নির্মূলের দ্বারপ্রান্ত থেকে হামের ভয়াবহতায় বাংলাদেশ: রয়টার্স
নির্মূলের দ্বারপ্রান্ত থেকে হামের নতুন সংকট
Banglabeacon.com – ন র ম ল র দ ব - নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানো হাম নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ একসময় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছিল। শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের হার দীর্ঘদিন ৯৫ শতাংশের কাছাকাছি বা তার বেশি ছিল। তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টিকাদান কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি বদলে গেছে। মার্চ থেকে দেশে হামের বড় প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে এবং রয়টার্সের প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হামের প্রাদুর্ভাবের দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের হাম নিশ্চিত হয়েছে। ১ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। হামের সঙ্গে সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯৯ হলেও পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামের কারণে ১০০ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
টিকাদানের ঘাটতিতে বাড়ছে সংক্রমণের ঝুঁকি
হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, কিন্তু সময়মতো টিকা নিলে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে স্বাস্থ্যসেবা ও নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। কিছু টিকাদান কর্মসূচি পিছিয়ে যায় এবং একটি দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিও বাতিল হয়। টিকা কেনার পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কারণে সরবরাহসংকটও তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হুসাইন।
এর ফলে অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা পায়নি এবং হামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে ওঠেনি। নির্মূলের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে আসার এই ঝুঁকি শুধু শিশুদের মধ্যে সীমিত নয়; যেসব বড় শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক টিকা নেয়নি, তারাও সংক্রমিত হতে পারে। টিকাদানে দীর্ঘ ঘাটতি থাকলে আক্রান্ত একজনের মাধ্যমে দ্রুত অনেক মানুষের মধ্যে রোগ ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়।
সবচেয়ে ঝুঁকিতে ছোট শিশুরা
প্রাদুর্ভাবের শুরুতে আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশ ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। নয় মাসের কম বয়সী শিশুরা সাধারণত হামের টিকা নেওয়ার উপযুক্ত বয়সে পৌঁছায় না, তাই তাদের ঝুঁকি বেশি। একইভাবে, আগে টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুরাও সহজে আক্রান্ত হতে পারে।
আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমানের মতে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের টিকাদানের ঘাটতি বাংলাদেশের হাম নির্মূলের লক্ষ্যে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাসপাতালে চাপ, জরুরি টিকাদান কর্মসূচি
হামের প্রাদুর্ভাবের সময়েই দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ চলায় হাসপাতালগুলোকে দ্বিগুণ চাপ সামলাতে হচ্ছে। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের রোগীদের জন্য ৬০টি শয্যা থাকলেও রোগী বেড়ে যাওয়ায় অনেককে মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। হাসপাতালটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নন্দ দুলাল সাহা জানান, ১ হাজার ৩৫০ রোগীর জন্য তৈরি হাসপাতালে বর্তমানে ২ হাজার ৩৫০ জনের বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি চালু করে। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হলেও পরে ১ কোটি ৯৭ লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে আবার পৌঁছাতে শুধু জরুরি কর্মসূচি যথেষ্ট নয়; নিয়মিত টিকাদানও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে হবে।
প্রশ্নোত্তর
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় কী?
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বয়স অনুযায়ী নিয়মিত টিকা নেওয়া এবং টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনা।
যেসব শিশু আগে টিকা পায়নি, তাদের কী করা উচিত?
অভিভাবকদের নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা টিকাদানকেন্দ্রে যোগাযোগ করে শিশুর টিকার অবস্থা যাচাই করা উচিত। প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শে বকেয়া টিকা সম্পন্ন করতে হবে।
হামের লক্ষণ দেখা দিলে কী করবেন?
জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া বা শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে দেরি না করে চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে হবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ন র ম ল র দ ব?ন র ম ল র দ ব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ন র ম ল র দ ব matter?ন র ম ল র দ ব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.