বিদ্যুৎ, গ্যাস, বাজার — তিন দিক থেকেই চাপে দমবন্ধ জনজীবন; বিচার-প্রশাসনে অগ্রগতির ছায়াও নেই
Banglabeacon.com – ব চ র ন প রত শ – দেশের শহর-গ্রামে এখন প্রতিদিনের রুটিন হয়ে গেছে বিকল্প আলোয় রান্না করা, লোডশেডিংয়ের ফাঁকে ঠান্ডা পানি খাওয়া, আর বাজারের দামের তালিকা দেখে হাত মুছা। তীব্র গরমের সঙ্গে মিলিয়ে বিদ্যুৎ সংকটের যন্ত্রণা মানুষকে একেবারে অসহায় করে তুলেছে। গ্যাসের অভাবে চুলা জ্বলে না, বিদ্যুতের অভাবে আলো জ্বলে না; হাসপাতালের বেডসাইডে চিকিৎসা চলছে মুঠোফোনের ফ্ল্যাশলাইটে। রাত দুই-তিনটার পর পরবর্তী দিনের খাবার তৈরি করা এখন অনেক পরিবারের বাধ্যতামূলক অভ্যাস। বাজারের অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধি এই চিত্রের ওপর আরও একটা স্তর যোগ করেছে — সাধারণ মানুষের পিঠে প্রতিদিন নতুন একটা ঠেলা।
আইনশৃঙ্খলার অবক্ষয়: চুরি, ডাকাতি, খুন — সব একসাথে
শহরের রাস্তায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি আর খুন বেপরোয়া গতিতে চলছে। দলবাজি ও চাঁদাবাজিও একই তালে। এই দলগুলো নিজেরাই একে অপরকে ভয় পায় না; তাদের মূলমন্ত্র একটাই — ‘দখলদারিত্বই প্রথম’। জনপরিসরে অস্বস্তি, অস্থিরতা আর ক্ষোভের স্তর বেড়েই চলেছে। সরকারকে সময়ে সময়ে ক্ষমা দেওয়ার প্রবণতা থাকলেও অনন্তকাল অপেক্ষার কোনো সুযোগ মানুষের নেই।
বোইংিং-এর আকাশপথ: ১৪টি বিমান আর তারপরে?
এই সব সংকটের মাঝেই একটা ‘চমৎকার’ খবর এসেছে — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আপাতত ১৪টি বোইংিং বিমান আসছে, আর এরপর আরও আসবে, আসতেই থাকবে। প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ ইউনূস এক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে এই সুব্যবস্থা করে গেছেন। নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে দেশের স্বার্থবিরোধী এই চুক্তির বিষয়ে তিনি বিএনপি, জামায়াত এবং নিজের তরুণ তুর্কি দলের সম্মতিও নিয়ে নিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
আন্তর্জাতিক মঞ্চেও এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। সারা বিশ্বকে অস্থিতিশীল করার জন্য পরিচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পও গদগদ হয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং শীঘ্রই দুজনের সাক্ষাৎ হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
এ সপ্তাহেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আরেকটি অভূতপূর্ব চুক্তি করেছেন, যেখানে বাংলাদেশ বোইংিং-এর উড়োজাহাজ কেনার জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যা তাদের আগের অর্ডারের চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি।
এই উদ্ধৃতিটি লিখেছেন সার্জিও গর — যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতে দেশটির রাষ্ট্রদূত। অর্থাৎ, বিমানের সারি থামবে না।
বিচার-প্রশাসনে ‘ধারাবাহিকতা’র প্রশ্ন
জনজীবনের সংকটের পাশাপাশি আরও গুরুতর প্রশ্ন হলো — শান্তি, স্থিতিশীলতা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো অগ্রগতি আছে কি না। জুলাইয়ের কোটা আন্দোলন সরকার উৎখাতের আন্দোলনে রূপান্তরিত হওয়ার অন্যতম মূল কারণ ছিল দীর্ঘ সময়ে আইনের শাসনের অনুপস্থিতি ও বিচারহীনতা, যা বিক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষকেও রাজপথে টেনে আনে। সেই পটভূমিতে এখনও কোনো সুরাহার লক্ষণ নেই।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে বলেছেন:
