Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

বর্ষায় বেপরোয়া চোর-ডাকাত, মামলা ৪৭৫৭

Published July 24, 2026 · Updated July 24, 2026 · By John Taylor - banglabeacon.com

Foto : John Taylor - banglabeacon.com

বর্ষাকালে চুরির মামলা বেড়েছে ৪,৭৫৭টি

Banglabeacon.com – বর ষ য় ব পর য় চ - গত ছয় মাসে সারাদেশে চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে ৪,৭৫৭টি। বৈরী আবহাওয়ায় চোররা সুযোগ নিয়ে বাড়ি থেকে চুরি করছে। লক্ষীপুরের বশিকপুরেও এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে। দুই ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে জানালার থাই গ্লাস চুরি হয়েছে।

লক্ষীপুরে চুরির ঘটনা

গত বুধবার গভীর রাতে লক্ষীপুর জেলার বশিকপুর ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামে চুরির ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ী সৈয়দ আহমদ ও মাহফুজুর রহমানের একতলা বাড়ির জানালার ৪-৫টি থাই ফ্রেম খুলে নিয়ে যায় চোরদল। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে এই চুরি করা হয়।

বশিকপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলমপুর গ্রামের আলাউদ্দিন পাটোয়ারি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। বাড়িতে শুধু একজন কেয়ারটেকার থাকে। তারা মাঝে মধ্যে পরিবার নিয়ে বাড়িতে বেড়াতে যান। ঘটনার সময় কেয়ারটেকার বাড়িতে ছিল না। রাতের বৃষ্টির মধ্যেই চুরির ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। পুরনো ঢাকার সদরঘাটে থাকা দুই ব্যবসায়ী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সারাদেশে চুরির পরিসংখ্যান

পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ছয় মাসে সারাদেশে ৪,৭৫৭টি চুরির মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানী থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জ পর্যন্ত চুরি বেড়েছে। গত জুন মাসে রাজধানীতে ৯৭টি চুরির মামলা হয়েছে।

মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে ১৯টি, খুলনায় ১৩টি, রাজশাহীতে ১৬টি, বরিশালে ৫টি, সিলেটে ১৬টি, রংপুরে ১৫টি ও গাজীপুরে ২৩টি মামলা হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক চিত্র

বিভাগভিত্তিক হিসাব দেখা গেছে। ঢাকায় ১১৪টি, ময়মনসিংহে ৪২টি, চট্টগ্রামে ১২৩টি, সিলেটে ৫৮টি, খুলনায় ৯১টি, বরিশালে ২৮টি, রাজশাহীতে ৮৩টি, রংপুরে ৭৮টি ও রেল পুলিশ বিভাগে ৮টি মামলা হয়েছে।

এক মাসে মোট ৮২৯টি চুরির মামলা রেকর্ড হয়েছে। গত পাঁচ মাসে প্রতি মাসে গড়ে ৮০০-এর বেশি মামলা হয়েছে। শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই ৬৩৪টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

চুরির কারণ ও সমাধান

স্থানীয়রা জানান, বেশ কিছু দিন ধরে গ্রাম-গঞ্জে চুরির ঘটনা বেড়েছে। সংঘবদ্ধ মাদকাসক্ত ও অনলাইনে জুয়া খেলা ব্যক্তিরা টাকার জন্য চুরি করছে। ইটাবা এখন গ্রামের বাজার থেকে পাড়া-মহল্লাও বিক্রি হচ্ছে।

পুলিশের একজন অপরাধ বিশেষজ্ঞের মতে, দেশে সামাজিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। কম শিক্ষিত, বেশি শিক্ষিত—এমনকি যাদের কাজ নেই, তারা এখন চুরিকে সহজ উপায় হিসেবে বেছে নিচ্ছে। যারা জুয়া খেলে টাকা নষ্ট করছে, তাদের হাতে টাকা নেই। তাই টাকা সংগ্রহ করতে চুরিকে তারা সহজ পন্থা হিসেবে দেখছে।

অনেকে উগ্র মানসিকতার কারণে স্থানীয় প্রভাবশালীদের পৃষ্ঠপোষকতায় চুরি করে টাকা কামাই করার চেষ্টা করছে। কেউ কেউ প্রতিহিংসার কারণেও এসব কাজ করছে। কাঁচ, থাই গ্লাস, ঘরের বাইরের ঘটি-বাটি সহজেই ভাঙারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা যায়।

চুরির ঘটনার তাদের সম্পর্ক থাকতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, বেকার মানুষের অর্থ সংকট তাদের চুরিকে সহজ উপায় হিসেবে বেছে নিতে বাধ্য করছে। বর্ষাকালের বৈরী আবহাওয়ায় চোর সহজেই চুরি করে পালাতে পারে। শহরের চেয়ে গ্রাম-গঞ্জেই এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, নিজেদের ঘর-বাড়িতে বাড়তি নিরাপত্তার উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে চোরদল সহজে চুরি করতে না পারে। পুলিশ হেডকোয়ার্টারের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রতিটি মামলার ঘটনা পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। মামলা হলে পুলিশ তদন্ত করে আসামি গ্রেপ্তার করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে।