Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

নতুন পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন সাড়ে ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী

Published September 2, 2026 · Updated September 2, 2026 · By John Williams - banglabeacon.com

Foto : John Williams - banglabeacon.com

নতুন বেতন কাঠামোয় যুক্ত হচ্ছেন প্রায় ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী

Banglabeacon.com – নত ন প স ক ল অন - দেশের বেসরকারি শিক্ষাখাতে কর্মরত প্রায় ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর বেতন-ভাতা নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা এবার দূর হলো। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন মঙ্গলবার বিকেলে নিজের ভেরিফা৪ড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন যে নতুন পে-স্কেলে এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং তারা সে অনুযায়ীই বেতন-ভাতা গ্রহণ করবেন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নতুন বেতন কাঠামোতে বেতন দেওয়া হবে।

এই ঘোষণা আসার আগেই মন্ত্রিসভা সোমবার বিকেলে 'জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬' অনুমোদন দিয়েছিল। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সন্ধ্যায় আয়োজিত সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল — এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কি নতুন স্কেলে ঢুকবেন। উত্তরে তিনি জানিয়েছিলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এই বক্তব্যের পরপরই দেশজুড়ে প্রায় ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে।

এমপিওভুক্ত শব্দের অর্থ ও প্রাসঙ্গিকতা

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আনার প্রক্রিয়াকে বলা হয় 'এমপিওভুক্তি' — অর্থাৎ মাসিক বেতন ও সুবিধা সরকারের নির্ধারিত স্কেল অনুযায়ী প্রদান করা হয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বেসরকারি খাতেও সরকারি মানদণ্ডের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখা হয়। তবে নতুন স্কেল প্রণয়নের সময় এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে কীভাবে ও কখন অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন চলে আসছিল।

প্রভাবিত জনগোষ্ঠীর আকার

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)র প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বর্তমান পরিস্থিতি এভাবে দেখা যায়:

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৯৮ হাজার। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় পৌনে ২ লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত হিসেবে কাজ করছেন। তিন বিভাগের সম্মিলিত হিসাবে এটি প্রায় ছয় লাখ মানুষের বেতন-ভাতার প্রশ্ন।

জোটের দাবি ও প্রতিক্রিয়া

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বক্তব্যের পর শিক্ষক জোটের পক্ষ থেকে নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবিলম্বে অন্তর্ভুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারির জোরালো দাবি জানানো হয়। সংগঠনের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ীই নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করে আসছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।

বাসিভাটা ও চিকিৎসা ভাতার পরিবর্তন

দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের পাশাপাশি মাত্র ১ হাজার টাকা বাসিভাটা এবং ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পেয়ে আসছিলেন — যা মূল বেতনের তুলনায় প্রায় নামমাত্র। সাম্প্রতিক শিক্ষক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকার একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেয়: বাসিভাটা ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

এই বৃদ্ধির অর্থ দুই ধাপে প্রদান করা হবে। প্রথম ধাপ কার্যকর হবে ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে, আর বাকি অংশ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে প্রযোজ্য হবে। এই ধাপে-ধাপে বাস্তবায়ন নগদ প্রবাহের চাপ কমাতে এবং বাজেট পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রাখতে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

প্রেক্ষাপট ও প্রভাব

নতুন পে-স্কেলের অনুমোদন ও এমপিওভুক্ত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি মিলিয়ে দেখলে, সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাখাতের বেতন কাঠামোতে একটি বড় ধরনের পুনর্গঠন ঘটছে। প্রায় ছয় লাখ মানুষের মাসিক আয় সরাসরি প্রভাবিত হবে। বাসিভাটার ১৫ শতাংশে উন্নীতকরণ মূল বেতনের ওপর নির্ভর করে তাৎক্ষণিকভাবেই আয়ের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি আনবে। তবে দুই ধাপে বাস্তবায়নের ফলে পূর্ণ সুবিধা পাওয়ার জন্য কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রীর স্পষ্ট ঘোষণা এই দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, প্রজ্ঞাপন জারির সময়সীমা এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হবে। শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এটি কেবল একটি বেতন-সংখ্যার প্রশ্ন নয় — এটি পেশাগত মর্যাদা, জীবনযাত্রার মান এবং শিক্ষাখাতে স্থিতিশীলতার প্রশ্ন।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is নত ন প স ক ল অন?

নত ন প স ক ল অন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does নত ন প স ক ল অন matter?

নত ন প স ক ল অন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.