আট বছর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, মিলছে না পদোন্নতি
কটিয়াদীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, ভারপ্রাপ্তদের ওপর বাড়তি চাপ
Banglabeacon.com – আট বছর ভ রপ র প ত - কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক—দুই পর্যায়েই বড় ধরনের জনবল ঘাটতি দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ১২১টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৫৫টি এবং সহকারী শিক্ষকের ৬৬টি পদ খালি থাকায় নিয়মিত পাঠদান থেকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে চাপ বাড়ছে।
প্রধান শিক্ষক না থাকা বিদ্যালয়গুলোতে অনেক সহকারী শিক্ষককে চলতি দায়িত্ব বা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। দায়িত্বটি শুধু নামের পরিবর্তন নয়; বিদ্যালয়ের কাগজপত্র, দাপ্তরিক যোগাযোগ, সভায় অংশগ্রহণ, নথি প্রস্তুত, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার কাজও তাদের সামলাতে হচ্ছে। ফলে শ্রেণিকক্ষের নির্ধারিত পাঠদানের সময় কমে যাচ্ছে।
কটিয়াদী পৌরসভাসহ উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের বহু বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন খালি আছে। একই সময়ে সহকারী শিক্ষকের স্বল্পতাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একজন শিক্ষক প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকলে তার ক্লাস নেওয়ার দায়িত্ব অন্য শিক্ষকদের ওপর পড়ে। কিন্তু শিক্ষকসংখ্যা সীমিত হওয়ায় অতিরিক্ত ক্লাস নিতে গিয়ে তাদের নিজস্ব পাঠ পরিকল্পনাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
দীর্ঘদিনের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব
চরপুখুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন প্রায় আট বছর ধরে এই দায়িত্ব পালন করছেন। এত দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থেকেও নিয়মিত পদোন্নতি না হওয়ায় শিক্ষক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী সমাধান আসছে না বলে তিনি মনে করেন।
“দীর্ঘদিন ধরে যারা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কাজ করছেন, তাদের পদোন্নতি দ্রুত সম্পন্ন হলে বিদ্যালয় পরিচালনায় স্বস্তি ফিরবে।”
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা সাধারণত একসঙ্গে দুই ধরনের ভূমিকা পালন করেন। একদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থেকে পাঠদান নিশ্চিত করতে হয়, অন্যদিকে শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন নির্দেশনা বাস্তবায়ন, তথ্য সংরক্ষণ এবং অফিসিয়াল কাজও করতে হয়। এ অবস্থায় দায়িত্বের ভার বাড়লেও পদ ও ক্ষমতার স্থায়ী সমন্বয় না থাকায় কাজের গতি কমে যেতে পারে।
ক্লাসের ধারাবাহিকতায় প্রভাব
শিমুলকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তারেক হোসেন জানান, প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় নিজের জন্য নির্ধারিত শ্রেণিতে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না। তখন অন্য শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে হয়।
“প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় নিজের নির্ধারিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। তখন অন্য শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করতে হয়।”
বিদ্যালয়ের প্রতিদিনের পাঠদান একটি নির্দিষ্ট রুটিন ও পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করে। কোনো শিক্ষককে হঠাৎ অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হলে শিক্ষার্থীদের বয়স, পাঠের অগ্রগতি এবং বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত মানিয়ে নিতে হয়। এই চাপ নিয়মিত হলে একটি বিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষাক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।
বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তন্ময় সাহা বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় তাকে নিয়মিত দায়িত্বের বাইরে অতিরিক্ত ক্লাসও নিতে হচ্ছে। এতে পাঠ পরিকল্পনা অনুযায়ী শিক্ষাদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
“প্রধান শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ক্লাসের বাইরে অতিরিক্ত ক্লাস নিতে গিয়ে পাঠ পরিকল্পনা অনুযায়ী পড়ালেখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।”
প্রাথমিক স্তরেই শিশুদের পড়া, লেখা, গণিতের মৌলিক ধারণা এবং স্কুলে নিয়মিত অংশগ্রহণের অভ্যাস গড়ে ওঠে। তাই এই পর্যায়ে শিক্ষকস্বল্পতা শুধু প্রশাসনিক সংকট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শিক্ষকদের সময় বণ্টন, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সহায়তা—সবকিছুই জনবল পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
শূন্য পদ পূরণের প্রত্যাশা
কটিয়াদী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানিয়েছেন, শূন্য পদের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদী।
শূন্য পদে নিয়মিত নিয়োগ হলে বিদ্যালয়গুলোতে দায়িত্বের বিভাজন আরও কার্যকর হতে পারে। প্রধান শিক্ষকরা প্রশাসনিক তদারকি ও নেতৃত্বের কাজ পরিচালনা করতে পারবেন, আর সহকারী শিক্ষকেরা পরিকল্পিতভাবে পাঠদানে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টি নিষ্পত্তি হলে দায়িত্ব পালনের কাঠামোও পরিষ্কার হবে।
কটিয়াদীর ১১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১২১টি খালি পদ একটি বিস্তৃত বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে একাধিক শিক্ষকপদ শূন্য থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে দৈনন্দিন কার্যক্রম সচল রাখতে হচ্ছে। শিক্ষকদের অতিরিক্ত শ্রমের ওপর নির্ভর করে এই ব্যবস্থা চললেও তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে না।
বিদ্যালয় পরিচালনায় গতি আনতে, শিক্ষকদের কাজের চাপ কমাতে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া ও পদোন্নতির উদ্যোগ জরুরি হয়ে উঠেছে। স্থায়ী জনবল নিশ্চিত হলে শিক্ষকরা প্রশাসনিক ব্যস্ততার চেয়ে শিক্ষার্থীদের শেখার প্রয়োজনেই আরও বেশি সময় দিতে পারবেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is আট বছর ভ রপ র প ত?আট বছর ভ রপ র প ত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does আট বছর ভ রপ র প ত matter?আট বছর ভ রপ র প ত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.