্গে একটু হাত লাগাই। বলেই ও কুরির পাশে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসল। আমি একা হাঁটতে শুরু করলাম। অ্যান্ডিকে পেছনে ফেলে সোজা এগোতেই সারি সারি ফলক। কোনোটাকেই এড়িয়ে বা পাশ কাটিয়ে যাওয়া যায় না। একটু হলেও থমকে দাঁড়াতে হয়। বেশিরভাগ ফলকেই শুধু নাম, জন্ম আর মৃত্যুর তারিখ। আকাশটা পরিষ্কার। ঘাসের ওপর রোদ পড়ে রংটা আরও গাঢ় হয়ে আছে। একঝাঁক গাঙচিল সমাধিক্ষেত্রের ওপর দিয়ে সোজা উড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। হঠাৎ দমকা বাতাস এসে ওদের এক পাশে ঠেলে দিল। আবার ডানা সামলে এগোতে চাইল, আবার বাতাস সরিয়ে দিল। শেষ পর্যন্ত সমাধিক্ষেত্রের ওপর দিয়ে আর যাওয়া হলো না। দলটা বাঁক নিয়ে দূরে সরে গেল।
আমি বাঁ দিকে মোড় নিলাম। বিশাল এক ওকগাছের নিচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আরও অনেকগুলো ফলক। সমাধিক্ষেত্রের একেবারে শেষ মাথায় হঠাৎ চোখে পড়ল ছোট্ট একটা কাঠের চেয়ার। সাধারণ চেয়ারের চেয়ে অনেক ছোট। কৌতূহলবশত এগিয়ে গেলাম। চেয়ারটার সামনে অনাচ্ছাদিত একটা ফলক। চেয়ারটার নিচে একটা ছোট্ট কাঠের বাক্স। কার জিনিস, কেন রাখা, এসব কিছুই তখন মাথায় এল না। বাক্সটা হাতে তুলে নিলাম। কোনো তালা নেই। ঢাকনাটা খুলতেই ভেতরে একটা বই। বইটার পাশে একটা কালো কালির কলম। কলমটা দেখেই হাত থেমে গেল। এই কলমটাই ইন্টারভিউর দিন অ্যান্ডির বুকপকেটে দেখেছিলাম।
ডাক শুনে চমকে উঠে পেছনে তাকালাম। অ্যান্ডি এসে দাঁড়িয়েছে। ওর চোখের কোনা চিকচিক করছে।
না, মানে… আপনি পড়ছেন?
— হ্যাঁ। কেন, অ্যান্ডি?
আমি তখন উঠে দাঁড়িয়েছি। অ্যান্ডিও ঘুরে দাঁড়াল। হাঁটতে শুরু করল। আমি ওর পেছনে পেছনে হাঁটছি।
না। আজকের মতো আপনি তো পড়লেন।
এইটুকু পড়লেই হয়। বেশি লাগে না।
হাঁটতে হাঁটতে অ্যান্ডি সমাধিস্থলের অন্য কোণায় চলে গেল। ওখানেও একটা সমাধি, মাটি থেকে একটু উঁচু করে বাঁধানো। অ্যান্ডি সেখানে এসে একটু থমকে দাঁড়াল। তারপর আবার হাঁটা ধরল গাছের দিকে। আমি ওর পেছনে। ও যেখানে দাঁড়িয়েছিল, ঠিক তার নিচে ছড়িয়ে আছে কয়েক টুকরো ভাঙা কাঁচ। বেলা এগারোটা বাজে। অ্যান্ডি তখনও তিন নম্বর সারির পরিচর্যা শেষ করতে পারেনি। মনে পড়ে, এই তো বছর দুই আগেও এগারোটার মধ্যে সাঁইত্রিশটা সারিই শেষ হয়ে যেত। তারপর বিশাল ওকগাছটার নিচে, লিরার পাশে গিয়ে বসলাম।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. অ্যান্ডি কেন চাকরি ছেড়ে দিতে চেয়েছিল? অ্যান্ডি চার দশক ধরে সমাধিক্ষেত্রে কাজ করতেন। মৃতদের জ্বালা আর সহ্য হচ্ছিল না বলে তিনি চাকরি ছাড়তে চেয়েছিলেন।
২. কারখানার ট্রে কী কাজে ব্যবহৃত হয়? কারখানায় তৈরি ট্রে কফিন সরানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। সমাধিক্ষেত্রে কফিনগুলো দেয়ালের ভেতর সারি সারি খোপে রাখা হয়, যা ভারি হওয়ায় সরানো কষ্টকর।
৩. অ্যান্ডি কেন শুক্রবার বেলা বারোটার পর কাজ করতে পারতেন না? অ্যান্ডির ব্যক্তিগত কারণ ছিল। তিনি ইন্টারভিউতেই এটি উল্লেখ করেছিলেন, যা লেখকের কৌতূহল জাগিয়েছিল।
৪. বাক্সের ভেতর কী ছিল? বাক্সের ভেতরে একটা বই এবং একটা কালো কালির কলম ছিল। এই কলমটাই ইন্টারভিউর দিন অ্যান্ডির বুকপকেটে দেখা গিয়েছিল।
৫. সমাধিক্ষেত্রে কফিন কীভাবে রাখা হয়? এখানকার অনেক সমাধিক্ষেত্রে কবর মাটির নিচে নয়, বরং দেয়ালের ভেতর সারি সারি খোপে কফিন রাখা হয়।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is য খ ন র খ ছ ল?
য খ ন র খ ছ ল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does য খ ন র খ ছ ল matter?
য খ ন র খ ছ ল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.