Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

উল্লাপাড়ায় বন্ধ ৪৫ হাজার তাঁত, কর্মহীন এক লাখ শ্রমিক

Published September 18, 2026 · Updated September 18, 2026 · By Susan Brown - banglabeacon.com

Foto : Susan Brown - banglabeacon.com

বিদ্যুৎ সংকট ও ব্যয় বৃদ্ধিতে সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পে স্থবিরতা

Banglabeacon.com – উল ল প ড় য় বন ধ - সিরাজগঞ্জের গ্রামাঞ্চলে একসময় দিনের শুরু থেকে রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত তাঁতের শব্দ ছিল পরিচিত জীবনচিত্র। সেই শব্দের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল বহু পরিবারের আয়, স্থানীয় বাজারের ব্যস্ততা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির গতি। এখন সেই ছন্দ অনেক জায়গায় থেমে গেছে। বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও কাপড় বিক্রির দুর্বল অবস্থার কারণে জেলার ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প গভীর সংকটে পড়েছে।

জেলার নয়টি উপজেলা এবং সলঙ্গা অঞ্চলে প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০টি তাঁত রয়েছে। এর মধ্যে আনুমানিক ৪৫ হাজার তাঁত এখন আর উৎপাদনে নেই। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে শ্রমবাজারে; প্রায় ৯৬ হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। অনেক কারখানা স্থায়ীভাবে ভেঙে না পড়লেও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ অবস্থায় আছে। বিশেষ উৎসব বা ঈদের সময় কাপড়ের চাহিদা বাড়লে কিছু তাঁত অল্প সময়ের জন্য সচল হয়, কিন্তু মৌসুম শেষ হলে আবার বন্ধ হয়ে যায়।

উল্লাপাড়ায় উৎপাদন কমে অর্ধেকেরও নিচে

উল্লাপাড়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় উৎপাদন কমার চিত্র স্পষ্ট। বেলকুচিতে বন্ধ তাঁতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হলেও মোট তাঁতের তুলনায় অচল হওয়ার হার শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ সদরে বেশি। উল্লাপাড়ারও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক তাঁত উৎপাদনচক্র থেকে বেরিয়ে গেছে।

বালসাবাড়ি এলাকার তাঁতশ্রমিক আব্দুর হাদিসুরের অভিজ্ঞতায় পরিস্থিতির কঠিন রূপ ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, আগে যে পরিমাণ কাপড় তৈরি হতো, এখন তার অর্ধেকও উৎপাদন করা যাচ্ছে না। দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে তাঁত চালানো ব্যাহত হচ্ছে।

আগে যে পরিমাণ কাপড় উৎপাদন হতো এখন তার অর্ধেকও হচ্ছে না। দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রাখতে হচ্ছে। তাঁত মালিকদের অনেকে উৎপাদন ধরে রাখতে জেনারেটর ব্যবহার করছেন। তবে জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয় বাড়ায় এই বিকল্পও দীর্ঘ সময় চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে তাঁত বন্ধ থাকে, আর জেনারেটর চালালে লাভের বড় অংশ অতিরিক্ত খরচে চলে যায়।

বিক্রি কমেছে, বেড়েছে উৎপাদন ব্যয়

সুতা, রং এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে বাজারে দেশি কাপড়ের বিক্রি দুর্বল হওয়ায় মালিকেরা বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। উৎপাদনের খরচ বাড়লেও বিক্রির পরিমাণ সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে অনেকের জন্য তাঁত চালু রাখা লোকসানের কারণ হয়ে উঠেছে।

উল্লাপাড়ার এক মহাজন জানান, কয়েক বছর আগেও তাঁর কারখানার সপ্তাহের বিক্রি প্রায় এক লাখ টাকার কাছাকাছি ছিল। বর্তমানে সেটি অর্ধেকেরও কমে গেছে। দৈনিক জেনারেটর খরচ যোগ হওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে। আরেক কারখানামালিক লোকসান সামলাতে না পেরে অধিকাংশ তাঁত বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁর মতো অনেকেই নতুন বিনিয়োগের ঝুঁকি নিতে পারছেন না।

