Bangladesh

প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন, ভ্যাট আইনে পরিবর্তনের অনুমোদন

Techtaranga.com_17906219341616

জাতিসংঘে একই পরিবারের তিন সদস্যের প্রতিনিধিত্বকে ঐতিহাসিক বলল মন্ত্রিসভা

Banglabeacon.com – প রধ নমন ত র ক মন – জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে একই পরিবারের তিন সদস্যের বক্তব্য দেওয়ার ঘটনাকে বিশ্বপরিসরে দেশের প্রতিনিধিত্বের একটি বিরল ও ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করেছে মন্ত্রিসভা। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের ৪০০ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২২তম বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। একই বৈঠকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়াও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

জাতিসংঘ সফরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব

গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মন্ত্রিসভার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ভাষণকে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ মর্যাদার একটি মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি অনন্য পারিবারিক ধারাবাহিকতা দৃশ্যমান হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগে তাঁর পিতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেন। পরে তাঁর মাতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর একই মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ভাষণ দেন। তিন ভিন্ন সময়ে একই পরিবারের এই তিন সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে উপস্থিতি ও বক্তব্যকে মন্ত্রিসভা ঐতিহাসিক নজির হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

“একই পরিবারের তিন সদস্য কর্তৃক বিশ্বমঞ্চে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করার এই ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করেছে মন্ত্রিসভা।”

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এমন একটি আন্তর্জাতিক পরিসর, যেখানে সদস্যরাষ্ট্রগুলো তাদের জাতীয় অগ্রাধিকার, উদ্বেগ, প্রত্যাশা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ভাবনা তুলে ধরে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুধু আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি নয়; দেশের অবস্থান ও জাতীয় অঙ্গীকারকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে উপস্থাপনেরও একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

চার দিনে ৩২টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচি

চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩২টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচি ও বৈঠকে অংশ নেন। সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি সাতটি উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য রাখেন। সফরসূচিতে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায়। এ সময় ১১টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে এবং ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়।

মন্ত্রিসভার অভিনন্দন প্রস্তাবে সফরটিকে সফল হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের জাতীয় অঙ্গীকার ও প্রত্যাশার বিষয়গুলো দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে। বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্র বিস্তৃত করার দিক থেকেও সফরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে প্রস্তাবে মূল্যায়ন করা হয়।

আন্তর্জাতিক সভা, রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক এবং সংস্থাগুলোর উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা—এই তিন ধরনের সম্পৃক্ততা একসঙ্গে একটি সফরের গুরুত্ব বাড়ায়। সাধারণ পরিষদের ভাষণ একটি দেশের সামগ্রিক অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে, আর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নির্দিষ্ট রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্র গড়ে দেয়। মন্ত্রিসভার মূল্যায়নে এই সফরে উভয় দিকই গুরুত্ব পেয়েছে।

ভ্যাট রিটার্নে আবার মাসভিত্তিক সময়সীমা

মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইনের সংশোধনীতে দাখিলপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উত্থাপিত খসড়ার আওতায় প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার বিদ্যমান ব্যবস্থা বাতিল করা হচ্ছে। পরিবর্তে প্রতিটি মাসের কর মেয়াদের জন্য পৃথক দাখিলপত্র পরের মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে জমা দেওয়ার নিয়ম পুনর্বহাল করা হয়েছে।

অর্থাৎ কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভ্যাট রিটার্ন জমার জন্য সাধারণভাবে ১৫ দিনের সময় পাওয়া যাবে। নির্ধারিত ১৫তম দিন সরকারি ছুটির মধ্যে পড়লে পরবর্তী কার্যদিবসে দাখিলপত্র জমা দেওয়া যাবে। এই বিধানটি সময়সীমা নির্ধারণে স্পষ্টতা আনবে এবং মাসিক ভিত্তিতে কর-সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করার একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করবে।

কারা পাবেন ২০ দিনের সুযোগ

সব প্রতিষ্ঠানের জন্য অবশ্য একই সময়সীমা প্রযোজ্য হচ্ছে না। সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান এবং শূন্য রিটার্ন জমাদাতাদের জন্য কিছুটা বাড়তি সময় রাখা হয়েছে। তারা কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ২০ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দিতে পারবেন।

শূন্য রিটার্ন বলতে এমন রিটার্নকে বোঝানো হয়, যেখানে সংশ্লিষ্ট কর মেয়াদে প্রদর্শনের জন্য করযোগ্য কার্যক্রম বা পরিশোধযোগ্য ভ্যাটের পরিমাণ শূন্য থাকে। সংশোধনীতে এই শ্রেণির দাখিলকারীদের জন্য আলাদা সময়সীমা নির্ধারণ করায় তাদের রিটার্ন-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াও স্বতন্ত্রভাবে বিবেচিত হয়েছে।

নতুন বিধান কার্যকর হলে ভ্যাট নিবন্ধিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য মাসিক সময়সূচি অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। সাধারণ দাখিলকারীদের পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখ এবং বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেণির জন্য ২০ দিনের সময়সীমা—দুই ধরনের সময়সীমাই সংশ্লিষ্টদের খেয়াল রাখতে হবে। সরকারি ছুটির ক্ষেত্রে পরবর্তী কার্যদিবসে জমা দেওয়ার সুযোগ থাকায় নির্ধারিত দিনের ব্যবহারিক জটিলতাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিসভার সদস্যরা এবং সংশ্লিষ্ট সচিবরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের সিদ্ধান্তে একদিকে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর সফর ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগত পরিবর্তনের পথও তৈরি হয়েছে।

Frequently Asked Questions

What is প রধ নমন ত র ক মন?

প রধ নমন ত র ক মন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does প রধ নমন ত র ক মন matter?

প রধ নমন ত র ক মন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *