Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ভুয়া রসিদে অর্থ লেনদেন: ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সেই আউটলেট বন্ধ ঘোষণা

Published October 4, 2026 · Updated October 4, 2026 · By Jennifer Taylor - banglabeacon.com

Foto : Jennifer Taylor - banglabeacon.com

প্রায় ৫ কোটি টাকা নিয়ে নিখোঁজ এজেন্ট, তাফালবাড়ির আউটলেট বন্ধ করল ডাচ-বাংলা ব্যাংক

Banglabeacon.com – ভ য় রস দ অর থ ল - বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার তাফালবাড়ি বাজারে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একটি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে ভুয়া জমার রসিদ এবং মুঠোফোনে জাল খুদে বার্তা পাঠিয়ে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযুক্ত আউটলেট পরিচালক ওমর ফারুক রাজু গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বহু গ্রাহক তাদের জমা করা অর্থ নিয়ে উদ্বেগে পড়েন। অনেকেই মনে করেছিলেন, ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেটে টাকা জমা দেওয়ার পর পাওয়া কাগজপত্র ও এসএমএস তাদের আমানতের প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট। কিন্তু প্রাথমিক যাচাইয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমার রসিদ ব্যাংকের বৈধ নথির সঙ্গে মিলছে না।

পরিদর্শনের পর বন্ধের সিদ্ধান্ত

গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসার পর গত ১ অক্টোবর ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাফালবাড়ি বাজারের আউটলেটটি পরিদর্শন করেন। সেখানেই আউটলেটটি বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং সামনের অংশে এ-সংক্রান্ত নোটিশ টানানো হয়।

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বাগেরহাট জেলার এজেন্ট ব্যাংকিং বিভাগের সিনিয়র সেলস ম্যানেজার শেখ ওবায়দুল ইসলাম জানান, অভিযোগ নিয়ে আসা গ্রাহকদের কাগজপত্র ঘটনাস্থলেই দেখা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বৈধ জমার স্লিপ পাওয়া গেছে তুলনামূলকভাবে অল্প পরিমাণ টাকার ক্ষেত্রে।

“ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আউটলেটটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে যেসব গ্রাহক অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন, তাদের রসিদ তাৎক্ষণিক পর্যালোচনা করে মাত্র ৩০ লাখ টাকা পরিমাণ জমার সঠিক স্লিপ পাওয়া গেছে। বাকি সবার জমার স্লিপ ফেক (ভুয়া) বলে মনে হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত পরিচালক দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া স্লিপ বানিয়ে গ্রাহকদের দিয়ে থাকতে পারেন। এসব রসিদ দেখে অনেক গ্রাহকই প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেননি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৈধ কাগজপত্র থাকলে অভিযোগের সুযোগ

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব গ্রাহকের কাছে প্রকৃত ও বৈধ জমার রসিদ রয়েছে, তাদের সংশ্লিষ্ট জেলা শাখায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে থাকা নথি যাচাইয়ের পর কোনো আমানত সঠিক প্রমাণিত হলে তা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

“যাদের কাছে বৈধ জমার রসিদ আছে, তাদের জেলা শাখায় অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে যাদেরটা সঠিক প্রমাণিত হবে, তাদের আমানত ফেরত দেওয়া হবে।”

গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা এবং ব্যাংকের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে ওমর ফারুক রাজুর বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতিও চলছে বলে জানিয়েছে ব্যাংক। এই ঘটনায় কেবল টাকা হারানোর আশঙ্কাই নয়, এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় নথি যাচাইয়ের গুরুত্বও সামনে এসেছে।

