News

বাসরঘর নয়, সরাসরি রণক্ষেত্রে যেতে ইরানে গণবিয়ে

30aa1544-6b2e-4104-bb6d-f45df9fe8d39-0

তেহরানে এক বিশাল বিয়ের সাংস্কৃতিক উৎসব

Banglabeacon.com – ব সরঘর নয় সর সর রণক ষ – যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে প্রতিদিন দেহ উৎসর্গ করার সম্মিলিত প্রতিশ্রুতিতে অংশ গ্রহণ করেছেন বেশ কয়েক শত দম্পতি। গত সোমবার (১৮ মে) রাতে তেহরানের ইমাম হোসেন চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই সমাবেশ, যেখানে শিয়া ধর্মের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতীকী ছবির নিচে বসে বেলুন-সাজানো মঞ্চে শত শত দম্পতি বিয়ে করেছেন। বাসরঘরে না গিয়ে সরাসরি রণক্ষেত্রে যাওয়ার জন্য দাবি করেছেন দম্পতিদের কর্মসূচি বাস্তবায়নের আগ্রহ।

সরকারের জাতীয় প্রচেষ্টার সামনে বিয়ের প্রতীক

ইরানি মিডিয়া সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পিছনে ছিল সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মসূচি যা স্থানীয় ভাষায় ‘জানফাদা’ নামে পরিচিত। এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধের প্রারম্ভের পর থেকে দেশজুড়ে প্রতিদিন এ ধরনের সমাবেশ আয়োজন করা হচ্ছে জনগণের মনোবল বাড়ানোর জন্য।

সাদা পোশাকে মেশিনগান বসানো গাড়ি চালাচ্ছেন দম্পতি

তেহরানের প্রধান স্থানে বিয়ের অনুষ্ঠানে দম্পতিদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়েছে। এক কনে বলেন, “দেশ যুদ্ধে রয়েছে বলেই কি বিয়ে বন্ধ থাকবে? আমাদের অধিকার আছে। তবে এ বিয়ের পর বরাতজারি নয়, আমরা অস্ত্র জারি করব।” এএফপি ছবিতে দেখা যায় বিয়ের বাহন হিসেবে মেশিনগান সজ্জিত গাড়ি চালাচ্ছেন দম্পতিরা।

যুদ্ধের উপস্থিতির স্পষ্ট চিত্র

উৎসবের মাঝেও যুদ্ধের উপস্থিতি অস্পষ্ট নয়। রণক্ষেত্রে যাওয়ার আগে বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে শুভাকাঙ্ক্ষীরা গোলাপ ফুল আর করতালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন। কিন্তু এই ঘটনার মাধ্যমে ইরানি জনগণের সমর্থন তৈরি করার চেষা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিশ্লেষকরা। গাড়ি হিসেবে যুদ্ধের যান ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেদিন রাতে বেলুন আর বন্দুকের ছবি দুটি ভিন্ন সত্যের মিলন ঘটিয়েছিল।

দেশ যুদ্ধে রয়েছে বলেই কি বিয়ে বন্ধ থাকবে? আমাদের অধিকার আছে। তবে এ বিয়ের পর বরাতজারি নয়, আমরা অস্ত্র জারি করব।

যুদ্ধের আগ্রহ সম্পর্কে প্রশ্ন ওঠছে, কিন্তু সরকার এ উদ্যোগটি জনমত গড়ার এক সাংস্কৃতিক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন সামরিক অভিযানের হুমকি দিতে থাকার কারণে এই সমাবেশ বিশেষ গুরুত্ব প্রাপ্তি পেয়েছে। একটি মঞ্চে রাতে নিয়োগ করা হয়েছে এই সাংস্কৃতিক আয়োজনটি।

সূত্র: এএফপি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *