Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

বিদেশে যাওয়া ছেলেটির স্বপ্ন ফিরল কফিনে

Published September 11, 2026 · Updated September 11, 2026 · By Mark Hernandez - banglabeacon.com

Foto : Mark Hernandez - banglabeacon.com

স্পেনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত আলিফের মরদেহ ফিরল কালীগঞ্জে

Banglabeacon.com – ব দ শ য ওয় ছ ল - পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলানোর আশা নিয়ে স্পেনে যাওয়া ২৫ বছর বয়সী ইউসুফ হাসান আলিফ ফিরলেন কফিনবন্দী হয়ে। মাদ্রিদের একটি সাইকেল গ্যারেজে আগুন লাগার ঘটনায় নিহত এই তরুণের মরদেহ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকায় পৌঁছায়। বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ স্বজনদের জন্য সেই মুহূর্ত ছিল অসহনীয় বেদনার।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সকাল ৬টা ৫৭ মিনিটে বিমানটি অবতরণ করে। নির্ধারিত সময়ের ২৩ মিনিট পরে ঢাকায় পৌঁছানো ফ্লাইটটিতে ছিল আলিফের মরদেহ। বিমানবন্দর থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে কফিনটি গাজীপুরের কালীগঞ্জে নেওয়া হয়।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহ পৌঁছায় কালীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরগাঁও গ্রামের বাড়িতে। কয়েক মাস আগে যে বাড়ি ছেড়ে আলিফ নতুন জীবনের স্বপ্নে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন, সেখানেই এবার তাকে ফিরতে হলো নিথর দেহে।

জানাজা ও দাফনে শেষ বিদায়

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর পুরো উত্তরগাঁও এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। স্বজনদের কান্না, প্রতিবেশীদের ভিড় এবং পরিচিতজনদের শেষ দেখা নেওয়ার মধ্য দিয়ে বাড়িটি ভারী হয়ে ওঠে। জুমার নামাজের পর উত্তরগাঁও উত্তরপাড়া জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন জানান, সকালে প্রবাসী বাংলাদেশি ইউসুফ হাসান আলিফের মরদেহ তার বাড়িতে পৌঁছেছে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

মাত্র দুই মাসের প্রবাসজীবন

আলিফ ছিলেন উত্তরগাঁও এলাকার আব্দুল মোতালিব ও রহিমা খাতুন দম্পতির ছেলে। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির স্বপ্ন নিয়ে তিনি মাত্র দুই মাস আগে স্পেনে যান। মাদ্রিদে গিয়ে তিনি ফুড ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ শুরু করেন।

বিদেশে স্থায়ীভাবে কাজের পথ তৈরির জন্য তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দিয়েছিলেন। মৃত্যুর মাত্র দুই দিন আগে তিনি কাজের অনুমতি পান। নতুন অনুমতি হাতে পাওয়ার পর সামনে এগিয়ে যাওয়ার যে সময় ছিল, তার আগেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা সব পরিকল্পনা থামিয়ে দেয়।

পরিবারের কাছে বিদেশযাত্রা ছিল শুধু ব্যক্তিগত উন্নতির চেষ্টা নয়; ছেলের আয় দিয়ে সংসারে স্বস্তি ফেরানোর আশাও ছিল এর সঙ্গে জড়িয়ে। সেই প্রত্যাশা পূরণের সুযোগ আর পেলেন না আলিফ।

মাদ্রিদের গ্যারেজে আগুন

গত ৩০ আগস্ট স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটে মাদ্রিদের আরগানসুয়েলা এলাকার পালোস দে লা ফ্রন্তেরা এলাকার কাইয়ে কানারিয়াস সড়কের একটি সাইকেল গ্যারেজে আগুন লাগে। ওই গ্যারেজের ভেতরে আটকে পড়েন আলিফ। আগুন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সেখানে ঘন ও বিষাক্ত ধোঁয়াও জমতে থাকে।

শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকা অবস্থায় সহকর্মীদের সঙ্গে থাকা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তিনি সাহায্য চেয়েছিলেন। সেটিই ছিল তার শেষ বার্তা।

আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে।

এরপর তার কাছ থেকে আর কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। গ্যারেজে জমে থাকা ক্ষতিকর গ্যাস সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং আগুন আবার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে সেখানে থাকা অন্য বৈদ্যুতিক বাইসাইকেলও বাইরে নেওয়া হয়।

তবে উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার আগেই আলিফকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলেই চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষাক্ত ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করা এবং শ্বাসনালিতে গুরুতর দাহ্য ক্ষত সৃষ্টি হওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

প্রবাসীদের শেষ শ্রদ্ধা

আলিফের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে শোক নেমে আসে। ৪ সেপ্টেম্বর মাদ্রিদের বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদে বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে তার জানাজা হয়। সেখানে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা তার মরদেহ কাঁধে বহন করে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

এরপর মরদেহ দেশে পাঠাতে আইনি এবং প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সব প্রক্রিয়া শেষ করে ১০ সেপ্টেম্বর মাদ্রিদের স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের টিকে-১৩৬০ ফ্লাইটে আলিফের মরদেহ ইস্তাম্বুলের উদ্দেশে পাঠানো হয়।

ইস্তাম্বুল থেকে টিকে-৭৪২ ফ্লাইটে কফিনটি ঢাকার পথে রওনা দেয়। শুক্রবার ভোরের পর সেই দীর্ঘ যাত্রার সমাপ্তি হয় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এরপর ঢাকা থেকে কালীগঞ্জ এবং কালীগঞ্জ থেকে উত্তরগাঁওয়ের পারিবারিক কবরস্থানে পৌঁছে শেষ হয় আলিফের জীবনের পথচলা।

অসমাপ্ত থেকে গেল স্বপ্ন

বিদেশে পাড়ি দেওয়ার আগে আলিফের পরিবার তাকে ঘিরে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখেছিল। পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন, তিনি কাজ করবেন, নিজের অবস্থান গড়ে তুলবেন এবং পরিবারের জন্য সহায় হয়ে উঠবেন। মাত্র দুই মাসের মধ্যে সেই আশার জায়গাটি বদলে গেল গভীর শোকে।

একটি কাজের অনুমতি পাওয়ার আনন্দও তার জীবনে স্থায়ী হয়নি। যে তরুণ নতুন করে পথ চলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, আগুন ও বিষাক্ত ধোঁয়ার ঘটনায় তাকে অকালে হারাতে হলো পরিবারকে। উত্তরগাঁওয়ের বাড়ি ও পারিবারিক কবরস্থানে তার ফিরে আসা তাই শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার জন্য বেদনাবিধুর স্মৃতি হয়ে রইল।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ব দ শ য ওয় ছ ল?

ব দ শ য ওয় ছ ল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ব দ শ য ওয় ছ ল matter?

ব দ শ য ওয় ছ ল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.