Bangladesh

নয়া উপনিবেশবাদ ও এডওয়ার্ড সাঈদের প্রাচ্যভাবনা | সংবাদ

0894f6db-95f7-4377-a3c0-855bcc79d338-0

এডওয়ার্ড সাঈদের ওরিয়েন্টালিজম: প্রাচ্যভাবনার এক যুগান্তকারী আলোচনা

জীবন ও শিক্ষাজীবন

Banglabeacon.com – নয় উপন ব শব দ ও এডওয় – এডওয়ার্ড উব্লিউ সাঈদ একাধারে সাহিত্য সমালোচক, রাজনৈতিক কর্মী এবং সাংস্কৃতিক চিন্তাবিদ হিসেবে পরিচিত। ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে এক এপিসকোপ্যালিয়ান খ্রিস্টান পরিবারে তাঁর জন্ম হয়। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর তিনি ও তাঁর পরিবার শরণার্থী হিসেবে কায়রোতে চলে যান। সেখানেই তাঁর শৈশব ও কৈশোর কাটে ভিক্টোরিয়া কলেজে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

তাঁর উদ্বাস্তু জীবনের অভিজ্ঞতা এবং পাশ্চাত্য কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকদের দৃষ্টিতে মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কে তৈরি বয়ান তাকে প্রতিবাদী করে তুলে। পশ্চিমা গণমাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ভুল চিত্রায়নের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন এবং বারবার দেখিয়েছেন কীভাবে সংবাদ ও জ্ঞানকে ব্যবহার করা হয় ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে।

ওরিয়েন্টালিজম গ্রন্থ ও এর তাৎপর্য

১৯৭৮ সালে তাঁর ‘ওরিয়েন্টালিজম’ গ্রন্থ প্রকাশিত হলে প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে হৈচৈ পড়ে যায়। এটি কেবলমাত্র একটি গ্রন্থ নয়, আধুনিক জ্ঞানতত্ত্ব, সাহিত্য ও রাজনীতির ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অবদান। এটি একদিকে উপনিবেশবাদী ক্ষমতার মুখোশ উন্মোচন করেছে এবং অন্যদিকে পশ্চিমাদের আত্মপরিচয় নির্মাণের সঙ্গে প্রাচ্যকে কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

জ্ঞানই হলো ক্ষমতা

সাঈদের মতে, ‘প্রাচ্য’ মূলত পশ্চিমা জ্ঞান ও কল্পনার এক নির্মাণ, যা বাস্তব প্রাচ্যের প্রতিফলন নয় বরং সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে গড়ে ওঠা একটি ধারণা মাত্র। আঠারো ও উনিশ শতকে ইউরোপসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রাচ্য সম্পর্কে যে ধারণা সৃষ্টি হয় এবং যে জ্ঞান সেসব দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান করা হতো তা সম্পূর্ণ কল্পনা প্রসূত।

প্রাচ্যতত্ত্বের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

প্রাচ্যতত্ত্ব এক দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া, যেখানে ইউরোপীয় শক্তিগুলো তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রাচ্যের ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ধর্ম ও সমাজকে বিশেষভাবে উপস্থাপন করেছে। এ উপস্থাপনা নিরপেক্ষ ছিলো না। একাডেমিক, ক্ষমতার কাঠামো ও আধিপত্য বিস্তারের স্বার্থে গড়ে ওঠা এক জ্ঞানতাত্ত্বিক ব্যবস্থাই ছিলো প্রাচ্যতত্ত্ব।

ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, অষ্টাদশ ও উনিশ শতকে ইউরোপীয় উপনিবেশবাদ যখন বিশ ^ ব্যাপী বিস্তৃত হচ্ছিল — তখনই প্রাচ্যতত্ত্ব একটি একাডেমিক শাস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। ব্রিটিশ ও ফরাসি গবেষকরা আরবি, ফার্সি, উর্দু, সংস্কৃতসহ বিভিন্ন ভাষা শেখেন এবং সেসব ভাষার সাহিত্য চর্চা ও গবেষণা করতে শুরু করেন। কিন্তু এই গবেষণা মূলত প্রাচ্যকে জানার নিরপেক্ষ প্রচেষ্টা ছিলো না। এটি ছিলো তাদের ঔপনিবেশিক শাসনকে আরও দীর্ঘায়িত ও কার্যকর করার অন্যতম কৌশল।

তাত্ত্বিক ভিত্তি ও প্রভাব

এডওয়ার্ড সাঈদ তাঁর ‘ওরিয়েন্টালিজম’ গ্রন্থে জ্ঞানতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করেন মিশেল ফুকোর ‘জ্ঞান ও ক্ষমতার সম্পর্ক’ এবং এন্তোনিও গ্রামসির ‘সাংস্কৃতিক আধিপত্য’ তত্ত্বকে ব্যবহার করে। তিনি দেখিয়েছেন প্রাচ্যতত্ত্ব আসলে এক ধরনের ডিসকোর্স বা বয়ান। এই জ্ঞানের ভেতর দিয়ে পশ্চিমারা উপনিবেশিত দেশে ক্ষমতাকে প্রতিষ্ঠিত করে।

গ্রন্থটিতে সাঈদ সাহিত্য, শিল্পকলা, ইতিহাস, নৃবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির ওপরও এর প্রভাব ব্যাখ্যা করে দেখিয়েছেন কীভাবে শেক্সপিয়র থেকে কিপলিং পর্যন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *