স্মৃতির তীরে ফিরে আসা: সুফি আকবরের নতুন কবিতাসংকলন
Banglabeacon.com – ম ত ল র ত র চ – ২০২৫ সালের বইমেলায় পাঠকের হাতে পৌঁছেছে কবি সুফি আকবরের একটি নতুন কবিতাবই। বুনন প্রকাশনের ব্যানারে প্রকাশিত এই গ্রন্থের নাম ‘মাতাল রাতের চূর্ণকথা ও অন্যান্য’। প্রচ্ছদে কাজ করেছেন উবাইদুল্লাহ উমর। মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২০০ টাকা। মেলায় প্রথমবারের মতো পাঠকের সামনে এলেও, বইটির ভেতরে লুকিয়ে থাকা অনুভূতির গভীরতা একবারই পড়ে শেষ করার মতো নয়। বরং প্রতিটি পাতা উল্টানোর পরেই মনে হয়, আগের লাইনগুলো আবার পড়ার প্রয়োজন আছে।
পাঠকের সঙ্গে কবিতার অচেনা সম্পর্ক
এই সংকলন পড়ার সময় এক অদ্ভুত মানসিক অবস্থা তৈরি হয়। মনে হয়, কবিতার শব্দগুলো কোনো গোপন অনুভূতি বা অনুচ্চারিত কথা থেকেই জেগে উঠছে। পাঠক নিজের ভেতরের কোনো দাউকে চেনে যায় কবিতার লাইনে। এই চেনাশনানাই বইটিকে হাতের কাছে রাখতে বাধ্য করে। বারবার খোলা হয়, আবার খোলা হয়, আর প্রতিবার নতুন কিছু ধরা পড়ে।
“জানিনা কখন কোন দিন কোন স্থানে / দেখা হবে কথা হবে ফের / মনে নেই কতদিন দেখা নেই / কথা নেই আমাদের”
উপরের লাইনগুলো ‘স্মরণ’ কবিতার। এখানে স্মৃতি আর ক্ষরণ একই শব্দে মিশে যায়। প্রীতিতে একাকার থাকা, ফেলে আসার সময়ে মনের খালি জায়গা — সবকিছু এই কয়েক লাইনে ফ্রেমবন্দী হয়ে যায়। কবির ভেতরের বোধে জাগ্রত সেই অচেনা মুহূর্তগুলোকে কবিতাযাপন ধরে রাখে। ব্যক্তিসম্পর্কের কাছেও যেন এই কবিতা সমর্পিত। কবি লিখছেন, তার কবিতা বইয়ে বসে আছে, অথচ পাঠক হৃদয়ে হাহাকার করছে হাজার মাইল দূরত্বে দাঁড়িয়ে।
সহজ ভাষায় জটিল অনুভূতি
সুফি আকবরের কবিতাগুলো ভাষার দিক থেকে বেশ সহজসরল। কোনো জটিল শব্দজগতের আশ্রয় নেয় না। কিন্তু এই সহজতার পেছনে লুকিয়ে আছে স্মৃতি ও প্রীতির সম্মিলন। নানকোচিত গানের সুরেলা টান একেকটা কবিতায়। এই টানই পাঠককে আবার ফিরিয়ে আনে।
সম্পর্কের কথা বলার সময় কবি অতি সহজ ভাষায় বলেন:
“আমাদের সম্পর্ক হতে পারতো / সুঁই-সুতো সমবেত সঙ্গীত / …পরস্পর থাকতাম মুখোমুখি / মাখামাখি প্রণে”
কিন্তু এই মুখোমুখি প্রণ বাস্তবে ঝুলে থাকে বঙ্গাই মিটার গোসলের দোকানে, রশিদ আলীর গ্রামীণ ছোট্ট লজেন্স দোকানদারের বেচার দেয়ালে। স্বপ্ন ডুবতে থাকে সেই দোকানের আলোয়। বিবিধানের ঢেউয়ের তালে উঠে যায় যা উঠে যায়।
মায়ের প্রতিচ্ছবি: ক্যামেলিয়ার শাখায়
ডুবে থাকা স্বপ্নের ভেতরও কবির মনযোগ যায় বসার ভারে নতজানু মায়ের দিকে। সেখানে মাকে কবি কল্পনা করেন ক্যামেলিয়া ফুলের মাঝে। চৈত্রের ঝড়ে ক্যামেলিয়া ঝরে যায়, শুকিয়ে যায় শাখার শীর্ষে। এই শুকনো ফুলই হয়ে ওঠে মায়ের প্রতীক — নীরব, স্থির, অথচ অবিচ্ছেদ্য।
“ক্যামেলিয়া ফুলটা শুকিয়ে আছে / এখনো শাখা-প্রশাখার শীর্ষে / আমার মায়ের মত”
‘ভয়’ কবিতার এই তিন লাইনে মায়ের প্রতি আকর্ষণ আর হারানোর ভয় একই শব্দে মিশে যায়। ক্যামেলিয়ার শুকনো পাপড়ি মায়ের মুখের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে — একটি স্নিগ্ধ, অথচ ভীতিকর সমতা।
রাজনৈতিক স্যাটায়ারের ফুল-ছবি
নেতার চরিত্রকে কবি কাব্যসূষ্মায় অলংকৃত করেছেন। এত সুন্দর নান্দনিক বর্ণনা বিরল, নেতার জন্য। স্লোগানটি একমাত্র সত্য স্লোগান হিসেবে উপস্থিত:
“অমুক ভাইয়ের চরিত্র ফুলের মত পবিত্র”
ভাই যদিও খুশি হন স্লোগানে স্লোগানে, কিন্তু ফুল-ই জানে না তার আসল তথ্য — কত ভ্রমর তাকে খেয়ে গেছে। এই ছোট্ট ছবিতেই পুরো রাজনৈতিক স্যাটায়ারের ভার বহন করা হয়েছে।
দূরত্বের সৌন্দর্য
সংকলনের আরেকটি মাত্রা হলো দূরত্বের সৌন্দর্য। কবি ‘সৌন্দর্য’ কবিতায় বলেন:
“তুমি আমার গল্পে থাকো আমি থাকি লেখায় / তোমার আমার দূরত্বটা ভীষণ খারাপ দেখায়”
গল্প আর লেখার মাঝে, প্রেম আর প্রকাশের মাঝে সেই দূরত্ব — যা খারাপ দেখায়, অথচ ঠিক সেই খারাপ দেখানোই কবিতার শক্তি।
প্রকাশন তথ্য
সুফি আকবরের ‘মাতাল রাতের চূর্ণকথা ও অন্যান্য’ বুনন প্রকাশন থেকে প্রকাশিত। প্রচ্ছদে উবাইদুল্লাহ উমরের কাজ। মূল্য ২০০ টাকা। ২০২৫ সালের বইমেলায় পাঠকের হাতে পৌঁছেছে এই সংকলন। প্রেমের কথা, গেমের কথা, শ্যামের কথা, গানের কথা, প্রাণের কথা, দানের কথা, উদারের কথা, আদার কথা, সম্পর্কের কথা — সবকিছু এই বইয়ের ভেতরে। সকল পাঠকের হৃদয় জেগে উঠুক এই কবিতাবইয়ে। প্রতিটি শহরের পাঠককে আবার খোঁজার অনুরোধই শেষ কথা।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ম ত ল র ত র চ?
ম ত ল র ত র চ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ম ত ল র ত র চ matter?
ম ত ল র ত র চ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
