Bangladesh

৬ মাসে ৬৬ মামলা, তবুও যাদুকাটায় থামছে না অবৈধ ড্রেজার

Techtaranga.com_17845497556565

৬ মাসে ৬৬ মামলা, তবুও যাদুকাটার পাড় কাটা অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ছাড়া নেই

Banglabeacon.com – ৬ ম স ৬৬ ম মল তব – যাদুকাটা নদীর তীরে বালু কাটা বন্ধ করতে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন (পিপিএম) জানান যে গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬৬টি মামলা গঠন করা হয়েছে। এতে আসামি হয়েছে ৭২০ জন এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬০ জন। কিন্তু আইনের সীমাবদ্ধতা আর অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্যে কাজটি এখনও অব্যাহত থাকছে।

ইজারাদারের বেড়া ও পাহারা

আইনি জটিলতা তুলে ধরে পুলিশ সুপার বলেন, ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী এই অপরাধটি জামিনযোগ্য। ফলে আসামিরা দ্রুত জামিনে বের হয়ে আবারও একই অপরাধে লিপ্ত হয়।’ এতে সমস্যার সমাধানের জন্য টাস্কফোর্স ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অবৈধ নৌযানগুলো স্পটেই ধ্বংস করা প্রয়োজন বলে তিনি আরও জানান।

আমরা নিজস্ব খরচে নদীর পাড়ে বেড়া দিয়েছি এবং পাহারাদার বসিয়েছি। প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি যেন রাতের আঁধারে যারা ড্রেজার চালায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

যাদুকাটা ১ ও ২ নম্বর মহালের ইজারাদার শাহ রুবেল বলেন, ‘সরকারকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব দিয়ে আমরা নিয়ম মেনে মহাল ইজারা নিয়েছি। কিন্তু একটি চক্র অবৈধভাবে পাড় কেটে আমাদের ব্যবসার ভাবমূর্তি নষ্ট করছে এবং শিমুল বাগান ধ্বংস করছে।’

বালু কাটার প্রতিরোধ নিয়ে কথা

নদীতে সনাতন (ম্যানুয়াল) পদ্ধতিতে কর্মরত শ্রমিক রমজান আলী, বাসু মিয়া ও একলাস নূর বলেন, ‘তারা ইজারাদারের নির্ধারিত সীমানার ভেতর থেকে বালু তুলে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু একটি চক্র রাতের আঁধারে নিষিদ্ধ ড্রেজার ও বোমা মেশিন ব্যবহার করে নদীর তলদেশ ও পাড় কাটছে।’ তাদের অনুসারে এ কাজের ফলে নির্মাণাধীন সেতু এবং শিমুল বাগান ঝুঁকির মুখে পড়ছে আর সাধারণ শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল জানান, যাদুকাটা নদী একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত সম্পদ এবং পর্যটন কেন্দ্র। স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রথম প্রতিরোধটা আসতে হবে বলে তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষে এটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। ইজারাদারের বেড়া দেওয়ার উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *