মুক্তিযুদ্ধের অভিঘাত এবং দুই অবাঙালি-নারী
মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সমাজে দুই বিদেশী নারীর গল্প: বশীর আল্হেলালের দুই উপন্যাসের চরিত্র-বিশ্লেষণ
Banglabeacon.com – ম ক ত য দ ধ র - ১৯৭১-এর পর বাংলাদেশে ফিরে আসা বাঙালি স্বামী-স্ত্রীদের জীবন-সংকট, বিহার থেকে ঢাকায় চলে আসা এক নারীর ভিক্ষা থেকে গৃহকর্মের পথ, আর সিন্ধু থেকে করাচি থেকে ঢাকায় পৌঁছানো এক মেয়ের তালাকের গল্প — এই তিনটি অভিজ্ঞতাকে একসাথে ধরলে মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সমাজের এক অদ্ভুত চিত্র浮ে ওঠে। বশীর আল্হেলাল তাঁর দুই উপন্যাসে ঠিক এই চিত্রটিকেই তুলে ধরেছেন।
লেখকের জীবন-পটভূমি
বশীর আল্হেলালের কোনো ফিকশন, ননফিকশন বা গবেষণালব্ধ রচনায় বাতি কথা বা ভাবাবেগের সন্ধান পাওয়া যায় না। তিনি ১৯৬৫ সালে, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পরে, পশ্চিমবঙ্গ ত্যাগ করে তৎকালীন পূর্ববাংলায় চলে আসেন। তাঁর দুই ভাই বহু আগেই বাংলাদেশে এসেছিলেন, কিন্তু তিনি মাকে নিয়ে কলকাতায় থেকে যান। পরে প্রধানত অগ্রজদের উপর্যুপরি তাগিদেই মাকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। ভারতে পঁয়ষট্টি-পরবর্তী দাঙ্গার পরোক্ষ প্রভাব এর পেছনে ছিল কি না, সেটি এখন আর জানার উপায় নেই।
তাঁর একমাত্র কন্যার শৈশব-বন্ধু, খ্যাতিমান সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, বশীরের প্রাণের দু'বছর পরে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলেন —
'বাসির' কেন কলকাতা ছেড়ে চলে গেল!
বামপন্থী, সংস্কারমুক্ত এই লেখককে নিয়ে ঢাকায় সম্ভবত সর্বপ্রথম কোনো সাহিত্য-আলোচনা হয় তাঁর নব্বইতম জন্মবার্ষিকীর বছরে, অনুপস্থিত হওয়ার মাস আগস্টে, ঢাকার বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্রে। সে আয়োজনে নির্ধারিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ ছিল। বাকি চার আলোচকই ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক।
গবেষক হিসেবে বশীর
সেদিন বলা হয়েছিল, বহুমাত্রিক লেখক, সাহিত্যের নানা শাখায় কাজ করেছেন, এমন সব্যসাচী নিশ্চয়ই দু-একজন আছেন বা ছিলেন আমাদের, তবে বশীর আল্হেলাল এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ও বিশিষ্ট — কেননা তিনি একজন গবেষকও। গবেষণালব্ধ তাঁর দুটি মহাগ্রন্থ হলো: ভাষা-আন্দোলনের ইতিহাস এবং বাংলা একাডেমির ইতিহাস। বাংলা একাডেমিতে চাকরি করতেন বলে একাডেমির ইতিহাস লেখার দায় চেপেছিল তাঁর ওপরে। কিন্তু সে-গ্রন্থ লিখতে লিখতে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস লেখার দায়িত্ব ও কর্তব্য বোধ করেন তিনি।
নিজের বাহির নাম দেন 'বাংলাভাষার পাঠশালা'। ভাষার দুটি প্রধান প্রকাশ-বাহন — লেখা ও বলা — এই দুটি বিষয়ে বই লেখার দায়িত্ব অনুভব করেছিলেন বলেই 'আদর্শ বাংলা বানান' (১৯৯০) ও 'বাংলা উচ্চারণ' (২০০১) নামে দুটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ লিখে গেছেন।
দুই উপন্যাস, দুই অবাঙালি নারী
বশীরের গুরুত্বপূর্ণ দুটি উপন্যাসে দুটি প্রধান নারীচরিত্র বাঙালি নয়। এই দুই চরিত্রের জীবন-পথই মুক্তিযুদ্ধের অভিঘাতের ব্যক্তি-স্তরের প্রতিফলন।
