AMP
Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ঢাকা ক্লাব লাইব্রেরি: শতবছরের কল্লোল

Published August 14, 2026 · Updated August 14, 2026 · By Jennifer Anderson - banglabeacon.com

Foto : Jennifer Anderson - banglabeacon.com

ঢাকা ক্লাবের লাইব্রেরি: শতাব্দীর সাক্ষী

Banglabeacon.com – ঢ ক ক ল ব ল ইব - ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে ঢাকা ক্লাবের নাম অবিভাব্য। ১৯১১ সালে শাহবাগ ও রমনার সবুজাভূমির সান্নিধ্যে এই ক্লাবের যাত্রা শুরু হয়। বৃটিশ সিভিল সার্ভেন্টরা, যারা তখন ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন, নবাবদের বাগানবাড়ি এলাকার বিশাল জমি নিয়ে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে একই ধরনের ক্লাব সংস্কৃতি উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে গড়ে ওঠে। বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিতে কিছুটা দেরি হলেও স্টেশন ক্লাবগুলোর সূচনা ঘটে। বৃটিশ শাসনামল ১৭৬৫ থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত কোম্পানির হাতে থাকে, এরপর ১৮৫৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ঔপনিবেশিক শাসন চলে। এই সময়ে দিল্লি, বোম্বে, পাঞ্জাব ও কলকাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে ইংরেজ স্টেশন ক্লাব গড়ে ওঠে। সেখানে গান-বাজনা, আড্ডা, শাসনকৌশল নিয়ে আলোচনা এবং শারীরিক ব্যায়ামের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়।

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও সদস্যবৃন্দ

ঐতিহাসিক রেকর্ড অনুযায়ী, ১৩১ বছর আগে ঢাকা যখন প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি পায়, তখনই বৃটিশ শাসকরা এখানে ক্লাব গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পর মফস্বল শহর ঢাকাকে নতুন আদলে গড়ে তোলার প্রয়াসে একজন অভিজাত ক্লাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কথিত আছে, প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েকজন বৃটিশ কর্মকর্তা, তিনজন পুলিশ অফিসার এবং ঢাকার একজন করে ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও ব্যাংকারের সম্মিলিত স্বাক্ষরে বাই ল গঠিত হয়। সেকালে সন্ধ্যাকালীন ক্লাবে বিলিয়ার্ডসহ বিভিন্ন ইনডোর খেলার পাশাপাশি নেশাজাতীয় পানীয় সরবরাহ করা হতো। আইনের বই, গল্প, কবিতা ও গানের সংকলনও সেখানে পাওয়া যেত। পরিবারবিহীন তরুণ সিভিল সার্ভেন্টদের একাকীত্ব দূর করতেই এই ধরনের ক্লাব সংস্কৃতির জন্ম।

লাইব্রেরির সমৃদ্ধি ও বর্তমান অবস্থা

ঢাকা ক্লাবের লাইব্রেরি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও মানসম্মত। যদিও এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা কখন শুরু হয়েছিল তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। হরেকরকম বই ও প্রাচীন পত্র-পত্রিকার সংকলন এখানে সংরক্ষিত। দুর্লভ ইতিহাসের সন্ধান পাওয়া যায় এই লাইব্রেরিতে। আগ্রহী পাঠকদের জন্য চমৎকার ব্যবস্থা থাকলেও পাঠক সীমাবদ্ধতার কারণে লাইব্রেরির ব্যবহার তেমন প্রসারিত নয়। ক্লাব সদস্যরাই মূল পাঠক হিসেবে এখানে আসেন, ফলে লাইব্রেরিটি প্রায় সুনশান ও নিস্তব্ধ। বাইরের পাঠকদের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত। প্রবীণ সদস্যগণ, যারা ক্লাবমুখী ও বইবান্ধব ছিলেন, তাদের অনেকেই আর নেই। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মানুষ ঘরে বসেই পছন্দের বই পড়তে পারে। মৌলিক গবেষণার কাজও আর আগের মতো আন্তরিকতার সাথে হয় না। ফলে দেশের অসংখ্য লাইব্রেরি পাঠক হারিয়ে অতীতের জৌলুশ হারানোর শঙ্কায় পড়েছে।