গত ছয় মাসে বাকস্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং মানবাধিকারের ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ মানবিকতা দেখেছি। একটি বারের জন্য কখনো কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন ঘটেনি।
সরকারি প্রেস ব্রিফিং-এ এমন বক্তব্য স্বাভাবিক; এটাই রেওয়াজ। কিন্তু বাস্তবের দিকে তাকালে ছয় মাসে বাকস্বাধীনতা, আইনের শাসন বা মানবাধিকারের ক্ষেত্রে ইউনূস আমলের কোনো নতুন অগ্রগতি চোখে পড়ে না। বরং সবকিছু দেখে-শুনে মনে হয়, পুরনো ধারাবাহিকতাই চলছে। একমাত্র ব্যতিক্রম — নাগরিক আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত করা। তবে তাতে জনজীবনের সংকট বা আইনের শাসনের অভাবের কোনো সমাধান হয় না।
সাজানো মামলার সারি: মেনন, ইনু, দীপু মনি, নূর
কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের সঙ্গে সম্পর্ক আছে বা ছিল — এই ফালতু অভিযোগে গ্রেপ্তার ও আটক পূর্বের মতোই অব্যাহত। আগের মতোই জুড়ে দেওয়া হচ্ছে বহুল আলোচিত তথাকথিত খুনের মামলা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে যে হাস্যকর খুনের মামলায় বছরের পর বছর রাজনীতিক, সাংবাদিক, অভিনেতা, আমলা, বিচারপতিরা আটক আছেন — এক মামলায় জামিন পেলেও ভিন্ন আরেকটি সাজানো মামলায় নতুন আresar দেখানো হয় — সেই নিবর্তনমূলক ব্যবস্থাও অব্যাহত।
প্রবীণ রাজনীতিবিদ রাশেদ খান মেননের নামে ঢাকা শহরের বিভিন্ন থানায় একাধিক হত্যা মামলা দায়ের করে এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিটি) বিচারকার্য চলছে। হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধেও ঢাকা ও কুষ্টিয়ার একাধিক থানায় বেশ কয়েকটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইসিটিতে ইতোমধ্যে সাজাও দেওয়া হয়েছে।
তবে সবাই জানে — ২০২৪ সালের মন্ত্রিসভায় তারা ছিলেন না, সরকারের নীতিনির্ধারণেও তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে ‘লিপ সার্ভিস’ দেওয়া ছাড়া জোটের কোনো শরিকদের দীর্ঘদিন যাবৎ ভিন্ন কোনো ক্ষমতা ছিল না। শুধুমাত্র নিরবচ্ছিন্নভাবে জামায়াত ও জঙ্গিবাদের কঠোর সমালোচনা করা এবং জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা করা — এই কারণেই ইউনূস আমলে তাদেরকে আটক করে খুনের মামলা জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের ক্ষমতাকেন্দ্রিক ঘনিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও তারা দু’জনেই কঠোর ভাষায় বিএনপিরও সমালোচনা করতেন। তাই আজ বিএনপি আমলেও তাদের উপর ইউনূসীয় প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ অব্যাহত।
আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. দীপু মনির বিরুদ্ধে প্রায় ৭০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার সংখ্যার বহর দেখেই বোঝা যায় তিনি আইনের আওতায় নন, প্রতিশোধের আওতায় আছেন। আইনের সঠিক প্রয়োগ থাকলে এতদিনে অন্তত আসাদুজ্জামান নূর জামিন পেতেন। ঢাকা সহ সারা দেশে হাজারে হাজারে রাজনৈতিক নেতাকর্মী আটক আছেন এবং তাদেরকে জামিনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
আশার শেষ সীমা
মানুষ আশা করেছিল নির্বাচিত সরকার আসার পরে এ ধরনের সাজানো খু
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ব চ র ন প রত শ?
ব চ র ন প রত শ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ব চ র ন প রত শ matter?
ব চ র ন প রত শ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
