Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

প্রধান লেকগুলোর দূষণ ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা | সংবাদ

Published September 17, 2026 · Updated September 17, 2026 · By Michael Brown - banglabeacon.com

Foto : Michael Brown - banglabeacon.com

রাজধানীর প্রধান লেক রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Banglabeacon.com – প রধ ন ল কগ ল র - ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ লেকগুলোকে দূষণমুক্ত রাখতে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন ও ধানমন্ডি লেকের পানি ও পরিবেশের মান ফিরিয়ে আনতে সরাসরি পয়ঃবর্জ্য ফেলা বন্ধ, জমে থাকা আবর্জনা সরানো এবং আধুনিক বর্জ্য শোধনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ বিষয়ে বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রাজধানীর লেকগুলোর বর্তমান পরিবেশগত অবস্থা, দূষণের উৎস এবং স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ বলেন, নগরীর লেকগুলোকে ঘিরে বিদ্যমান সংকট ও তা নিরসনে সম্ভাব্য পরিকল্পনাগুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে।

“রাজধানীর লেকগুলোর বর্তমান অবস্থা, দূষণের প্রধান কারণ ও তা থেকে উত্তরণের নানা পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে সার্বিক আলোচনা হয়েছে।”

পয়ঃবর্জ্যের অবৈধ সংযোগ বন্ধে যৌথ তৎপরতা

গুলশান লেকে দূষিত পানি প্রবেশের ছয়টি প্রাইমারি ও ছয়টি সেকেন্ডারি পয়েন্ট চিহ্নিত হওয়ার বিষয়টি বৈঠকে উঠে আসে। এসব পথ দিয়ে প্রতিদিন দূষিত পানি লেকে মিশছে বলে জানানো হয়। লেকের পানি দূষণের পেছনে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সঙ্গে বৃষ্টির পানির ড্রেন কিংবা লেকের অবৈধ সংযোগ থাকতে পারে বলেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ধরনের সংযোগ শনাক্ত করে দ্রুত বিচ্ছিন্ন করতে ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নগরবাসীর জন্য এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ লেকের সঙ্গে নোংরা পানির সংযোগ অব্যাহত থাকলে শুধু দৃশ্যমান আবর্জনা সরিয়ে দীর্ঘস্থায়ী ফল পাওয়া সম্ভব নয়।

ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালার আওতায় যেসব ভবনে নিজস্ব পয়ঃশোধন প্ল্যান্ট বা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেসব স্থাপনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা কার্যকর করার ওপরও জোর দেওয়া হয়। নিজস্ব এসটিপি চালু হলে ভবন থেকে নির্গত বর্জ্যপানি সরাসরি ড্রেন বা জলাশয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

ভাসমান বর্জ্য অপসারণে নৌকার সংখ্যা বাড়বে

লেকের ওপর জমে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য ভাসমান বর্জ্য দ্রুত সংগ্রহে যান্ত্রিক নৌকার ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে থাকা দুটি নৌকার পরিবর্তে এ সংখ্যা ১০টিতে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে লেকের বিভিন্ন অংশে নিয়মিতভাবে আবর্জনা সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়বে।

লেকের সৌন্দর্য রক্ষার পাশাপাশি পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা, দুর্গন্ধ কমানো এবং জলজ পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও বর্জ্য অপসারণ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ কাজের সঙ্গে উৎসে বর্জ্য ফেলা রোধের উদ্যোগ যুক্ত না হলে একই সমস্যা বারবার দেখা দিতে পারে—বৈঠকের আলোচনায় এমন সমন্বিত ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাই প্রাধান্য পেয়েছে।

ধানমন্ডি লেকের সংস্কার ও পানির মান উন্নয়নের পরিকল্পনা

ধানমন্ডি লেকের সংস্কার কার্যক্রম, তলদেশে জমে থাকা কাদা ও স্লাজ অপসারণ এবং সেখানে নেওয়া পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতিও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে তলদেশে পলি ও বর্জ্য জমলে লেকের ধারণক্ষমতা, পানির স্বাভাবিক গুণমান এবং পরিবেশগত ভারসাম্যে প্রভাব পড়তে পারে। তাই তলদেশ পরিষ্কারের বিষয়টিকে লেক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে এরেটর যন্ত্র স্থাপনের কথা আলোচনায় আসে। পাশাপাশি দুর্গন্ধ কমাতে জৈবিক ও রাসায়নিক পদ্ধতি প্রয়োগের পরিকল্পনাও বিবেচনা করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধু পানির বাহ্যিক চেহারা বদলানো নয়; বরং লেকের পরিবেশকে বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

রাজউকের অধীন লেকগুলোর পরিচর্যায় ৪২ সদস্যের পাঁচটি বিশেষ দল কাজ করছে বলেও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। নিয়মিত পরিচর্যা, দূষণের উৎস চিহ্নিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগি ছাড়া বড় আকারের লেক ব্যবস্থাপনা টেকসই করা কঠিন—এ বাস্তবতাও আলোচনায় প্রতিফলিত হয়েছে।

কারিগরি কমিটির প্রস্তাব বাস্তবায়নে গুরুত্ব

সমস্যা সমাধানে গঠিত কারিগরি কমিটি স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি নানা প্রস্তাব পেশ করেছে। দ্রুত ফল পেতে ভাসমান বর্জ্য অপসারণ ও অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের মতো কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। অন্যদিকে স্থায়ী সমাধানের জন্য ভবনভিত্তিক শোধনব্যবস্থা, নালা ও ড্রেনের কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং লেক রক্ষণাবেক্ষণের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি বলে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর লেকগুলো কেবল বিনোদন বা সৌন্দর্যের উপাদান নয়; নগর পরিবেশেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ কারণে একাধিক সরকারি সংস্থা, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, রাজউক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বিত কাজের ওপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is প রধ ন ল কগ ল র?

প রধ ন ল কগ ল র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does প রধ ন ল কগ ল র matter?

প রধ ন ল কগ ল র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.