Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

গরুর দুধ খেয়ে তিস্তা ব্যারেজে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

Published August 31, 2026 · Updated August 31, 2026 · By Susan Brown - banglabeacon.com

Foto : Susan Brown - banglabeacon.com

রংপুরে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কৃষি-পশুসম্পদ সফর: দুধের ঘানি থেকে তিস্তা ব্যারেজ

Banglabeacon.com – গর র দ ধ খ য় ত - বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও পশুসম্পদ খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত নিয়ে রংপুরে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। রোববার, ৩০ আগস্টের সকালে তিনি গঙ্গাচড়া উপজেলার একটি আধুনিক দুধ খামার ও স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী তেলের ঘানি পরিদর্শন করেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের দুগ্ধ খাতে উন্নত জেনেটিক্স ও পশুখাদ্য ব্যবস্থাপনার ভূমিকা বোঝা এবং স্থানীয় জনজীবনের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা।

প্যারাগন ডেইরি ফার্মে প্রযুক্তি পরিদর্শন

রাষ্ট্রদূতের সফরের প্রথম গন্তব্য ছিল গঙ্গাchড়া উপজেলার বেতগাঁও ইউনিয়নের খাপরিখাল এলাকায় অবস্থিত প্যারাগন ডেইরি ফার্ম। এই খামারে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা উন্নত জাতের মোট এক হাজার ২০০ গরু পালন করা হয়। বাংলাদেশে দুগ্ধ উৎপাদন খাতের বর্তমান চিত্র বিবেশ্য করলে এই সংখ্যা একটি উল্লেখযোগ্য আকারের প্রাণিসম্পদ সম্পদকে নির্দেশ করে। দেশে প্রতিদিনের দুধের চাহিদা ক্রমবর্ধমান হলেও স্থানীয় জাতের গরুর উৎপাদনশীলতা সীমিত, ফলে উন্নত জাতের গরুর প্রজনন ও পালন ব্যবস্থাপনায় বৈদেশিক প্রযুক্তির ভূমিকা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

খামারের ভেতরে প্রবেশ করে রাষ্ট্রদূত গাভীর দৈনন্দিন পরিচর্যা, পুষ্টি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা, দুধ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, এবং উন্নত জাতের গরুর প্রজনন কার্যক্রমের বিস্তারিত চিত্র দেখেন। প্যারাগন অ্যাগ্রো অ্যান্ড ডেইরি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান এবং এজিএম মেজবাহ উদ্দিনসহ খামারের অন্যান্য কর্মকর্তারা তাকে বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। পরিদর্শনের শেষে রাষ্ট্রদূত খামারেই উৎপাদিত তাজা দুধ পান করেন।

উন্নত জেনেটিক্স ও মানসম্মত পশুখাদ্য বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও রপ্তানিকারকদের জন্যও এসব কৃষিপণ্য নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি করছে।

এই মন্তব্যে দুই দিকের স্বার্থের ছবি স্পষ্ট: বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির প্রযুক্তিগত সমাধান, আর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কৃষি-পশুসম্পদ পণ্য রপ্তানির নতুন বাজার। বাংলাদেশে দুধের দৈনিক চাহিদা কয়েক কোটি লিটারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, কিন্তু স্থানীয় উৎপাদন তা পূরণে এখনো পিছিয়ে আছে। এই ঘাটতি পূরণে উন্নত জাতের গরুর প্রজনন, হাই-ইউল্ড মাতৃগাভীর ব্যবহার এবং আধুনিক ফিড ফর্মুলেশন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চন্দনের হাটে ঐতিহ্যবাহী তেলের ঘানি

দুধ খামারের পর রাষ্ট্রদূত একই উপজেলার বেতগাঁও ইউনিয়নের চন্দনের হাটে যান। সেখানে স্থানীয়ভাবে চলাচলকারী ঐতিহ্যবাহী তেলের ঘানি পরিদর্শন করেন। সরিষা থেকে তেল নিষ্কাশনের প্রাচীন পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি সরাসরি জানতে চান এবং ঘানিচালকদের সঙ্গে আলাপ করেন। বাংলাদেশে এখনো লক্ষাধিক পরিবারের রান্নার তেল সরিষা-ঘানি থেকে আসে; আধুনিক শিল্পায়নের পাশাপাশি এই ঐতিহ্যবাহী খাতের অস্তিত্ব স্থানীয় অর্থনীতি ও পুষ্টি নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। রাষ্ট্রদূতের এই পরিদর্শন কেবল কৌতূহল নয় — এটি স্থানীয় খাদ্য-প্রক্রিয়াকরণ খাতের বাস্তবতা বোঝার একটি চেষ্টা।

সফরসঙ্গী ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের উপস্থিতি

রাষ্ট্রদূতের এই সফরে তার স্ত্রী ডিয়ান ডাও, মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা নিকোল ক্লারিসা বেসনার্ড, সৈয়দ ফাইজুস সালেহিন এবং রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন। স্থানীয় পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল হাই সরকার, রংপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান, গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস সবুর এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান। এই বহুস্তরীয় উপস্থিতি দেখায় যে সফরটি কেবল দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক নয়, বরং স্থানীয় প্রশাসন ও খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠেছে।

তিস্তা ব্যারেজের উদ্দেশে রওনা

গঙ্গাচড়া সফর শেষে রাষ্ট্রদূত লালমনিরহাট জেলায় অবস্থিত তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শনের উদ্দেশে রওনা দেন। তিস্তা ব্যারেজ বাংলাদেশের বৃহত্তম জলসম্পদ প্রকল্পগুলির একটি, যা কৃষি সেচ, পানি সরবরাহ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। এই প্রকল্পের পরিদর্শন রাষ্ট্রদূতের সফরের জলসম্পদ ও অবকাঠামো মাত্রাকেও সামনে আনে।

মোটামুটি তিন ঘণ্টার এই সফরে দুধের ঘানি, ঐতিহ্যবাহী তেল-নিষ্কাশন এবং জলসম্পদ প্রকল্প — তিনটি ভিন্ন স্তরের কৃষি-অবকাঠামো বিষয় একদিনে সামনে এসেছে। এটি বোঝায় যে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ কৃষি সহযোগিতার আলোচনা কেবল বাণিজ্য চুক্তির সীমায় সীমাবদ্ধ নয়; এতে স্থানীয় পুষ্টি নিরাপত্তা, প্রাণিসম্পদ উৎপাদন এবং জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার বাস্তবিক প্রয়োজনও অন্তর্ভুক্ত।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is গর র দ ধ খ য় ত?

গর র দ ধ খ য় ত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does গর র দ ধ খ য় ত matter?

গর র দ ধ খ য় ত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.