Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

কেবল প্রেম-রোমান্সের নাটক-সিনেমা বন্ধের রিট হাইকোর্টে

Published September 14, 2026 · Updated September 14, 2026 · By Michael Brown - banglabeacon.com

Foto : Michael Brown - banglabeacon.com

প্রেম-রোমান্সনির্ভর নাটক ও সিনেমা বন্ধে হাইকোর্টে রিট

Banglabeacon.com – ক বল প র ম র ম - যুবসমাজের নৈতিক বিকাশ, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ এবং সামাজিক শৃঙ্খলার প্রশ্ন তুলে কেবল প্রেম ও রোমান্সকেন্দ্রিক নাটক-সিনেমা নির্মাণ ও প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি জমা দেন।

রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে। আবেদনকারীর বক্তব্য, বিনোদনমাধ্যমে নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্টের আধিক্য তরুণ প্রজন্মের চিন্তা, আচরণ ও অগ্রাধিকারে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।

আইনি পদক্ষেপের আগে নোটিশ

রিটকারী আইনজীবী জানান, এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে গত ২৭ আগস্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে কার্যকর প্রশাসনিক উদ্যোগ না পাওয়ায় আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ধারার কিছু নাটক ও চলচ্চিত্রে অতিরিক্ত রোমান্স, পরকীয়া, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং ধর্ষণের মতো সংবেদনশীল বিষয় এমনভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক বা আকর্ষণীয় হিসেবে প্রতিভাত হতে পারে। রিটে এ ধরনের উপস্থাপনার সামাজিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

যে প্রভাবের আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণার উল্লেখ করে আবেদনকারী দাবি করেছেন, নিয়ন্ত্রণহীন এ ধরনের বিনোদনমূলক কনটেন্ট যুবসমাজের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে নারীর প্রতি সহিংসতা এবং অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে।

রিটের যুক্তিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিনোদনের প্রতি অতিমাত্রায় আকৃষ্ট হয়ে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতি থেকে দূরে সরে যেতে পারে। আবেদনকারীর দৃষ্টিতে, গণমাধ্যমের বিষয়বস্তু কেবল বিনোদনের ক্ষেত্রেই সীমিত নয়; তা সমাজের মূল্যবোধ, পারিবারিক আলোচনা এবং তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গিকেও প্রভাবিত করতে সক্ষম।

সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা স্বীকৃত হলেও জননৈতিকতা ও শালীনতার স্বার্থে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ রয়েছে।

মো. মাহমুদুল হাসান মামুন রিটে এই সাংবিধানিক অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলেছেন, অপরাধে প্ররোচনা দিতে পারে এমন কনটেন্ট মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষার মধ্যে পড়ে না। তাঁর আবেদনে সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গও এসেছে, যেখানে জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যে আইনগুলোর উল্লেখ রয়েছে

রিট আবেদনে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩’-এর ৫(২) এবং ৮(১) ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬’-এর ১৯ ও ২০ ধারার কথাও বলা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, মূল্যবোধবিরোধী কনটেন্ট ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা আইনগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার শামিল।

চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া এবং টেলিভিশন সম্প্রচারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিবিধান জনস্বার্থ, শালীনতা ও কনটেন্টের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের তদারকির সঙ্গে সম্পর্কিত। রিটটি মূলত সেই তদারকির পরিধি ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

তবে আবেদনটি কেবল নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুবসমাজের সৃজনশীলতা, দেশপ্রেম এবং জ্ঞানচর্চাকে উৎসাহ দিতে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাভিত্তিক নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং প্রচার বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

বিনোদন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিতর্ক

নাটক ও সিনেমা সমাজের নানা বাস্তবতা, সম্পর্ক, সংকট এবং মানুষের আবেগকে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একই সঙ্গে এসব মাধ্যমে কোন বিষয় কতটা গুরুত্ব পাবে এবং কোন ধরনের উপস্থাপনা জনস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ—তা নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিনের। এই রিট সেই বিতর্ককে আইন ও নীতির কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এসেছে।

আবেদনে শিক্ষা, বিজ্ঞান, ইতিহাস এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সৃজনশীল কাজ বাড়ানোর যে দাবি জানানো হয়েছে, তা বিনোদনমাধ্যমে বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্য নিয়ে প্রশ্নও সামনে আনে। রিটের প্রার্থনাগুলো আদালত কীভাবে বিবেচনা করবেন, তা শুনানির পরই স্পষ্ট হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে রিটটির ওপর শুনানি হতে পারে। শুনানিতে রিটটি গ্রহণযোগ্য কি না, বিবাদীদের কোনো জবাব দিতে হবে কি না এবং চাওয়া নির্দেশনার বিষয়ে আদালত কী অবস্থান নেবেন—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ক বল প র ম র ম?

ক বল প র ম র ম is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ক বল প র ম র ম matter?

ক বল প র ম র ম matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.