Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের ‘ঘরবাড়ি’ যেন জেলহাজত

Published September 6, 2026 · Updated September 6, 2026 · By John Taylor - banglabeacon.com

Foto : John Taylor - banglabeacon.com

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে জেলখাতার ছায়া: শিক্ষক-কর্মচারীদের ফৌজদারি মামলার নতুন প্রবণতা

Banglabeacon.com – বর শ ল ব শ বব দ - দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত জ্ঞান, গবেষণা ও নৈতিক দায়িত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক কয়েক মাসের অভিজ্ঞতা এই ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। গত এক বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত কয়েকজন শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও নিম্নস্তরের কর্মচারী বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় কারাবাসের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। চেক জালিয়াতি, আর্থিক লেনদেনে অনিয়ম, পারিবারিক সহিংসতা কিংবা সাইবার অপরাধ — মামলার ধরন ভিন্ন হলেও ফলাফল একই: শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জেলহাজতের দরজায় পৌঁছেছেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্পাসে সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের আলাপ-আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন এই 'কারাবাস' সংবাদ। একজন শিক্ষার্থীর মতে, যারা দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব বহন করার কথা, তাদের এমন অপরাধে জড়িয়ে পড়া মাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে গভীরভাবে ক্ষুণ্ণ করে। অনেকে বলছেন, উচ্চশিক্ষার এই বিদ্যাপীঠ এখন অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে — কারণ জামিন পেয়ে তারা আবার ক্লাস-পরীক্ষা বা দাপ্তরিক কাজে ফিরে আসছেন।

মামলার ধরন ও পটভূমি

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বারো মাসে ববির শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বেশিরভাগই ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ, চেকের টাকা পরিশোধ না করার দায়ে আদালতে মামলা হয়েছে। আবার একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে রয়েছে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ। আদালতের নির্দেশে পুলিশ এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠালেও, জামিনে মুক্তি পেয়ে তারা স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসছেন। এই চক্রবৃহত্ত — গ্রেপ্তার, জামিন, কর্মস্থলে ফেরা — ক্যাম্পাসে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করেছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাপঞ্জি

ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শফিকুল ইসলামকে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে তিনি সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় আছেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ চেকের মামলায় পটুয়াখালীর বাউফল থেকে গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে যান। শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের উপপরিচালক সেলিনা আক্তারকে সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলায় আদালত জেলহাজতে পাঠিয়েছে। উল্লেখ্য, তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা সংক্রান্ত সরঞ্জাম ক্রয়ে অনিয়মেরও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক (বাবুর্চি) থেকে শুরু করে নিম্নস্তরের আরও কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে জেলখাতার তথ্য পাওয়া গেছে।

শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া

ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা বলছেন, যাদের হাত ধরে দেশ গড়ার কথা, তাদের এমন ফৌজদারি অপরাধে জড়িয়ে পড়া অত্যন্ত লজ্জাজনক। তারা মনে করেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করছে এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশ্বাসের ভিত্তিকে দুর্বল করছে। উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান যেখানে নৈতিক মানদণ্ডের প্রতীক হওয়ার কথা, সেখানে শিক্ষক-কর্মচারীদের ফৌজদারি মামলায় জড়িয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্ন উত্থাপন করে — ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও নৈতিক পরিবেশ এখন কোথায় দাঁড়িয়ে আছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান

এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন:

ব্যক্তিগত কোনো অপরাধ বা লেনদেনের দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নেবে না। তবে আইনের দৃষ্টিতে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে বা দণ্ডিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, অন্যদের কারাবাসের বিষয়টি দাপ্তরিকভাবে তার কাছে এখনও পৌঁছায়নি। অভিযোগ প্রমাণ সাপেক্ষে সবার বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আব্দুল আলীমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রেক্ষাপট ও প্রভাব

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক-কর্মচারীদের ফৌজদারি মামলায় জড়িয়ে পড়া নতুন ঘটনা নয়, তবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক ঘনত্ব উদ্বেগজনক। একজন শিক্ষক বা কর্মকর্তা যখন জামিনে মুক্তি পেয়ে আবার ক্লাসরুমে বা অফিসে ফিরে আসেন, তখন শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্ন ওঠে — নৈতিক দায়িত্বের প্রশিক্ষক কি নিজেই সেই নৈতিকতার বিরোধী কাজে জড়িয়ে পড়েছেন? এই প্রশ্নের উত্তর না পেলে ক্যাম্পাসের ভিত্তিগত বিশ্বাস ও আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জন্য এটি কেবল একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক প্রতিরূপ, শিক্ষার্থীদের মানসিক নিরাপত্তা এবং সমাজের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। আইন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানকে সতর্কতার সঙ্গে নৈতিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের কাছে স্বচ্ছ তথ্য প্রদানের মাধ্যমে অনিশ্চয়তা দূর করারও প্রয়োজন।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is বর শ ল ব শ বব দ?

বর শ ল ব শ বব দ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does বর শ ল ব শ বব দ matter?

বর শ ল ব শ বব দ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.