Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

টানা বৃষ্টিতেই ৭ মহাসাগর সৃষ্টি! কবে, কীভাবে

Published July 10, 2026 · Updated July 21, 2026 · By Jennifer Anderson - banglabeacon.com

Foto : Jennifer Anderson - banglabeacon.com

পৃথিবীর আদি ইতিহাসে বৃষ্টির গুরুত্ব

Banglabeacon.com – ট ন ব ষ ট ত ই - ঢাকার প্রান্তর টানা কয়েক দিন বৃষ্টির মুখে পড়েছে যাতে মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙতে বসেছে। জলাবদ্ধতা, যানজট এবং ভেজা কাপড় প্রভৃতি সমস্যা বিপর্যয়ের চেয়ে বেশি অনুভূত হয়। কিন্তু কি জন্মের ইতিহাসে পৃথিবীতে বৃষ্টি ছিল কয়েক মাস বা কয়েক দিন নয়, বরং ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ গ্রহটি জলময় হয়ে আসে বলে ধারণা করা হয়েছিল?

বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবী যখন তরল পানি ছাড়া ছিল তখন আবহাওয়া অফিসও ছিল না। কারণ সেই সময় মানুষ অস্তিত্ব পায়নি। পৃথিবীর আদি সময় গুরুত্বপূর্ণ ছিল না বরং সবাই অগ্নিতে ভাসছিল। বিশ্লেষণ করে গবেষকরা মনে করেন যে পৃথিবী অনেক আগেই ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল।

প্রাচীন তথ্য ও বিজ্ঞানীদের মত

পৃথিবীর জন্ম হয়েছিল প্রায় ৪৫৪ কোটি বছর আগে। তখন সমুদ্র বা নদী ছিল না। বাষ্প হিসেবে বায়ুমণ্ডলে ভেসে বেড়াত তরল পানি। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমে গেলে বৃষ্টি হতে শুরু করে। এই বৃষ্টি ছিল কোটি বছরের পরিবর্তনের অংশ। তাপমাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বাষ্প আর আকাশে ধরে রাখা সম্ভব হয় না। সেই অবস্থায় ধীরে ধীরে প্রথম মহাসাগর গঠিত হয়।

বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবী ঠান্ডা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ কোনো এক দিনের ঘটনা নয়।

অস্ট্রেলিয়ার প্রাচীন জিরকন খনিজ বিশ্লেষণ করে গবেষকরা প্রমাণ পেয়েছেন যে পৃথিবী অত্যন্ত শক্তিশালী আঘাতে কেঁপে উঠত। কোনো কোনো আঘাত এত শক্তিশালী ছিল যে আগে তৈরি হওয়া সমুদ্র আবার বাষ্পে পরিণত হয়ে যেতে পারত। পৃথিবী আবার ঠান্ডা হত, আবার মেঘ তৈরি হত, আবার বৃষ্টি নেমে আসত।

সেই দীর্ঘ বৃষ্টি না হলে সমুদ্র হতো না, আর সমুদ্র না থাকলে জীবনের ইতিহাসও অন্যরকম হতো। এখন আমরা তিন দিনের বৃষ্টি বা সাত দিনের বৃষ্টিতে অতিষ্ঠ হই। কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাসে বৃষ্টি ছিল সৃষ্টির ভাষা। এই বৃষ্টি পৃথিবীর প্রথম মহাসাগর গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

হয়তো বৃষ্টি এত লম্বা ছিল যে কোনো মানুষ তাকে আর দেখতে পায়নি। কিন্তু সেই অদেখা বর্ষণের ফোঁটাগুলোই ছিল মহাসাগর গঠনের জন্য সাহায্যকারী। আজ মানুষ সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে একই প্রশ্ন করে যে আর কতক্ষণ বৃষ্টি হবে তা জানতে চায়।

সূত্র: নাসা