তাঁতশিল্পে উৎপাদন কমে যাওয়া শুধু কারখানার ভেতরের সমস্যা নয়; এর ঢেউ ছড়িয়ে পড়ছে সুতা সরবরাহ, রংয়ের কাজ, পরিবহন, পাইকারি বিক্রি এবং ছোট ব্যবসার ওপরও। একটি তাঁত বন্ধ হলে শ্রমিকের দৈনিক আয় কমে, মালিকের পুঁজি আটকে যায় এবং আশপাশের নানা অর্থনৈতিক কার্যক্রমও দুর্বল হয়।

শাহজাদপুর হাটেও কমেছে লেনদেন

দেশের বড় কাপড়ের বাজারগুলোর একটি শাহজাদপুর হাট দীর্ঘদিন ধরে তাঁতপণ্যের বেচাকেনার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। একসময় দেশের নানা জেলা থেকে পাইকাররা এখানে কাপড় কিনতে আসতেন। বিদেশি ক্রেতাদের উপস্থিতিও ছিল নিয়মিত। এখন ক্রেতা-বিক্রেতার সংখ্যা আগের তুলনায় কম, আর লেনদেনের পরিমাণও নেমে এসেছে।

হাটের কার্যক্রম কমে যাওয়ার অর্থ স্থানীয় তাঁতিদের পণ্যের জন্য বড় বাজারে পৌঁছানোর সুযোগও সংকুচিত হওয়া। তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পরিবারগুলোর জন্য এটি উদ্বেগের, কারণ উৎপাদন চালু থাকলেও বিক্রির নিশ্চয়তা না থাকলে কাজ ধরে রাখা সম্ভব হয় না।

বিকল্প পেশায় ঝুঁকছেন শ্রমিকেরা

দীর্ঘদিন ধরে তাঁতের ওপর নির্ভরশীল বহু শ্রমিক এখন অন্য কাজ খুঁজছেন। কেউ অটোরিকশা চালাচ্ছেন, কেউ কৃষিকাজে যুক্ত হয়েছেন, আবার কেউ হোটেল বা ছোট ব্যবসায় জীবিকার চেষ্টা করছেন। প্রায় চার দশক তাঁতের সঙ্গে যুক্ত থাকা এক শ্রমিকের ভাষায়, আগে এই কাজ থেকেই পরিবারের খরচ চলত, কিন্তু কাজের অভাবে এখন অন্য পথ খুঁজতে হচ্ছে।

আগে তাঁতের কাজ করেই সংসার চলত। এখন কাজ না থাকায় অন্য উপায় খুঁজতে হচ্ছে।

শ্রমিকদের পেশা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্মের আগ্রহও কমছে। তাঁতকে ভবিষ্যতের স্থিতিশীল পেশা হিসেবে দেখার আস্থা দুর্বল হলে দক্ষ কারিগরের ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বহু বছরের অভিজ্ঞতায় গড়ে ওঠা এই দক্ষতা হারিয়ে গেলে শিল্পকে আবার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা আরও কঠিন হবে।

দ্রুত সহায়তার দাবি

তাঁত মালিক ও শ্রমিকেরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, কাঁচামালের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং দেশি কাপড়ের বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ চেয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, সময়মতো সহায়তা না এলে বর্তমানে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা বহু তাঁত একসময় স্থায়ীভাবে অচল হয়ে যেতে পারে।

সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্প একসময় বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং জেলার অর্থনীতিকে গতিশীল রেখেছে। এখন শিল্পটি টিকে থাকার লড়াইয়ে রয়েছে। বিদ্যুৎ, উৎপাদন ব্যয় ও বাজার—এই তিন চাপ একসঙ্গে সামলানো না গেলে তাঁতের জনপদে পরিচিত সেই কর্মচাঞ্চল্য আরও ম্লান হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is উল ল প ড় য় বন ধ?

উল ল প ড় য় বন ধ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does উল ল প ড় য় বন ধ matter?

উল ল প ড় য় বন ধ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.