মুনাফার প্রলোভনে জমা হয়েছিল সঞ্চয়

তাফালবাড়ি বাজারে ২০২১ সালে এই আউটলেটটি চালু করেন রাজু। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এক লাখ টাকা জমা রাখলে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা মুনাফা দেওয়ার কথা বলতেন তিনি। অতিরিক্ত লাভের আশায় অনেক গ্রাহক নিজেদের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় সেখানে রাখেন। কারও কারও ক্ষেত্রে জীবনের শেষ সম্বলও ওই আউটলেটে জমা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, টাকা নেওয়ার পর গ্রাহকদের হাতে সিলযুক্ত জাল রসিদ তুলে দেওয়া হতো। পাশাপাশি রাজুর ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে জমা হওয়ার বার্তা হিসেবে ভুয়া এসএমএস পাঠানো হতো। ফলে গ্রাহকেরা লেনদেনটি ব্যাংকের মূল ব্যবস্থায় নথিভুক্ত হয়েছে কি না, তা যাচাই করার প্রয়োজন অনুভব করেননি।

এ ধরনের ঘটনায় গ্রাহকের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জমার পর প্রাপ্ত কাগজের রসিদ, হিসাব নম্বর, লেনদেনের তথ্য এবং ব্যাংকের অনুমোদিত মাধ্যমে পাঠানো বার্তা মিলিয়ে দেখা। শুধু সিলমারা কাগজ বা ব্যক্তিগত নম্বর থেকে পাওয়া এসএমএসের ওপর নির্ভর করলে ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।

গ্রাহকদের পক্ষ থেকে জিডি

রাজুর নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পক্ষ থেকে গত বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, শরণখোলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

“টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গ্রাহকদের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রোকেয়া খানম এ কথা জানান। অভিযোগের পরিধি বড় হওয়ায় ভুক্তভোগীদের নথি, লেনদেনের রসিদ এবং যোগাযোগের তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

নেপালে যাওয়ার গুঞ্জন, ফোন বন্ধ

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে শোনা যাচ্ছে, বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে রাজু গোপনে নেপালে চলে গেছেন এবং সেখান থেকে ইউরোপে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি। বর্তমানে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ রয়েছে।

তাফালবাড়ি বাজার কমিটির সভাপতি আ. রাজ্জাক মৃধা বলেন, রাজুর ভদ্র আচরণ ও মানুষের সঙ্গে সহজ যোগাযোগের কারণে অনেকেই তাঁর ওপর আস্থা রেখেছিলেন। প্রতিদিন নতুন নতুন অভিযোগ নিয়ে মানুষ বাজারে আসছেন বলেও তিনি জানান।

“রাজুর ভালো আচার-ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে মানুষ প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়েছে। প্রতিদিন গ্রাহকেরা এসে অভিযোগ করছেন। তাদের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া ছাড়া আমাদের কীই-বা করার আছে?”

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটগুলোতে গ্রাহকের লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। জমার সময় ব্যাংকের আসল রসিদ ও অনুমোদিত এসএমএস যাচাই করা হলে এ ধরনের জালিয়াতির ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।

পরিবারের দাবি, ঘটনার কথা জানত না তারা

ওমর ফারুক রাজুর বাড়ি সাউথখালী ইউনিয়নের পূর্ব সোনাতলা গ্রামে। তাঁর বাবা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. শাহ আলম হাওলাদার, বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে পিরোজপুরে এক বন্ধুর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে রাজু বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

“রাজু পিরোজপুরে তার বন্ধুর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তার মোবাইল বন্ধ। কোথায় আছে বলতে পারছি না।”

তিনি বলেন, ছেলে মানুষের কাছে এত টাকা পাওনা রেখে গেছে—এ তথ্য আগে তাঁর জানা ছিল না। এখন বিভিন্ন ব্যক্তি অভিযোগ নিয়ে আসছেন, কিন্তু এত বড় অঙ্কের টাকা পরিশোধ করার সামর্থ্য তাঁর নেই বলেও জানান তিনি।

আউটলেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মূল প্রশ্ন এখন বৈধ আমানতের প্রমাণ উপস্থাপন এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠা করা। ব্যাংকের যাচাই, পুলিশের তদন্ত এবং সম্ভাব্য মামলার অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করবে গ্রাহকদের অর্থ ফেরত পাওয়ার পরবর্তী পথ।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ভ য় রস দ অর থ ল?

ভ য় রস দ অর থ ল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ভ য় রস দ অর থ ল matter?

ভ য় রস দ অর থ ল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.