চার দপ্তরের দায়িত্বে এক ইউএনও, সেবা প্রার্থীদের ভোগান্তি
ধর্মপাশা ও মধ্যনগরে কর্মকর্তা সংকটে প্রশাসনিক সেবা ব্যাহত
Banglabeacon.com – চ র দপ তর র দ য - সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় প্রশাসনিক কর্মকর্তার শূন্যতার প্রভাব এখন সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায়কে একই সঙ্গে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে দুই উপজেলার প্রশাসনিক কাজ, ভূমি-সংক্রান্ত সেবা এবং বিচারিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
জনি রায় ধর্মপাশার স্থায়ী ইউএনও হিসেবে দায়িত্বে থাকলেও অতিরিক্তভাবে মধ্যনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত ইউএনওর দায়িত্বও পালন করছেন। পাশাপাশি ধর্মপাশা ও মধ্যনগর—দুই উপজেলারই সহকারী কমিশনার (ভূমি), অর্থাৎ এসিল্যান্ডের দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত রয়েছে। ফলে একজন কর্মকর্তাকেই দুই উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কাজ ভাগাভাগি করে পরিচালনা করতে হচ্ছে।
ভূমি সেবায় অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা
দুই উপজেলায় এসিল্যান্ড পদ শূন্য থাকায় ভূমি-সংশ্লিষ্ট নানা কাজ সময়মতো সম্পন্ন হচ্ছে না বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। নামজারি, খতিয়ানসহ জমির মালিকানা ও রেকর্ড সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেতে মানুষকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এসব নথি বিলম্বিত হওয়ায় জমি কেনাবেচার অনেক প্রক্রিয়াও আটকে যাচ্ছে।
ভূমির কাগজপত্র কেবল ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিষয় নয়; ব্যাংক ঋণ নেওয়া, জমি বন্ধক রাখা, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির কাগজ হালনাগাদ করা কিংবা অন্য অনেক আর্থিক কাজে এসব নথি প্রয়োজন হয়। তাই দাপ্তরিক জটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন জমির মালিক, ক্রেতা-বিক্রেতা এবং ঋণপ্রত্যাশী মানুষজন।
সেবাগ্রহীতাদের ভাষ্য, একজন কর্মকর্তার পক্ষে দুই উপজেলার সব সভা, মাঠপর্যায়ের তদারকি, প্রশাসনিক ফাইল, ভূমি সংক্রান্ত শুনানি এবং জরুরি দায়িত্ব সমানভাবে সামলানো কঠিন। নির্দিষ্ট দিনে প্রয়োজনীয় কর্মকর্তাকে না পাওয়ার কারণে অনেককে বারবার অফিসে যেতে হচ্ছে। এতে সময়, অর্থ ও শ্রমের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
নিয়মিত তদারকির অভাবে উদ্বেগ
স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক নজরদারি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকেরা। তাঁদের মতে, ভূমি অফিস ও মাঠ প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি কমে গেলে বিভিন্ন অনিয়মের সুযোগ বাড়ে। দুই উপজেলায় নদী ও খাল থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা, পুকুর ভরাট এবং খাসজমি দখলের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
খাসজমি রক্ষা, পরিবেশবিধি মানা এবং সরকারি সম্পত্তি তদারকির মতো বিষয়ে মাঠ প্রশাসনের সক্রিয় উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। একই কর্মকর্তা যখন একাধিক কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকেন, তখন সব এলাকায় সমান সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। এ কারণে স্থায়ীভাবে প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জোরালো হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত এসিল্যান্ড নিয়োগ হলে ভূমি সংক্রান্ত আবেদন, নামজারি ও রেকর্ডের জট কমবে। একই সঙ্গে ইউএনওদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপও কিছুটা হ্রাস পাবে। এতে দুই উপজেলার স্বাভাবিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ফিরিয়ে আনা সহজ হবে।
ইউএনও বলছেন, সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে
অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন ধর্মপাশা ও মধ্যনগরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও জনি রায়। তিনি জানিয়েছেন, পদগুলো খালি থাকায় আপাতত তাঁকেই দুই উপজেলার দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। প্রশাসনিক ও ভূমি সেবা যাতে পুরোপুরি বন্ধ না হয়, সে লক্ষ্যেই তিনি সময় ভাগ করে কাজ করছেন।
উভয় উপজেলায় এসিল্যান্ড না থাকায় সাময়িকভাবে আমাকে এই অতিরিক্ত দায়িত্বগুলো পালন করতে হচ্ছে। পদগুলো শূন্য থাকলেও আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যাতে সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক ও ভূমি সংক্রান্ত সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিঘ্ন না ঘটে। প্রতিদিন সময় ভাগ করে দুই উপজেলার দাপ্তরিক কাজ করছি। তবে একাধিক পদের দায়িত্ব একসাথে সামলাতে গিয়ে কাজের চাপ অনেকটাই বেড়ে গেছে।
একজন ইউএনওর দায়িত্বের মধ্যে সাধারণত উপজেলা প্রশাসনের সামগ্রিক সমন্বয়, সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়ন, বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ এবং জনসেবামূলক কাজের তদারকি থাকে। এর সঙ্গে আরেকটি উপজেলার ইউএনও এবং দুই উপজেলার এসিল্যান্ডের দায়িত্ব যুক্ত হওয়ায় কাজের পরিধি বহুগুণ বেড়েছে।
স্থায়ী পদায়নের উদ্যোগের কথা প্রশাসনের
শূন্য পদ পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। তাঁর বক্তব্য, ধর্মপাশা ও মধ্যনগরের পদগুলোতে স্থায়ী কর্মকর্তা পাঠানোর জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
দুই উপজেলার শূন্য পদগুলোতে স্থায়ী কর্মকর্তা পদায়নের জন্য ইতিমধ্যেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই শূন্য পদগুলোতে স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে।
দুই উপজেলার মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুত স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে সেবার গতি ফিরবে। বিশেষ করে ভূমি অফিসের কাজ নিয়মিত হলে নামজারি, খতিয়ান এবং জমি লেনদেনের সঙ্গে জড়িত দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে। একই সঙ্গে প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের তদারকিও আরও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন তারা।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is চ র দপ তর র দ য?চ র দপ তর র দ য is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does চ র দপ তর র দ য matter?চ র দপ তর র দ য matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.