Bangladesh

জামায়াতের ওপর নির্ভর করছে আ. লীগের ফিরে আসা : রাশেদ খান

Techtaranga.com_17892200706720

কুষ্টিয়ায় আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাশেদ খানের বক্তব্য

Banglabeacon.com – জ ম য় ত র ওপর ন – বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন, জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা এবং জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙা কবরস্থানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খানের বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। তাঁর ভাষ্য, আওয়ামী লীগকে পুনরায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় করার কোনো সুযোগ তৈরি করা উচিত নয়। তিনি দাবি করেন, দলটি দেশে গণহত্যা চালিয়েছে এবং এ বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিসর ও জাতিসংঘে স্বীকৃত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

“আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে যে গণহত্যা চালিয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে ও জাতিসংঘে তার স্বীকৃতি রয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ফেরার আর নতুন করে সুযোগ নেই।”

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে মন্তব্য

শেখ হাসিনা দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খান। এ ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী পরোক্ষ সহায়তা করছে—এমন অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলে সেটি আওয়ামী লীগের ফিরে আসার পথ প্রশস্ত করতে পারে।

“আওয়ামী লীগের অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে; শত শত ডিসেম্বর এলেও শেখ হাসিনা আর দেশে ফিরতে পারবেন না।”

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের ভেতরে উত্তেজনা ও বিভাজন বাড়লে তার রাজনৈতিক ফল বহুমুখী হতে পারে। তাই দলগুলোর কর্মসূচি নির্ধারণে জনস্বার্থ, আইনশৃঙ্খলা এবং সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জ্বালানি সংকটের কর্মসূচি নিয়ে সমালোচনা

জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের সমালোচনা করেন রাশেদ খান। তাঁর বক্তব্য, জ্বালানি সমস্যা কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর বিষয় নয়; এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি সংকট। ফলে এ ইস্যুকে রাজনৈতিক কর্মসূচির হাতিয়ার করে রাষ্ট্রকে অস্থির করা হলে তার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপরও পড়তে পারে।

“জ্বালানি সংকট একটি জাতীয় সমস্যা। এই সংকটকে পুঁজি করে আন্দোলন ও রাষ্ট্রকে অশান্ত করা হলে কেবল আওয়ামী লীগের ফেরার সুযোগ তৈরি হবে।”

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা অপেক্ষা করছেন জামায়াত কত দ্রুত রাষ্ট্রে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাঁর দৃষ্টিতে, রাজনৈতিক বিরোধিতা করতে গিয়ে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে পুরোনো ক্ষমতাকাঠামো আবার সুবিধা পায়।

জ্বালানি সরবরাহ, মূল্য এবং নাগরিক ভোগান্তির মতো বিষয় সাধারণত মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এ ধরনের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য ও আন্দোলন জনপরিসরে আলোচনার জন্ম দিলেও, রাশেদ খান শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের ওপর জোর দেন।

জামায়াতের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান

জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে রাশেদ খান বলেন, দলটি যদি আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে অতীতের মতো আন্দোলনের পরিকল্পনা করে, তাহলে জনসাধারণ তার বিরোধিতা করবে। তিনি ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের উল্লেখ করে বলেন, এমন কোনো কৌশল গ্রহণ করা হলে জনগণ জামায়াতের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেবে।

“জামায়াত যদি মনে করে আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়ে ‘৯৬-এর মতো বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে, তবে এ দেশের জনগণ তাদের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়াবে।”

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক হলেও রাষ্ট্র পরিচালনা, জননিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রশ্নে সংযমের প্রয়োজন রয়েছে—রাশেদ খানের বক্তব্যে এমন অবস্থানই উঠে আসে। তিনি মনে করেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

আবরারের স্মৃতি ও বিচার প্রসঙ্গ

আবরার ফাহাদের স্মৃতিকে সামনে রেখে বিএনপি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন রাশেদ খান। তাঁর বক্তব্য, শহীদ আবরার ফাহাদের চেতনা বাস্তবায়নে কাজ চলমান রয়েছে। কুষ্টিয়ায় শহীদ আবরার স্টেডিয়াম প্রতিষ্ঠাসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নামে হল ও স্থাপনা করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আবরার হত্যাকাণ্ডের বিচার দেশের মাটিতেই নিশ্চিত করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর মতে, আবরারের স্মৃতি শুধু একটি ব্যক্তিগত শোকের বিষয় নয়; এটি ন্যায়বিচার, নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন এবং মতপ্রকাশের পরিবেশ নিয়ে জনআকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

কবর জিয়ারতের সময় শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার।

রায়ডাঙা কবরস্থানে এই সফর রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি আবরারের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশের একটি উপলক্ষ হয়ে ওঠে। রাশেদ খানের বক্তব্যে একদিকে ছিল আবরার হত্যার বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে ছিল দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে তাঁর উদ্বেগ ও দলগুলোর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান।

Frequently Asked Questions

What is জ ম য় ত র ওপর ন?

জ ম য় ত র ওপর ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does জ ম য় ত র ওপর ন matter?

জ ম য় ত র ওপর ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *