Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

যমুনা কেড়েছে ভিটে, টিকে থাকার লড়াই প্রতিবন্ধী হারুনের

Published September 19, 2026 · Updated September 19, 2026 · By Mark Hernandez - banglabeacon.com

Foto : Mark Hernandez - banglabeacon.com

যমুনার ভাঙনের পর ছোট দোকানই হারুনের পরিবারের ভরসা

Banglabeacon.com – যম ন ক ড় ছ ভ ট - সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার খাসরাজবাড়ী চরের ২৮ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী যুবক হারুনের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নদীভাঙন, দারিদ্র্য ও টিকে থাকার নিরন্তর চেষ্টা। যমুনার স্রোতে হারিয়ে গেছে তাদের বাপ-দাদার বসতভিটা। এখন অন্যের জমিতে টিনের ঘর তুলে বৃদ্ধ বাবা-মা ও এক ভাগনিকে নিয়ে চারজনের সংসার চালাচ্ছেন তিনি। এই পরিবারের প্রধান অবলম্বন একটি অতি ছোট মুদিদোকান।

চরাঞ্চলের সেই দোকানে খুব বেশি পণ্য নেই, কিন্তু হারুনের কাছে এটিই জীবিকা ধরে রাখার শেষ শক্তি। পুরোনো টিনের ঘরের এক পাশে কাঠের চৌকির ওপর সাজানো থাকে কেক, বিস্কুট, চানাচুর এবং প্রয়োজনীয় কিছু পণ্য। দেয়ালে ঝোলানো কয়েকটি প্যাকেটজাত খাবারও চোখে পড়ে। দোকানের পাশে প্লাস্টিকের কয়েকটি চেয়ার রাখা, আর ছোট টেবিলের ওপর রয়েছে ফ্লাস্ক, চায়ের পাতা ও কাপ। চরের মানুষদের জন্য বসে চা খাওয়ার সামান্য জায়গাটিও দোকানটির অংশ।

সামান্য পুঁজি, চারজনের সংসার

হারুনের দোকানে থাকা সব পণ্যের মোট মূল্য আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকার বেশি নয়। তবু এই ক্ষুদ্র পুঁজিকেই ঘুরিয়ে সংসারের ব্যয় মেটানোর চেষ্টা করেন তিনি। প্রতিদিন বিক্রি শেষে তার আয় থাকে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। সেই অর্থে নিজের পাশাপাশি বাবা-মা ও ভাগনির খাবার, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং দৈনন্দিন খরচ চালাতে হয়।

অল্প আয়ের সঙ্গে হারুন তিন মাস অন্তর সরকার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা পান। বাজারের বর্তমান খরচের তুলনায় এ অর্থ সীমিত হলেও পরিবারটির জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা। নিয়মিত দোকান খোলা, পণ্য সামলানো এবং ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলার কাজ হারুনের জীবনযুদ্ধের অংশ হয়ে উঠেছে।

হারুনের বাবা সাত্তার শেখ বয়সের ভার ও দুর্বল শরীর নিয়েও ছেলেকে সহযোগিতা করেন। দোকান দেখাশোনা কিংবা ছোটখাটো কাজে বাবার এই উপস্থিতি পরিবারের জন্য বাড়তি ভরসা। পরিবারের সদস্যরা যার যার সামর্থ্য দিয়ে চেষ্টা করলেও আয় বাড়ানোর সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে প্রতিটি দিনের বিক্রিই তাদের কাছে জরুরি।

ভাঙনে থেমে যাওয়া পড়াশোনা ও সংসার

শৈশবে হারুন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। কিন্তু নদীভাঙনের চাপ এবং অভাবের কারণে তার শিক্ষাজীবন আর এগোয়নি। বসতভিটা হারানোর পর পরিবারের সামনে নতুন করে মাথা গোঁজার জায়গা ও খাবারের ব্যবস্থা করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। জীবনের সেই বাস্তবতা তাকে পড়াশোনার বদলে জীবিকা খোঁজার পথে ঠেলে দেয়।

পরিবারের কাজে সহায়তা পাওয়ার আশায় হারুন বিয়েও করেছিলেন। কিন্তু আর্থিক সংকট তাদের সংসার টিকতে দেয়নি। বিয়ের এক বছরের মধ্যেই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। ব্যক্তিগত জীবনের এই ভাঙনও হারুনের ওপর নতুন চাপ তৈরি করে, যদিও তিনি থেমে থাকেননি।

যমুনার চরাঞ্চলে বসবাসের বাস্তবতায় নদীভাঙন শুধু জমি বা ঘর হারানোর ঘটনা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শিক্ষা বন্ধ হওয়া, আয় কমে যাওয়া এবং পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব। হারুনের জীবনের অভিজ্ঞতায় সেই চাপগুলো একসঙ্গে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নিজের ভিটেমাটি না থাকায় পরিবারটি এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

নিজের চেয়ে চরের মানুষের কথা

নিজের প্রয়োজন বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে হারুন শুধু ব্যক্তিগত সাহায্যের কথা বলেননি। তার ভাবনায় রয়েছে চরাঞ্চলের আরও অসহায় পরিবার, যাদের অনেকেই নদীভাঙনের কারণে ঘরবাড়ি ও স্থায়ী আশ্রয় হারিয়েছেন।

চরের মানুষের অনেক কষ্ট। নদীভাঙনে অনেকের ঘরবাড়ি নেই। সরকার যদি চরের অসহায় মানুষদের সমস্যার সমাধান করে, তাতেই আমি খুশি।

হারুনের এই বক্তব্যে বোঝা যায়, সংকটটি কেবল একটি পরিবারের নয়। চরাঞ্চলে বসবাসকারীদের জন্য নিরাপদ আবাসন, আয়ের সুযোগ এবং নিয়মিত সহায়তার প্রয়োজনীয়তা প্রতিদিনের জীবনেই অনুভূত হয়। অল্প পুঁজির দোকান চালিয়ে পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া তার ব্যক্তিগত লড়াই, কিন্তু সেই লড়াইয়ের পেছনে আছে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বহু মানুষের অভিন্ন বাস্তবতা।

কাজিপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বকুলও চরের মানুষের দুর্দশার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন, হারুনের মতো অসংখ্য মানুষ প্রয়োজনীয় সহায়-সম্বল ছাড়াই কঠিন পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন।

শুধু হারুন নন, যমুনা চরের অসংখ্য মানুষ আজ বেঁচে থাকার কঠিন সংগ্রামে লিপ্ত। এসব সহায়-সম্বলহীন মানুষের পাশে সরকার ও প্রশাসনকে আরও কার্যকরভাবে দাঁড়াতে হবে।

হারুনের দোকানের কেক, বিস্কুট, চা আর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ছোট আয়োজন তাই শুধু একটি ব্যবসা নয়। এটি নদীভাঙনে সব হারিয়ে ফেলা এক পরিবারের প্রতিদিন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা। সীমিত আয়ের মধ্যেও পরিবারকে আগলে রাখা, বাবার সহযোগিতায় দোকান চালানো এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলাই এখন হারুনের জীবনের প্রধান গল্প।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is যম ন ক ড় ছ ভ ট?

যম ন ক ড় ছ ভ ট is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does যম ন ক ড় ছ ভ ট matter?

যম ন ক ড় ছ ভ ট matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.