বিদেশগামী নারী শ্রমিকদের ‘৯৪%’ যৌন নির্যাতনের শিকার: সংসদে জামায়াতের মমতাজ
Banglabeacon.com – ব দ শগ ম ন র শ – সংসদে আলোচনার সময় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ বিদেশগামী নারী শ্রমিকদের বিষয়ে গুরুতর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে প্রবাসী কর্মসংস্থান এবং কল্যাণ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন যে বিএমই পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিদেশে চলে যাওয়া নারী শ্রমিকদের প্রায় ৯৪ শতাংশ যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিদেশে গেছেন প্রায় ৩ লাখের বেশি নারী শ্রমিক। তাদের নিরাপত্তা, বেতন বঞ্চনা ও চুক্তি লঙ্ঘনের পাশাপাশি প্রায় ৯৪ শতাংশ শ্রমিক যৌন নির্যাতনের শিকার হন।”
বিদেশগামী নারী শ্রমিকদের অবস্থা গুরুতর হওয়ার কারণগুলি
নারী শ্রমিকদের প্রায় সবাই বিদেশে চলে যাওয়ার সাথে সাথি বেতন বঞ্চনা ও অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সমস্যা প্রায় সবসময় সাথে সাথি আসে। বিএমই পরিসংখ্যানে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী নারী শ্রমিকদের মধ্যে যৌন নির্যাতনের হামলার হার আশ্চর্যজনকভাবে উন্নত হয়েছে। এই সমস্যা কেবল মানুষের নিরাপত্তার জন্য বিপদ নয়, তাদের পরিবার ও বাড়ি জুড়ে ধৈর্য বিপর্যস্ত হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ পরিবর্ধনের কমতি আরও সংকট বাড়াচ্ছে। বিদেশগামী নারী শ্রমিকদের সম্পূর্ণ অবস্থা গুরুতর হওয়ার পিছনে রয়েছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পার্থক্যের কারণ।
নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তাদের নিয়োগকর্তা যাচাই, বীমা ইত্যাদি সাপেক্ষে তাদের জন্য ২৪ ঘণ্টা হটলাইন এবং সেফ হোমের ব্যবস্থা করা হবে কিনা—প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের কাছে জানতে চান এমপি মারদিয়া মমতাজ।
বিদেশগামী নারী শ্রমিকদের সমস্যা সম্পর্কে সংসদে আলোচনার পর সামনে আসে বিষয়টি কতটা বাস্তব। বিএমই রিপোর্টে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের পর সংসদ সদস্যদের অসন্তুষ্টি বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেন যে বিদেশগামী নারী শ্রমিকদের জন্য বর্তমান ব্যবস্থাগুলি যথেষ্ট নয় এবং প্রতিদিন নতুন নতুন বিপদ ঘটছে। নারী শ্রমিকদের মধ্যে যৌন নির্যাতনের হার যদি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না তাহলে তাদের কাছে সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
গভর্নমেন্টের উত্তর ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থা
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “বিদেশে অবস্থানরত নারী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সেখানে যাচাই করা হচ্ছে তাদের নিয়োগকর্তা কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কিনা। তাদের সেবা দেওয়ার জন্য বাইরের দূতাবাসগুলোর মধ্যে প্রতিদিনের নিয়মিত সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।
