গ্যাস সংকটে বিদ্যুতের বেহাল অবস্থা
গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত, বাড়ছে লোডশেডিং
Banglabeacon.com – গ য স স কট ব দ - চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ খাতে চাপ বাড়ছে। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমলেও বিদ্যুৎ, শিল্প ও অন্যান্য খাতে চাহিদা বাড়ছে। ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি করে ঘাটতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চললেও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় গ্যাস পৌঁছানো যাচ্ছে না। ফলে সাশ্রয়ী গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং দেখা দিচ্ছে।
বিপিডিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দেশে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ৬৩৬ মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন হয় ১৪ হাজার ৮৩৯ মেগাওয়াট, ফলে লোডশেডিং দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৯৭ মেগাওয়াটে। গ্যাস সংকটের কারণে ওই দিন ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের বেশি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আদানির সরবরাহ ও রামপালের ত্রুটির প্রভাব
ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ কমে গেলে দেশের পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়। কেন্দ্রটির একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর উৎপাদন ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়। পরে মেরামত শেষে ইউনিটটি আবার জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করলে সরবরাহ বাড়তে থাকে।
রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আদানির দুই ইউনিট মিলিয়ে ১ হাজার ৪৫৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। একই সময়ে আদানির কেন্দ্রসহ ভারত থেকে মোট ২ হাজার ৫২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসে। তবে বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি কারণে বন্ধ হওয়ায় কেন্দ্রটির উৎপাদন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি থেকে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়।
গ্যাসের চাহিদা, সরবরাহ ও জ্বালানি নিরাপত্তা
পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়, যার মধ্যে এলএনজি আমদানির মাধ্যমে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। উৎপাদন কম থাকায় বিদ্যুৎ, শিল্প, আবাসিক, বাণিজ্যিক, সিএনজি ও সার খাতে রেশনিং করে গ্যাস বিতরণ করতে হচ্ছে।
দেশে গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও প্রয়োজনমতো জ্বালানি না পাওয়ায় সক্ষমতার বড় অংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় গ্যাস সংকট শুধু বিদ্যুতের ঘাটতি বাড়াচ্ছে না, উৎপাদন ব্যয় ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও চাপ তৈরি করছে।
ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলমের মতে, শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বা উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোকে সাফল্যের মানদণ্ড না ধরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় এবং ভোক্তার সেবামূল্যকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
প্রশ্নোত্তর
গ্যাস সংকট কেন বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রভাব ফেলে?
দেশের বহু বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাসনির্ভর। এসব কেন্দ্রে পর্যাপ্ত গ্যাস না পৌঁছালে উৎপাদন কমে যায়, ফলে চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান বাড়ে এবং লোডশেডিং হতে পারে।
এলএনজি আমদানি করেও কেন ঘাটতি থাকে?
এলএনজি আমদানি গ্যাস সরবরাহে সহায়তা করলেও দেশের মোট চাহিদার তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন খাতে চাহিদা বাড়ার কারণে গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি দূর করা যাচ্ছে না।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে কী গুরুত্বপূর্ণ?
নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধান, কয়লার নিরবচ্ছিন্ন জোগান এবং কম ব্যয়ের উৎপাদনব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is গ য স স কট ব দ?গ য স স কট ব দ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does গ য স স কট ব দ matter?গ য স স কট ব দ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.