বাদ পড়া শিশুদের ফের হামের টিকা দেওয়ার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর | সংবাদ
হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বাদ-পড়া শিশুদের জন্য নতুন টিকাদান অভিযানের ঘোষণা
Banglabeacon.com – ব দ পড় শ শ দ র - দেশজুড়ে হাম রোগের নতুন ঢেউ তৈরি হওয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ঘোষণা দিয়েছেন, প্রথম টিকাদান কার্যক্রম থেকে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে তাদের হাম প্রতিরোধে বিশেষ টিকা দেওয়া হবে। শুক্রবার সকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই বক্তৃতায় তিনি জানান, চলতি মাসের শেষ দিকে আরেকটি পূর্ণাঙ্গ টিকাদান ক্যাম্পেইনও শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
কভারেজ ঘাটতি ও তার ফলাফল
মূল টিকাদান অভিযানের লক্ষ্য ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া। কিন্তু কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর হিসাব দেখে বোঝা যায়, প্রকৃতপক্ষে ১ কোটি ৮৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। সংখ্যা দেখে মনে হতে পারে লক্ষ্য অতিক্রম হয়েছে, তবুও পূর্ণ কভারেজ নিশ্চিত হয়নি। কারণ এই সময়ে নতুন শিশুও জন্ম নিয়েছে, ফলে একটি গণনীয় ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেছেন, এই ঘাটতি তৈরির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ কাজ করেছে। কিছু মায়েরা পরবর্তী ডোজ বা অনুসরণের খবর পাননি। আবার কেউ কাজের চাপে সন্তানকে নিয়ে আসতে পারেননি। স্কুলে সন্তান থাকায় টিকা দেওয়া যায়নি এমন অভিযোগও এসেছে। এই ধরনের ড্রপ-আউটের ফলেই এখন কিছু শিশুর মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে বলে মন্ত্রীর দাবি।
"প্রথমে কিছু শিশু টিকা কার্যক্রম থেকে বাদ পড়েছিল। অনেক মা পরে আর খবর পাননি। কেউ বলেছেন, কাজের কারণে সন্তানকে নিয়ে আসতে পারেননি। আবার কেউ বলেছেন, সন্তান স্কুলে থাকায় টিকা দিতে পারেননি। এভাবেই কিছু শিশু ড্রপ-আউট হয়েছে।"
মপ-আপ ক্যাম্পেইন ও পরবর্তী পদক্ষেপ
২০ মে মূল টিকাদান ক্যাম্পেইন সমাপ্ত হওয়ার পরপরই, অর্থাৎ ২১ মে থেকে মপ-আপ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সিলেট জেলায় এই মপ-আপের মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রার বাইরে আরও ৩ হাজারের বেশি শিশুকে নতুন করে টিকা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, সরকার থেমে নেই এবং চলতি মাসের শেষে পূর্ণাঙ্গভাবে আরেকটি টিকাদান ক্যাম্পেইন চালু করার উদ্দেশ্য রয়েছে।
"এই কারণে আমরা মপ-আপ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছি। আমরা থেমে নেই। ২০ মে মূল ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পর ২১ মে থেকে মপ-আপ কার্যক্রম শুরু করেছি।"
দুর্গম ও হাওর এলাকার বিশেষ চ্যালেঞ্জ
দেশের ভূগোলিক বৈচিত্র্যের কারণে সিলেট ও বান্দরবানের মতো এলাকায় টিকা পৌঁছে দেওয়া সহজ কাজ নয়। বান্দরবানে তাৎক্ষণিকভাবে টিকা সরবরাহ করে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। কিন্তু সিলেটের বিস্তৃত হাওর অঞ্চলে জলবদ্ধতা ও পথ-সংযোগের অভাব থাকায় আলাদা কৌশল প্রয়োজন।
এই প্রেক্ষাপটে মন্ত্রী জানান, তিনি সব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিয়ে দুটি বৈঠকে বসছেন। আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় মূল ক্যাম্পেইনের আগেই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে। হাওর এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে এই পরিকল্পনায়।
"আজ আমি সব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিয়ে দুটি বৈঠকে বসছি। আগামী দুই দিনের মধ্যে আপনাদের প্রতিটি উপজেলায় মূল ক্যাম্পেইনের আগে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করা হবে।"
অবৈধ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
গ্রামাঞ্চলে অবৈধ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযান চলমান। প্রতিটি জেলায় সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে ক্লিনিকগুলোতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে। জরিমানা আর সিলগালা এই অভিযানের প্রধান হাতিয়ার। যেসব প্রতিষ্ঠানে লেবার রুম নেই, ভুয়া সনদধারী ব্যক্তি বা টেকনিশিয়ান অপারেশন করানো হচ্ছে, সেগুলো বন্ধ করা হচ্ছে।
হাসপাতাল পরিদর্শন ও পরিবেশ উন্নয়ন
গত এক মাসে ২৫টিরও বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, যেসব হাসপাতালে গিয়েছেন, সেখানে চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। শুধু চিকিৎসকদের সঙ্গে নয়, রোগীদের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলেছেন তিনি। রোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী, মন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শন শুরু হওয়ার পর চিকিৎসকদের আচরণে উন্নতি এসেছে। খাবারের মানও উন্নত হয়েছে বলে রোগীদের অভিপ্রায়। অনেক হাসপাতালে পোকামাকড় বা তেলাপোকার সমস্যা প্রায় নিরসিত হয়েছে।
"আল্লাহর রহমতে গত এক মাসে আমি ২৫টিরও বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। আমি যেখানে গিয়েছি, প্রায় সব হাসপাতালেই চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি পেয়েছি।"
কোনো হাসপাতালে সমস্যা থাকলে আগামী সাত দিনের মধ্যে তা সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে মন্ত্রী জানান। ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাবারের মান এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
নিজের ঝুঁকি ও সময়ের অনুরোধ
কার্যক্রমের ব্যক্তিগত মূল্য নিয়ে মন্ত্রী স্বীকার করেন, তিনি নিজে ঝুঁকি নিয়ে এসব পরিচালনা করছেন। তবে দ্রুত ফলাফলের চাপে কাজ না করার অনুরোধও জানান তিনি।
"আমি নিজে ঝুঁকি নিয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমাদের একটু সময় দিতে হবে। অন্তত ছয় মাস সময় দিন।"
হাম একটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য রোগ। টিকার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, কিন্তু তাতে সফল হতে হলে প্রতিটি শিশুকে পৌঁছে দিতে হবে — বিশেষ করে যারা প্রথম ধাপে বাদ পড়েছে। মপ-আপ ক্যাম্পেইন ও পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ অভিযান এই ঘাটতি পূরণের মূল হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। প্রশ্ন হলো, এই হাতিয়ার ব্যবহারে সরকার কত দ্রুত ও কত সম্পূর্ণভাবে এগোবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ব দ পড় শ শ দ র?ব দ পড় শ শ দ র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ব দ পড় শ শ দ র matter?ব দ পড় শ শ দ র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.