Bangladesh

জানুয়ারির প্রথম অধিবেশনে আসছে সংবিধান সংশোধন বিল

Techtaranga.com_17905267908232

জানুয়ারির প্রথম অধিবেশনেই সংবিধান সংশোধন বিল আনার প্রস্তুতি

Banglabeacon.com – জ ন য় র র প রথম – জুলাই জাতীয় সনদকে সামনে রেখে সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে ডিসেম্বরের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয় খসড়া বিল তৈরি করবে এবং আগামী বছরের জানুয়ারিতে সংসদের প্রথম অধিবেশনে সেটি উত্থাপনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

রবিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের গণমাধ্যম সেন্টারে সংবিধান সংশোধন কমিটির তৃতীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিটির আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, সংশোধনের প্রশ্নে জুলাই জাতীয় সনদই অগ্রাধিকারের জায়গায় থাকবে। একই সঙ্গে নির্বাচনি ইশতেহারের মাধ্যমে যে বিষয়গুলোতে জনসমর্থনের ম্যান্ডেট পাওয়া হয়েছে, সেগুলোও বিবেচনায় রাখা হবে।

“আমাদের মূল অগ্রাধিকার হলো জুলাই জাতীয় সনদ।”

মূলনীতিতে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা পুনঃস্থাপনের কথা

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮-এ বিষয়টি যুক্ত করেছিলেন। এটি নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংবিধানের মূলনীতি সংক্রান্ত অনুচ্ছেদে পরিবর্তন কেবল ভাষাগত সংশোধন নয়; রাষ্ট্রের আদর্শগত অবস্থান, আইন প্রণয়নের দিকনির্দেশনা এবং সাংবিধানিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব থাকতে পারে। সে কারণেই এ ধরনের সংশোধনী নিয়ে সংসদীয় আলোচনার পাশাপাশি জনমতের প্রশ্নটি বিশেষভাবে সামনে আসছে।

কমিটির প্রতিবেদন থেকে সংসদে বিল

কমিটির আহ্বায়ক জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট সংসদে দেওয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সেই রিপোর্টকে ভিত্তি করে আইন মন্ত্রণালয় বিলের ভাষা ও কাঠামো প্রস্তুত করে সংসদে পাঠাবে। জানুয়ারির প্রথম অধিবেশনে বিলটি উত্থাপিত হলে সদস্যদের আলোচনার সুযোগ থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনীও আনা যেতে পারে।

বিল উত্থাপনের পর তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধন কার্যকর হবে না। দীর্ঘ আলোচনা, প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে মতবিনিময় এবং সংসদে বিল পাসের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর গণভোটের বিষয়টি কার্যকর হবে। অর্থাৎ আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক ধাপের সঙ্গে জনগণের সরাসরি মতামত নেওয়ার ব্যবস্থাও যুক্ত হতে পারে।

“আশা করা যাচ্ছে, আগামী বছরের জানুয়ারিতে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এই বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হবে।”

গণভোটের প্রয়োজনীয়তা ও অনুচ্ছেদ ১৪২

গণভোটের প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল হয়েছে। এর ফলে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ আবার কার্যকর অবস্থায় ফিরে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই অনুচ্ছেদের প্রেক্ষাপটে সংবিধানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে জনগণের অনুমোদন অপরিহার্য হতে পারে। সম্ভাব্য সংশোধনের আলোচনায় প্রস্তাবনা ছাড়াও অনুচ্ছেদ ৮, ৪৮, ৫৬ এবং ১৪২-এর নাম উঠে এসেছে। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে এসব গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের বিষয়ে জনগণ গণভোটে মত জানাবেন—এমন বিধানের কথাই তিনি তুলে ধরেন।

গণভোট হলে ভোটারদের সামনে মূল প্রশ্নটি পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করা জরুরি হবে। কোন কোন অনুচ্ছেদ বদলানো হচ্ছে, সংশোধনের উদ্দেশ্য কী এবং তার সাংবিধানিক ফল কী হতে পারে—এসব বিষয়ে জনসচেতনতা থাকা প্রয়োজন। সংসদে পাস হওয়া বিলের চূড়ান্ত গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে গণভোট তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে কাজ করবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে বিএনপির প্রস্তাব

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সুরক্ষার বিষয়েও বিএনপির পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দলটির বক্তব্য হলো, যে ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তারা ১৭ বছর ধরে রাজপথে আপসহীন আন্দোলন করেছে, সেটি যেন ভবিষ্যতে কোনো সংসদ সহজে দলীয় প্রয়োজনে বাতিল বা বদলে দিতে না পারে।

এ জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সম্পর্কিত অনুচ্ছেদে পরবর্তীতে কোনো পরিবর্তন আনতে হলেও গণভোট বাধ্যতামূলক করার আইনি বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ, শুধু সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেই এমন পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না; জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতও লাগবে।

“ভবিষ্যতের কোনো সংসদ যেন দলীয় স্বার্থে তা সহজে বাতিল বা পরিবর্তন করতে না পারে।”

সংবিধান সংশোধনের এই উদ্যোগে কয়েকটি বিষয় পাশাপাশি গুরুত্ব পাচ্ছে—জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার সুরক্ষা। কমিটির প্রতিবেদন, আইন মন্ত্রণালয়ের বিল প্রস্তুত, সংসদীয় বিতর্ক এবং গণভোট—প্রতিটি ধাপের মধ্য দিয়েই প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।

Frequently Asked Questions

What is জ ন য় র র প রথম?

জ ন য় র র প রথম is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does জ ন য় র র প রথম matter?

জ ন য় র র প রথম matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *