Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোরে গ্রেপ্তার

Published July 29, 2026 · Updated August 2, 2026 · By Jennifer Anderson - banglabeacon.com

Foto : Jennifer Anderson - banglabeacon.com

যশোর থেকে গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের বিখ্যাত ডেভিড ইমন

Banglabeacon.com – চট টগ র ম র শ র - চট্টগ্রামের সন্ত্রাস জগতের এক নামী ব্যক্তি মোবারক হোসেন, যিনি ডেভিড ইমন নামে পরিচিত, গত মঙ্গলবার রাতে যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চেকপোস্ট স্থাপন করে পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করে। যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যৌথভাবে যশোর ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ এই অপারেশনে অংশ নিয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত ইমনকে চট্টগ্রাম পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

পূর্ববর্তী ঘটনা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম

গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রামে একটি ইন্টারনেট সেবাপ্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে দুই দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল ডেভিড ইমন। নির্ধারিত সময়ে চাঁদা না পাওয়ায় তার নির্দেশে চন্দনপুরার ওই ইন্টারনেট অফিসে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী অন্তত ৩০ জন সন্ত্রাসী অংশ নিয়েছিল।

জীবন ও কর্মকাণ্ডের ইতিহাস

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে চট্টগ্রামে ডেভিড ইমন নামে কাউকে চেনা ছিল না। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ গ্রুপের সদস্য হিসেবে অপরাধ জগতে তার পরিচিতি গড়ে ওঠে। ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। সাধারণ কৃষকের ঘরে জন্ম নেওয়া ইমন অল্প বয়সেই কিশোর গ্যাংয়ের সাথে যুক্ত হন। সাজ্জাদের গ্রুপে যোগদানের পর একাধিক হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ায় তার নজরে আসে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামে সাজ্জাদ আলী খানের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাঁদার চাপ

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমন বাহিনী গত এক মাসে ইন্টারনেট সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ১ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করেছে। বিশেষ করে অক্সিজেন, মুরাদপুর, জিইসির মোড়, বায়েজিদ বোস্তামী ও পাঁচলাইশ এলাকা থেকে প্রতিটি কোম্পানির মালিককে ফোন করে হুমকি দিয়ে এই চাঁদা আদায় করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রতিবাদ ছাড়াই চাঁদা দিয়ে গেছেন।

সাজ্জাদ আলী খানের গ্রুপে বর্তমানে অর্ধশতাধিক তরুণ রয়েছে। নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলায় এই চক্রের প্রভাব বেশি। এর আগে 'ছোট সাজ্জাদ' ওরফে সাজ্জাদ হোসেন এ গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন। ছোট সাজ্জাদ বর্তমানে কারাগারে থাকায় মোবারক হোসেন ইমন ও মোহাম্মদ রশিদ আলম নগরী ও জেলাকে ভাগ করে পৃথকভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বিভাগের নেতারা ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হামলা নিয়ে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইএসপি মালিক ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি, টেলিফোনে হুমকি এবং দাবি পূরণ না হলে হামলার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে, যা আইএসপি শিল্পের জন্য গভীর নিরাপত্তা সংকটের ইঙ্গিত বহন করছে।