শেরপুরে স্কুলে যাওয়ার পথে দশম শ্রেণীর ছাত্রী নিখোঁজ, পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা
Banglabeacon.com – দ ন দ প র স ক – বগুড়ার শেরপুরে বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর দশম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ১৬ বছর বয়সী ওই ছাত্রীর খোঁজ ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়েও পাওয়া যায়নি। তাকে উদ্ধারে এবং মামলার আসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনাটি এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দিনের আলোয় স্কুলগামী এক কিশোরীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা চরম উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন। শিক্ষার্থীর নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন তার স্বজন ও পরিচিতজনেরা।
২৯ সেপ্টেম্বর সকালে নিখোঁজ হয় শিক্ষার্থী
ওই কিশোরী শেরপুরের মজিবর রহমান মজনু বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল আটটার দিকে তিনি প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের পথে রওনা দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তিনি স্কুলে পৌঁছাননি এবং বাড়িতেও ফেরেননি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, চকপোতা গ্রামের জামাদারের দোকানের সামনে পৌঁছানোর পর আগে থেকে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটকান। এরপর জোরপূর্বক সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে তুলে শেরপুরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থী সময়মতো বিদ্যালয় বা বাড়িতে না পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। তারা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেন। পরিচিতজন, আশপাশের এলাকা এবং অন্যান্য জায়গায় অনুসন্ধান চালিয়েও তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘদিনের উত্ত্যক্তের অভিযোগ
মামলায় প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে চকপোতা গ্রামের মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে মো. রিয়াদ হোসেনকে, যার বয়স ২০ বছর। পরিবারের অভিযোগ, রিয়াদ দীর্ঘ সময় ধরে কিশোরীকে কুপ্রস্তাব ও প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করছিলেন।
বিষয়টি একপর্যায়ে শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরা রিয়াদের পরিবারের সদস্যদের জানান। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এ নিয়ে কথা বলার পর অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় এবং কিশোরীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
এ ধরনের অভিযোগে কিশোরী ও তার পরিবারের নিরাপত্তার প্রশ্নটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্কুলে যাতায়াতের সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সমাজের সবার জন্যই জরুরি বিষয়। তবে বর্তমান ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
শনিবার রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা
ঘটনার পর কয়েক দিন খোঁজাখুঁজির পর শনিবার, ৩ অক্টোবর রাতে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অপহৃত শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন মো. রিয়াদ হোসেন (২০), তার মা মোছা. ফরিদা বেগম (৪০), একই এলাকার মো. হাফিজার রহমান (৫৫), রিয়াদের ভাই মো. জিহাদ হোসেন (২৫) এবং মোছা. কহিনুর বেগম ওরফে জেসমিন (৪০)।
অভিযোগের বিষয়গুলো এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তাধীন। মামলার এজাহারে উল্লিখিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই, নিখোঁজ শিক্ষার্থীর অবস্থান নির্ণয় এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা উদ্ঘাটনের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থার।
মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার তৎপরতার দিকে তাকিয়ে পরিবার
পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরীকে উদ্ধারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভাব্য গতিপথ, পরিচিত যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো যাচাই করা যায়, উদ্ধার তৎপরতায় তত বেশি সহায়ক হতে পারে।
পরিবারের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত কঠিন। কোনো শিক্ষার্থী স্কুলের পথে বেরিয়ে আর না ফিরলে পরিবারের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয় এবং আশপাশের মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কিশোরীর অবস্থান সম্পর্কে যেকোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো তদন্তে সহায়তা করতে পারে।
বিদ্যালয়গামী শিশু-কিশোরীদের ক্ষেত্রে যাতায়াতের পথ, নির্ধারিত সময়ে উপস্থিতি এবং অস্বাভাবিক কোনো পরিস্থিতি দ্রুত পরিবারের নজরে আনা প্রয়োজন। শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে স্কুলে না গেলে প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ এমন ঘটনায় প্রাথমিক অনুসন্ধানকে সহজ করতে পারে।
শেরপুরের এই ঘটনায় এখন প্রধান অগ্রাধিকার হলো নিখোঁজ কিশোরীকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা। পাশাপাশি অভিযোগে উত্থাপিত সব তথ্য যাচাই করে আইনি প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার ও স্থানীয়রা।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is দ ন দ প র স ক?
দ ন দ প র স ক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does দ ন দ প র স ক matter?
দ ন দ প র স ক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
