Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

আপাতত থামল কৃষক আন্দোলন, মোদীর আশ্বাসে কি গলবে কৃষকদের ক্ষোভ?

Published July 23, 2026 · Updated July 23, 2026 · By Robert Taylor - banglabeacon.com

Foto : Robert Taylor - banglabeacon.com

কৃষকদের দিল্লি অভিযান স্থগিত: মোদীর আশ্বাসে সাময়িক বিরতি নাকি ইতি?

Banglabeacon.com – আপ তত থ মল ক ষক আন - পাঞ্জাব ও হরিয়াণার সীমান্তে শম্ভু বর্ডারে কৃষকদের দিল্লি অভিযান সাময়িকভাবে থামানো হয়েছে। হাজার হাজার কৃষক যখন কিষান ঘাট হয়ে কিষান মহাপঞ্চায়েতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন, তখন হরিয়াণা পুলিশের কড়া ব্যারিকেড তাদের পথে বাধা দেয়। টানাপোড়েনের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং হরিয়াণা প্রশাসনের নির্দিষ্ট আশ্বাসে কৃষকরা অবস্থান তুলে নেন।

কৃষকদের মূল দাবি ছিল কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহানের সঙ্গে দ্রুত বৈঠক এবং ভারত-আমেরিকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সরাসরি আলোচনা। হরিয়াণা প্রশাসন ৮-১০ দিনের মধ্যে বৈঠকের আশ্বাস দেয় এবং আটক কৃষক নেতাদের মুক্তির বিষয়েও ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপরই আন্দোলনকারীরা দিল্লি মার্চ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন।

কৃষকদের আশঙ্কা ও সরকারের বক্তব্য

কৃষক সংগঠনগুলির বক্তব্য স্পষ্ট—এটি কোনও আত্মসমর্পণ নয়। বৈঠক না হলে কিংবা আলোচনায় সন্তোষজনক সমাধান না এলে আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকারে ফিরতে পারে। কৃষক নেতা সর্বণ সিংহ পন্ধের মতে, পরবর্তী বৈঠকেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলন বিস্তারের রূপরেখা ঠিক করা হবে।

আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভারত-আমেরিকা প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি। কৃষকদের আশঙ্কা, এই চুক্তি কার্যকর হলে আমেরিকা থেকে কম শুল্কে শস্য, ভুট্টা ও দুগ্ধজাত পণ্য ভারতে প্রবেশ করবে।

ফলে দেশীয় কৃষক, বিশেষ করে ছোট ও প্রান্তিক চাষিরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়বেন এবং কৃষি অর্থনীতি বড় ধাক্কা লাগতে পারে। অন্যদিকে কেন্দ্রের বক্তব্য, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করেই যে কোনও বাণিজ্য চুক্তি হবে এবং কৃষি খাতে কোনও আপস করা হবে না।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ পথ

রাজনৈতিক দিক থেকেও এই আন্দোলন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন, বিরোধীদের প্রতিবাদ এবং সংসদের বাইরে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক চাপের আবহে সরকার নতুন করে বৃহৎ কৃষক আন্দোলনের ঝুঁকি নিতে চায়নি বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। সেই কারণেই প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস, পরে প্রশাসনিক আলোচনার পথ—দুই দিক থেকেই পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার আপাতত সংঘাত এড়াতে সফল হলেও প্রকৃত পরীক্ষা হবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে। যদি কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূ না হয় বা কৃষকদের আশঙ্কা দূর করার মতো কোনও স্পষ্ট রূপরেখা না আসে, তাহলে দিল্লি অভিমুখে আরও বড় কৃষক মিছিল দেখা যেতে পারে।

অতীতের অভিজ্ঞতার কৃষক সংগঠনগুলির মধ্যে সরকারি আশ্বাস নিয়ে সংশয় প্রবল। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মত, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ভারতের রপ্তানির জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে, কিন্তু কৃষি খাতকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা না থাকলে ক্ষুদ্র কৃষকদের উদ্বেগ অমূলক নয়। ফলে সরকারের সামনে দ্বৈত চ্যালেঞ্জ—একদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, অন্যদিকে দেশের কৃষকদের আস্থা বজায় রাখা।

সব মিলিয়ে, শম্ভু সীমান্ত থেকে ট্র্যাক্টর আপাতত ফিরেছে ঠিকই, কিন্তু কৃষকদের দাবি এখনও অমীমাংসিত। তাই এই আন্দোলন শেষ হয়নি; বরং বলা যায়, সরকারকে দেওয়া সমস্যা শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের বৈঠক ও কেন্দ্রের অবস্থানই নির্ধারণ করবে—মোদীর আশ্বাসে কৃষকদের ক্ষোভ প্রশমিত হবে, নাকি আবারও দিল্লির পথে নামবে হাজার হাজার কৃষক।