সোহেলী — বিহারী নারী, আগে থেকেই ঢাকায় বসবাসকারী। এক শিশুকন্যার জননী। ভিখারিণী। আবেদা — সিন্ধুর মেয়ে। একাত্তরে করাচিতে ছিল; ঘটনাচক্রে বিয়ের পর বাঙালি স্বামীর সঙ্গে বাংলাদেশে আসে।
সোহেলী কাজের সুযোগ করে দেয়, একেবারে ভিখারি পর্যায়ে থেকে গৃহপরিচারিকার উন্নীত হয়, নানাভাবে বাঙালি মনিবকে খুশি করার চেষ্টা করে। অন্যদিকে আবেদা আত্মীয় স্বজন ও নিজের দেশ ফেলে স্বেচ্ছায় বাঙালি স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় চলে আসে। স্বামীর মন জুগিয়ে চলার দায় সংগত ও স্বাভাবিকই ধারণা হয়। স্বামীর প্রতি তার ভালোবাসা নিখাদ।
দুই চূড়ান্ত পরিণতি
উপন্যাসে এই দুই নারীর দুরকমের পরিণতি লক্ষণীয়। পাঠক নিশ্চিত ধারণা পাবেন — আশ্রয়দাতা করিমের সঙ্গে সোহেলীর বিয়ে হবে। অন্যদিকে আবেদাকে তালাক দেয় তার স্বামী বেলায়েত। একটি উপন্যাসে বিয়ের প্রস্তুতি, অন্যটিতে তালাক প্রদান — এই দুই চূড়ান্ত পরিণতির ভেতর দিয়েই কাহিনি দুটির সমাপ্তি ঘটে।
করিমের জীবন-সংকট
'কালো ইলিশ'-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র করিমের স্ত্রী, এক সন্তানের জননী শরীফা, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে নির্যাতিত হয়েছিল। স্বামীর কাছ থেকে তার প্রত্যক্ষ কোনো সমস্যা হয়নি বটে, কিন্তু সংকট ছিল তার নিজেরই মনে। সেটি অসংগত কিংবা অস্বাভাবিকও নয়। স্বাধীনতার কিছুকাল পরে শরীফা আত্মহত্যা করে।
ঢাকার নিম্নপদস্থ সরকারি কর্মচারীদের ছোট ফ্ল্যাটে করিম একা থাকে; ইতিমধ্যে হাফপাগলা হিসেবে সে পরিচিতি পেয়েছে। লেখক করিমকে তুলে ধরার ভঙ্গিতে তাকে বরং বাস্তববাদী, সংস্কারমুক্ত, মানবিক ও অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে ধারণা হয়।
সোহেলীর প্রবেশ
প্রথমদিন করিম তাকে পাঁচ টাকা ভিক্ষা দেয়। রাস্তার ধারে বুক চাপড়ে চাপড়ে ভিক্ষা চাইছিল সে। স্বাধীনতার পরপর ওই সময়ে আট টাকার একটা মুরগি কেনা যেত — ভিখারিণীর কাছে পাঁচ টাকা অনেক।
সোহেলী করিমের ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়ে, দরোজা বন্ধ করে, বিছানায় শুয়ে পড়ে। উপন্যাসে এই মুহূর্তের ভাষা —
'শ্রাবণের সিক্ত গোধূলির মতো কী এক ম্লান বিষণ্ন গলার চৌকি দেখিয়ে মেয়েটি বলল, এখানেই শুই?'
করিম ভাবে, 'সবাই তাহলে বেইমান নয়'। পরিষ্কার যে সে দেহদানের বিনিময়ে করিমের দেওয়া টাকার মূল্য চুকাতে চায়। দীর্ঘকাল শরীরী সম্পর্কহীন করিম সুযোগটি গ্রহণ করে। যদিও এরপর তার হেলদোল হয়নি, বরং সোহেলীর বারবার হাত পাতায় সে বিরক্ত। এক পর্যায়ে সে করিমের গৃহকর্মে নিয়োজিত হয়। এরপরই করিম জানতে পারে যে তার মতোই সোহেলীরও এক শিশুকন্যা আছে — ভিক্ষার পেছনে মূলত সেই সন্তানের বেঁচে থাকার প্রশ্ন।
মুক্তিযুদ্ধের ব্যক্তি-স্তরের প্রতিফলন
এই দুই নারীর পুরুষসঙ্গীর চরিত্র-বিশ্লেষণ
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ম ক ত য দ ধ র?ম ক ত য দ ধ র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ম ক ত য দ ধ র matter?ম ক ত য দ ধ র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.