বর্তমানে ঢাকা ক্লাব লাইব্রেরিতে মোট বইয়ের সংখ্যা ১৮,১০০-এর কাছাকাছি। বাংলা বইয়ের সংখ্যা ১০,২২২টি, ইংরেজি বই ৭,৮৭৮টি। গল্প ও উপন্যাসের সংখ্যা ৪,৩৬৮টি, ফিকশন ৪,৩১০টি। মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস ও রাজনীতি বিষয়ক বই মিলিয়ে ১,১৪২টি, অর্থনীতি ২২৯টি, স্পোর্টস ১৪০টি, রেফারেন্স বই ১,১৬২টি, ছোটদের বই ৬৪৭টি, আত্মজীবনী ১৮৫টি। এই মূল্যবান বইগুলো সংরক্ষণের জন্য ৫৪টি বুক শেলফ এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রয়েছে। লাইব্রেরিয়ার হিসেবে একাধিক কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন। শেলফে দাঁড়ানো শত শত বই যেন অচেনা পাঠকের স্পর্শের অপেক্ষায় আছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার 'লাইব্রেরি' প্রবন্ধে লিখেছেন, 'শঙ্খের মধ্যে যেমন সমুদ্রের শব্দ শোনা যায়, তেমনি এই লাইব্রেরির মধ্যে কি হৃদয়ের উত্থান পতনের শব্দ শুনিতেছ? এখানে জীবিত ও মৃত ব্যক্তির হৃদয় পাশাপাশি একপাশে বাস করিতেছে'।

ঢাকা ক্লাব লাইব্রেরিতে হাজার হাজার বইয়ের কাতারে বিখ্যাত ও প্রথিতযশা লেখকদের বই রয়েছে। যারা নিজেদের ক্লাব সদস্য হিসেবে সৌজন্য কপি হিসেবে বই উপহার দিয়েছেন। অনেক লেখক আর নেই, কিন্তু তাদের স্বাক্ষরিত বই অক্ষয় স্মৃতি হিসেবে রয়েছে। এই লাইব্রেরিতে বাংলা সাহিত্যের চিরায়ত ও কালোত্তীর্ণ বইয়ের প্রথম প্রকাশিত সংখ্যাগুলো রয়েছে, যা দেশের অন্য কোনো বইয়ের দোকানে সহজে পাওয়া যায় না।

উদাহরণ হিসেবে দুটি বইয়ের কথা বলা যায়। প্রথমটি হলো ভ্রমণ কাহিনি লেখক ও সাংবাদিক যাযাবর (বিনয় মুখোপাধ্যায়)-এর 'দৃষ্টিপাত' বই, যা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৫৩ বঙ্গাব্দ বা ১৯৪৭ সালে। প্রকাশক নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা। মূল্য তিন টাকা। দ্বিতীয়টি হলো সৈয়দ মুজতবা আলী-এর প্রথম বই 'দেশে-বিদেশে', যার প্রথম প্রকাশকাল ১৩৫৬ বঙ্গাব্দ বা ১৯৪৯ সাল। প্রকাশক একই। বইটির মূল্য পাঁচ টাকা ধরা হয়। উল্লেখ্য, বইয়ের প্রথম প্রকাশকালে লেখকের নাম ড. সৈয়দ মুজতবা আলী লেখা ছিল। পরবর্তীকালে তিনি 'ডক্টর' শব্দটি আর ব্যবহার করেননি।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ঢ ক ক ল ব ল ইব?

ঢ ক ক ল ব ল ইব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ঢ ক ক ল ব ল ইব matter?

ঢ ক ক ল ব ল ইব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.