নাম বিভ্রাটে সাজা ভোগ করছেন নির্দোষ ব্যক্তি
নামের বিভ্রাটে নির্দোষের মৃত্যুদণ্ড: কক্সবাজারে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা
Banglabeacon.com – ন ম ব ভ র ট স - কক্সবাজারের একটি ইয়াবা উদ্ধার মামলায় এক নির্দোষ ব্যক্তি ভুল পরিচয়ে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি ভোগ করছেন। মামলার আসামী অন্য একজন হলেও, নামের মিল থাকায় সোনা মিঞা নামের ওই ব্যক্তি কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন। পুলিশের সাম্প্রতিক তদন্ত প্রতিবেদনে এই ভুলের কথা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও বিস্তারিত
২০২০ সালে কক্সবাজারে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ব্যক্তি নিজেকে 'সোনা মিঞা' হিসেবে পরিচয় দিয়ে অন্যের জন্মনিবন্ধন কার্ড জমা দেন। পুলিশ তদন্তে লক্ষ্য করেছিল যে আসামির নাম-ঠিকানা সঠিক নয়, তবুও মামলা চালু থাকে। ২০২২ সালে আসামী জামিন পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আদালত ওই 'সোনা মিঞা'সহ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দেন। এরপর গত ২৩ জুন র্যাবের একটি দল রামু থেকে সোনা মিঞা নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। কারাগারে যাওয়ার পর তিনি জেল সুপারের মাধ্যমে জানান যে তিনি এই মামলার প্রকৃত সোনা মিঞা নন।
তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদ্ভাবন
আদালতের নির্দেশে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে গত ২ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি এবং বর্তমানের সোনা মিঞা এক নন। তদন্তে জানা গেছে, ২০২০ সালে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির প্রকৃত নাম রমজান। তিনি সোনা মিঞার জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করে প্রতারণা করেছিলেন।
রমজান ও সোনা মিঞা আগে একই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এবং পরে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় একই ঘরে থাকতেন। সেই সুযোগেই রমজান সোনা মিঞার তথ্য হাতিয়ে নেন। পুলিশের নথিতে থাকা ২০২০ সালের আসামির ছবি, স্ত্রী-সন্তানের নাম এবং শারীরিক চিহ্নের সঙ্গে বর্তমানে কারাগারে থাকা সোনা মিঞার কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
আইনজীবী ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান বলেন, 'তদন্তকারী কর্মকর্তা শুরুতেই নাম-ঠিকানা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার পরও প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত না হওয়াটা বড় গাফিলতি। এই সুযোগে আসল অপরাধী পালিয়ে গেছে এবং একজন নির্দোষ মানুষ ফাঁসির রাঁ মাথায় নিয়ে জেল খাটছে।' কারাগারে থাকা সোনা মিঞার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, 'আমার স্বামী আগে কোনোদিন জেল খাটেনি, তার নামে কোনো মামলাও নেই। রমজান নামের একজনের সাথে তার পরিচয় ছিল, ওই লোকই ইয়াবাসহ ধরা পড়েছিল। আমার স্বামীকে ভুল করে এই সাজা দেওয়া হচ্ছে। আমি ন্যায়বিচার চাই।' কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন, যেখানে দুই ব্যক্তির ভিন্নতার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ন ম ব ভ র ট স?ন ম ব ভ র ট স is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ন ম ব ভ র ট স matter?ন ম ব ভ র ট স matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.