পদ্মার গ্রাসে শত বিঘা জমি, শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর শঙ্কায় শ’খানেক পরিবার
পদ্মার তীরে রাজবাড়ীর গোৱালন্দ: এক সপ্তাহে বিলীন ১১০ বিঘা জমি, শত পরিবারের ঘুমহীন রাত
Banglabeacon.com – পদ ম র গ র স শত - বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের নদীতীরবর্তী জনপদে বর্ষা মানে শুধু বৃষ্টি নয় — মানে মাটির নিচ থেকে ওঠা এক ধীরে ধীরে ভয়। পদ্মা নদী প্রতি বছর বর্ষার শুরুতেই তার তীরের কৃষক, শিক্ষার্থী আর সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়ে খেলাধুলা শুরু করে। এবার সেই খেলাধুলায় রাজবাড়ী জেলার গোৱালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ও কাওনিলজানি গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার আবার একবারে ঘুমহীন রাতের শিকার। গত এক সপ্তাহের তীব্র নদীভাঙনে প্রায় ১১০ বিঘা আবাদি জমি পদ্মার গর্ভে চলে গেছে। ধান, পাট, পেঁয়াজ আর মরিচ — যা ছিল এই গ্রামগুলোর একমাত্র আয়ের উৎস — এখন নদীর তলদেশে।
একজন কৃষকের তিনবারের পরাজয়
আব্দুস সামাদ সরদারের জীবন এখন পদ্মার সঙ্গে এক অসম যুদ্ধের ইতিহাস। তিন দশক আগে দেবগ্রামের ভিটে হারিয়েছিলেন তিনি। আঠার বছর আগে সেই একই নদী তার বেথুরীও কেড়ে নিয়েছে। বর্তমানে কাওনিলজানি গ্রামে যেখানে সামাদ সরদার তার পরিবারের সঙ্গে আশ্রয় নিয়েছেন, সেখানেও পদ্মার ঢেউ ঘরের কোণে এসে ঠেকেছে। নদী তীরের এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটে আশ্রয়হীনতার আতঙ্ক তাকে প্রতিদিনের সঙ্গী করেছে।
বাবা, এহন ভাঙলে যাওনের আর কোনো জায়গা নাই। নদী আমাগো ছাইয়া দিচ্ছে না।
কাঁপা গলায় এই কথাগুলো বলেন সামাদ সরদার। তার কথায় প্রতিফলিত হয় হাজারো তীরবর্তী পরিবারের একই ভয় — আরেকটি ভাঙন আরেকটি আশ্রয়হীনতা।
সরেজমিনে ভাঙনের ছবি
গত ৩ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে দেখা যায়, তীব্র স্রোত আর বড় বড় ঢেউ তীরের মাটিকে অস্ত্র করে পাকছে। চোখের পলকেই ধসে পড়ছে কৃষকের বছরের পরিশ্রম। পদ্মার এই আচরণ কোনো নতুন ঘটনা নয়; বরং এটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের নদীতীরবর্তী জনপদের প্রতি-বর্ষার পুনরাবৃত্তি। দেশের মোট নদীভাঙন ক্ষতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রাজবাড়ী, পাবনা, বগুড়া ও নরসিংদী জেলার পদ্মা-তীরে ঘটে। বর্ষার পানি-স্তরের উন্নয়ন, উপরীমের বন্যা-প্লাবন এবং নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ-পরিবর্তন মিলে এই ভাঙনকে ত্বরান্বিত করে।
শিক্ষা, ধর্ম আর স্বাস্থ্য — সবকিছু ঝুঁকিতে
ভাঙনের ঝুঁকিতে এখন রয়েছে মুন্সি বাজার, বেথুরী ও কুশাহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থানীয় মসজিদ, কবরস্থান এবং উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র। বিশেষ করে ২৭ নম্বর বেথুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এর আগে দুবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ সরদার জানান, গত বছরও নদী স্কুল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ছিল; এবার সেই একই নদী স্কুলের দোরগোড়ায়। শিশুদের পাঠ, শিক্ষকদের নিরাপত্তা — সবকিছু এখন এক ঢেউ দূরে।
স্থানীয়দের অভিযোগ: বিলম্বিত সাড়া
গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ — যখন সবকিছু প্রায় শেষ হয়ে যায়, তখনই কর্তৃপক্ষ বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে দেয়। নদীশাসন আন্দোলনের নেতা জামাল মুন্সি এই বিষয়ে সরাসরি বলেন:
ভরা বর্ষায় তাড়াহুড়ো করে জিও ব্যাগ ফেলে লাভ হয় না। স্রোতে মাটিসহ ব্যাগ তলিয়ে যায়। সারা বছর আমাদের কথা কেউ শোনে না।
তার এই বক্তব্য প্রতিফলিত করে তীরবর্তী জনগণের বারবার পুনরাবৃত্তি করা একই অভিযোগ: প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বর্ষার পরে আসে, আর তখন ক্ষতি ইতিমধ্যে হয়ে গেছে।
কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাজমিনুর রহমান জানান, জরুরি ভিত্তিতে ৭২ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার একটি প্রস্তাব প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বর্ষার শুরুতে এবং গত বছর কয়েক হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল এই অঞ্চলে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি পরিষ্কার — এই সাময়িক ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সমাধান নয়। তারা চান স্থায়ী নদীশাসন: বেথুরী মেরামত, তীর-সুরক্ষা বাঁধ, আর বর্ষার আগেই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ।
বৃহত্তর প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে নদী-নির্ভর দেশগুলোর একটি। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা — এই তিন নদীর তীরে কোটি মানুষের জীবিকা নির্ভর করে কৃষি ও মাছ ধরার ওপর। বর্ষার প্রতিটি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নদীভাঙন ঘটে, আর তার ফলে হাজারো পরিবার আশ্রয়হীন হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নদীর প্রবাহ-প্যাটার্নে যে পরিবর্তন আসছে, তা এই ভাঙনকে আরও অনিশ্চিত ও তীব্র করে তুলছে। রাজবাড়ীর গোৱালন্দ উপজেলা এই প্রেক্ষাপটের একটি ছোট্ট কিন্তু জরুরি অধ্যায় — যেখানে শতাধিক পরিবার এখন ঘুমহীন রাত কাটাচ্ছে, আর তাদের একমাত্র আশ্রয় এখনও এক অজানা ভবিষ্যত।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is পদ ম র গ র স শত?পদ ম র গ র স শত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does পদ ম র গ র স শত matter?পদ ম র গ র স শত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.