নতুন শব্দদূষণ বিধিমালা: কঠোর আইন, কিন্তু বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ
Banglabeacon.com – শব দদ ষণ – পরিবেশ অধিদপ্তর শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা জারির পর থেকে সরকার এই ক্ষেত্রে আরও কঠোর হওয়ার কথা বলছে। তবে এই নতুন বিধিমালায় পুরনো আইনের তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে শব্দের সহনীয় মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে এলাকাভেদে শব্দের সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
পুরনো ও নতুন বিধিমালায় শব্দের মাত্রার পার্থক্য
২০০৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় দিনে সর্বোচ্চ ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৪৫ ডেসিবেল শব্দমাত্রা নির্ধারিত ছিল। নীরব এলাকায় এই মাত্রা ছিল ৫০ ডেসিবেল। কিন্তু নতুন বিধিমালায় আবাসিক এলাকায় দিনে ৬০ ডেসিবেল, রাতে ৫০ ডেসিবেল নির্ধারণ করা হয়েছে। নীরব এলাকায় দিনে ৫০ ডেসিবেল, রাতে ৪০ ডেসিবেল শব্দমাত্রা রাখা হয়েছে। বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০ ডেসিবেল ও রাতে ৬০ ডেসিবেল অপরিবর্তিত রয়েছে।
মিশ্র এলাকায় দিনে ৬০ ডেসিবেল, রাতে ৫০ ডেসিবেল এবং শিল্প এলাকায় দিনে ৭৫ ডেসিবেল, রাতে ৭০ ডেসিবেল শব্দমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নীরব এলাকার সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আদালতের ১০০ মিটারের মধ্যে অঞ্চল হিসেবে।
শব্দ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা ও শাস্তি
বিধিমালায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কোনো উচ্চ শব্দ উৎপন্নকারী যন্ত্র বা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত শব্দমাত্রা অতিক্রম করা যাবে না। কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া পারিবারিক অনুষ্ঠান, সামাজিক আয়োজন বা জনসমাবেশে উচ্চ শব্দের সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে না। অনুমতি পেলেও শব্দমাত্রা ৯০ ডেসিবেলের বেশি এবং ব্যবহারের সময় ৫ ঘণ্টার বেশি হতে পারবে না।
গেল বছরের ২৫ নভেম্বর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় নতুন শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ জারি করে। এতে নির্ধারিত মান অতিক্রমকারী হর্ন, হাইড্রোলিক হর্ন ও মাল্টি টিউন হর্ন আমদানি, উৎপাদন, মজুদ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন বাজানো যাবে না। আবাসিক এলাকার শেষ সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত নির্মাণকাজে শব্দসৃষ্টিকারী যন্ত্রপাতি চালানো যাবে না। বিধি লঙ্ঘনের শাস্তিও কঠোর—সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয়দণ্ড।
পরিসংখ্যান ও গবেষণার ফলাফল
আইনের কঠোরতা থাকলেও বাস্তবতা অন্য চিত্র তুলে ধরে। স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০ সালের এক জরিপে রাজধানীর পল্টন বাসস্ট্যান্ডে শব্দের মাত্রা পাওয়া যায় ১৯২ দশমিক ২ ডেসিবেল, সচিবালয়ের গেটে ১২৮ দশমিক ২, জাতীয় প্রেস ক্লাবের পাশে ১২৪ দশমিক ২ ডেসিবেল। ২০২২ সালে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার শব্দের মাত্রা ১১৯ ডেসিবেল, যা বিশ্বের শীর্ষে।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেসের (বিইউএইচএস) ২০২২ সালের গবেষণা বলছে, প্রতি চারজনে একজন (২৫ শতাংশ) কানে কম শোনেন। রিকশাচালকদের মধ্যে এই হার প্রায় ৪২ শতাংশ।
বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথ
শব্দদূষণের নানা আইনি কাঠামো থাকলেও বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যেমন আইনে হাইড্রোলিক হর্ন নিষিদ্ধ, কিন্তু বাজারে তা পাওয়া যায়। তাহলে আমদানি হচ্ছে কীভাবে?
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল এই মন্তব্য করেছেন। পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ট্রাফিক সার্জেন্ট বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সামনে শব্দদূষণের ঘটনা ঘটলে তারা ঘটনাস্থলেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবেন। একই সঙ্গে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে।
তবে বাস্তবতা হলো—কঠোর আইন প্রয়োগে মানুষ নিজেই নিয়ম মেনে চলার বিষয় এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ, আইনের কঠোর প্রয়োগ ও জনসচেতনতা ছাড়া এই নীরব ঘাতকের থাবা থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। এমনটাই বলছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is শব দদ ষণ?
শব দদ ষণ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does শব দদ ষণ matter?
শব দদ ষণ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.